অমিত শাহ এ রাজ্যে লড়াই করুন, তাকে হারানোর দায়িত্ব আমার : অভিষেক

এসবিবি: “অমিত শাহ এ রাজ্য থেকে লোকসভা ভোটে লড়াই করুন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মাঠে নামতে হবে না। তাঁকে হারানোর দায়িত্ব আমি নিজের কাঁধে নিলাম। তাঁকে আমরাই হারিয়ে দেব”। শুক্রবার শ্যামবাজারে 19 জানুয়ারি ব্রিগেডের প্রস্তুতি সভায় এভাবেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “অমিত শাহের ছাতি 72 ইঞ্চি। তাই আজ বলছেন, বাংলায় ক্ষমতায় আসবেন।
মমতার মতো মহান নেত্রীর কাছে হালে পানি পাবেন না”।

এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিবিআই অধিকর্তার পদ থেকে অলোক বর্মার অপসারণের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গতকাল অলোক বর্মা অধিকর্তার পদে ছিলেন। আজ ইস্তফা দিয়েছেন। বর্মা ইস্তফা দেওয়ার পর অমিত শাহ সাংবাদিক বৈঠক করার সাহস পেয়েছেন। বর্মা অধিকর্তা পদে থাকাকালীন সাংবাদিক বৈঠক করতে বুকের দম লাগে। সেই দম মোদি-শাহের নেই।
এরই পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন, বিজেপির নোটবন্দি , পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধি, এ সব কিছুর বিরুদ্ধে কিন্তু কংগ্রেস, সিপিএম মাঠে নামেনি। সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দিল্লিতে লড়াই করে দাম কমাতে বাধ্য করেছে মোদি সরকারকে।
প্রসঙ্গত, দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিজেপির দুদিনের জাতীয় কনভেনশনে শুক্রবার বাংলা দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অমিত শাহ। তার সেই হুমকিকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “2019 সালে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দেশের জনগণ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুঁজছে।”

এদিনের সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষও। মঞ্চে তাঁকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যুব সভাপতি বলেন, “বিজেপি সরকারের শেষের শুরু হয়েছে। যেখানে নির্বাচন হচ্ছে সেখানেই হারছে। কথায় আছে ঠেলায় না পড়লে বেড়াল গাছে ওঠে না। ওরা যত হেরেছে তত পেট্রল, ডিজ়েল ও রান্নার গ্যাসের দাম কমেছে। আগামীদিনে বিজেপি চলে গেলে GST-ও নাগালের মধ্যেই থাকবে। 2019 যেতে হবে না, 2018 সালেই নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের দল ভোকাট্টা হয়ে গেছে।” তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া দুই সাংসদ প্রসঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, দুটো আগাছাকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন। তৃণমূলের আবর্জনা ওদের কাছে রত্ন। আগামীদিনে ওই আবর্জনাদের মুক্ত করে, ধর্মনিরপেক্ষ ভারতবর্ষ গড়তে আমাদের শপথ নিতে হবে।

আগামী দিনে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পর অভিষেকের ওপরেই যে তাঁরা ভরসা রাখছেন, এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

আরও পড়ুন- রাজ্যের দুই সরকারি হাসপাতালে হয়রানির শিকার রোগীরা