রবিবারের বাবুইবাসা : 13.01.19

।। মল্লরাজা ও মদনমোহন বিগ্রহ ।।

সুনন্দ সান্যাল

বিষ্ণুপুরে তখন মল্ল রাজাদের শাসনকাল, 48 জন রাজার পর 1586 সালে আসে বীর হাম্বির শাসনকাল। দিল্লীর সিংহাসনে তখন আকবর। ধার্মিক ও শক্তিশালী বীর হাম্বির ছিলেন বাংলার 12 ভুঁইয়ার একজন।

3 জন বৈষ্ণব মোহান্ত বৃন্দাবন থেকে গৌড়ে আসছিলেন বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারের স্বার্থে। শ্রীনিবাস আচার্য্য, শ্যামানন্দ ও নরোত্তম ঠাকুর। এদের সাথে ছিলো গরুর গাড়ি ও রূপ গোস্বামী ও সনাতন গোস্বামী রচিত বেশ কিছু  বৈষ্ণব ধর্ম সম্পর্কিত মূল্যবান পুঁথি। মল্লভূম রাজ্যের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় বীর হাম্বিরের সৈন্যদল সেই গরুর গাড়ির ওপর আক্রমণ করেন, খবর ছিলো প্রচুর ধনরত্ন আসছে ওই গরুর গাড়ি করে, গন্তব্য দিল্লী। লুন্ঠিত দ্রব্য সামগ্রী নিয়ে সৈন্যদল পৌঁছায় বীর হাম্বির কাছে, বীর হাম্বি পুঁথিগুলো উল্টে পাল্টে দেখে অবাক ও বিভোর হয়ে পড়েন।

3 মোহান্তর কাছে পুঁথিগুলো ছিলো মূল্যবান সম্পদ, তাই সেগুলো ফিরে পাওয়ার আশা নিয়ে তারা বীর হাম্বির দ্বারস্হ হন। রাজা বীর হাম্বি শ্রীনিবাস আচার্য্যর পান্ডিত্য ও  সৌম্যকান্তি রূপ দেখে তাঁর সৈন্যদলের নেতারূপে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং শিষ্যত্ব গ্রহণ করে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষা নেন শ্রীনিবাস আচার্য্যর কাছে। রাজা মনস্হির করেন, বৃন্দাবনে গিয়ে মদনমোহনের বিগ্রহ নিয়ে এসে বিষ্ণুপুরে প্রতিষ্ঠা করবেন।

বৃন্দাবনে তখন প্রধান সেবাইত ছিলেন সুবলচন্দ্র দাস গোস্বামী। বৃন্দাবন যাওয়ার পথে বীর হাম্বির সাথে পরিচিত হন হরেকৃষ্ণপুরের জমিদারের সেরেস্তার কর্মচারী জমাদার রামচরণ সিং। দধিমুখার কাছে এক গভীর জঙ্গলে পথ হারিয়ে ফেলেন দুজনেই, ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় থমকে দাঁড়ালেন। সেই সময় এক সুন্দরী রমণী একটি মাটির সরা নিয়ে ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন, বীর হাম্বি ও রামচরণ সিং জলভিক্ষা করেন ওই রমণীর কাছে। কিন্তু রমণীর কাছে জল ছিলো না, ছিল দই, তাই ভাগ করে দুজনে খেয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হন। দুজনেই সিদ্ধান্ত নেন, ভবিষ্যতে এই পথে তৈরি করতে হবে মন্দির ও সাথে পানীয় জলের ব্যবস্হাও করতে হবে।

বৃন্দাবন থেকে ফিরে বীর হাম্বি এর ইচ্ছানুযায়ী দধিমুখাতে তৈরি হয় মদনমোহন মন্দির, প্রতিষ্ঠা হয় বৃন্দাবন থেকে আনা কষ্টিপাথরে তৈরি মদনমোহন বিগ্রহ। এখনও বাঁকুড়ার দধিমুখাতে নিয়মিত পূজিত হন মদনমোহন। ওদিকে রামচরণ সিং আর একটি বিগ্রহ নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেন নিজের গৃহে, কিন্তু বীর হাম্বি অনুরোধ করেন যে বিগ্রহটি যেন তাকে দেওয়া হয় তাহলে সেই বিগ্রহ তিনি বিষ্ণুপুরে মন্দির স্হাপন করে প্রতিষ্ঠা করবেন। রামচরণ সিং অনুরোধ অস্বীকার করেন। দধিমুখায় বিগ্রহ স্হাপনের পর ওই এলাকাটি ধন-সম্পদ, ঐশ্বর্য্যে ফুলে ফেঁপে ওঠে।

হরেকৃষ্ণপুরের রামচরণ সিং বয়সকালে অসুস্হ হয়ে পড়লে তিনি তার গৃহের মদনমোহন বিগ্রহটি নিয়ে চলে আসেন বীর হাম্বির ছেলে রঘুনাথের কাছে, রঘুনাথ বিগ্রহটি কুলদেবতা রূপে প্রতিষ্ঠা করেন এবং মল্লরাজাদের পদবি পরিবর্তিত হয়ে সিংহ পদবী হয়। পরে রাজা দুর্জন সিংহ অর্থাৎ রঘুনাথ সিংহের পুত্র 1694 খ্রীস্টাব্দে মদনমোহন মন্দির নির্মাণ করে বিগ্রহটি প্রতিষ্ঠা করেন।

গোঁড়া ধার্মিক মল্লরাজা গোপাল সিংহের আমলে (1712-1748) ভাস্কর পন্ডিতের নেতৃত্বে শুরু হয় বর্গিদের আক্রমণ। গোপাল সিংহের প্রতি বিষ্ণুপুরের প্রজাদের তীব্র ক্ষোভ ছিলো, কারণ তাঁর নির্দেশে সবাইকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও হরিনাম ও গোপাল পুজো করতে হতো, রাজ্য জুরে সবসময় উৎসব ও পুজোর আবহাওয়া লেগে থাকতো, রাজকার্য প্রায়ই থমকে থাকতো। বিষ্ণুপুরের ভৌগোলিক অবস্হান, প্রাক্তন মল্লরাজাদের তৈরি পরিখার কারণে বর্গিরা বাধাপ্রাপ্ত হয় কিন্তু  সীমান্তবর্তী এলাকায় তীব্র আক্রমণ চালাতে থাকে বর্গীরা। আক্রান্ত প্রজারা রাজা গোপাল সিংহের দ্বারস্হ হলে তিনি একটাই কথা বলতেন স্বয়ং গোপাল তোমাদের রক্ষা করবেন। কিন্তু বর্গীদের আক্রমণ আরও তীব্র হতে থাকে সবাই যখন রাজা গোপালের ওপর আস্হা ছেড়ে দিয়েছেন তখন রাজা গোপাল মদনমোহনের ছদ্মবেশ ধরে বীর হাম্বির আমলে তৈরি দলমাদল কামানের সাহায্যে আগুন গোলা ছুঁড়ে বর্গীদের অস্হায়ী তাঁবু ধ্বংস ও বর্গীদের নিহত করেন। পুরো বাংলায় প্রচলিত হয়ে যায় মল্লরাজাদের কূলদেবতা ও বিষ্ণুপুরের রক্ষক  স্বয়ং মদনমোহন দলমাদল কামান চালিয়ে রক্ষা করেছেন সবাইকে।

মল্লরাজাদের কূলদেবতা ও বিষ্ণুপুরের রক্ষক মদনমোহন বিগ্রহ শেষমেশ এসে পৌঁছায় কলকাতার বাগবাজারে। তখন সিংহাসনে মল্লরাজা চৈতন্য সিংহ, (1748-1801) রাজ পরিবারের ধারা অনুযায়ী মন্দির নির্মাণ ও বিলাস ব্যসন চলছিলো কিন্তু চৈতন্য সিংহের সময় তার মাত্রা দ্বিগুণ হয়। রাজ্যের কোষাগার শূণ্যের দিকে চলে যায়। মল্লরাজাকে অর্থ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন কলকাতা ও বাগবাজারের বিখ্যাত ব্যবসায়ী গোকুল মিত্র, বদলে চাইলেন প্রতিষ্ঠিত মদনমোহনের বিগ্রহ। রাজা চৈতন্য সিংহ রাজী হন। বিষ্ণুপুরের সাধারণ মানুষ ঘটনাটা জানতে পেরে চৈতন্য সিংহকে পূর্ণ সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন। কিছু বছরের মধ্যে সবার অক্লান্ত পরিশ্রমে রাজ্যের কোষাগার ভালো অবস্হায় ফিরে আসে। চৈতন্য সিংহ ঋণ অর্থ ফেরত ও মদনমোহন বিগ্রহ পুনরায় অধিগ্রহণের অনুরোধ করলেন গোকুল মিত্রকে। ধূর্ত ব্যবসায়ী গোকুল মিত্র,  রাজা চৈতন্য সিংহকে এক কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলেন।

গোকুল মিত্র কষ্টিপাথরে তৈরি বিগ্রহটির অনূরূপ আর একটি মূর্তি তৈরি করেন ও দুটি মূর্তি পাশাপাশি রেখে রাজাকে নির্দেশ দেন আসল মূর্তিটি চিহ্নিত করে নিয়ে যেতে, কেউ বাধা দেবে না। রাজা চৈতন্য সিংহ নকল মূর্তিটি চিহ্নিত করে বিষ্ণুপুরে নিয়ে যান ও পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেন। কিছুদিন পর মল্লরাজা নিজের ভূল বুঝতে পেরেও কিছু করতে না পেরে বিগ্রহের কথা গোপন করে যান। লোকমনে বিশ্বাস বজায় থাকে যে এটি সেই আসল মদনমোহনের বিগ্রহ।

 

****************************************************************************************************

।। রাঁধুনি ও ছড়াকার – দম পোলাও ।।

চিন্ময়ী দত্ত

খেয়ে পোলাও, মনটা দোলাও

সঙ্গে থাকুক চিকেনকারি |

 হাইটি তুলে, হেলে দুলে

 ঘুমিয়ে পড়ো তাড়াতাড়ি |

পোলাও ঘুম, লাগাও ধুম

ফটফটিয়ে মারো তুড়ি,

খাও দাও আর মোটা হও

যায় যেখানে যাক্ না ভুঁড়ি |

নিয়ে ভুঁড়ি না যায় নড়ি

কাজ হয় না তড়িঘড়ি,

 হাঁসফাসিয়ে যাই যে মরি,

এমন রান্না কেন যে করি ,

বুঝিতে না কিছুই পারি |

তবুও অবুঝ মন,   শোনে না বারণ

   রান্না করি তাই |

অতিথির মুখে হাসি,  বড়ো আমি ভালোবাসি

  ওগো শোনো বঙ্গবাসী

    এটাই আমার বাই |

****************************************************************************************************

।। উনিশ ইয়া বিশ ।।

পার্থসারথি গুহ

ঠারো যদি বিপ্লবের কথা বলে
উনিশ নিশ্চিতভাবে সহাবস্থানের ডাক দেয়
তাহলে কুড়ি কুড়ি কি দেবে ঝুড়ি ঝুড়ি ঝালমুড়ি
আশ্বাস না প্রলাপবাণী, তা বোঝা যাবে আস্বাদনে
সস্তার চমক না দীর্ঘস্থায়ী গিমিক, বোঝা যাবে বছর শেষের দিকে গড়ালে, ওই যে বলে না প্রথম ছমাস হনিমুন পিরিয়ড, তারপর বেজে উঠবে ঘন্টাধ্বনি
অবশ্যই ছুটির নয়, খারাপ কিছু ছেটে ফেলার সেই হবে শুরু, তাতে যতই তোমার বুক করুক দুরুদুরু
গণতন্ত্রের খাচার পাখি করবে উড়ু উড়ু।

****************************************************************************************************

ধূমপানে ঠোঁট কালো হয়ে গিয়েছে? জেনে নিন মুক্তির উপায়

 

“ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর”- বহুল ব্যবহৃত হলেও আসলে তা মেনে চলাটাই বড্ড কষ্টের। কিডনি, ফুসফুসের বিভিন্ন সমস্যার সত্ত্বেও এক বেলাও ধূমপান না করে চলতে পারেন না আজকের দিনের ছেলেমেয়েরা। আর এই ধূমপানের জন্য সবেথেকে বেশি প্রভাব পড়ে ঠোঁটে। দীর্ঘদিন ধূমপান করার ফলে ঠোঁট কালো হয়ে যাবার সমস্যা দেখা যায়। দেখতেও যেমন বিচ্ছিরি তেমনি এর থেকে অন্য রোগ বাসা বাঁধতে পারে। তাই ঘরোয়া উপায়ে দূর করুন ঠোঁটের কালো দাগ-
. লেবু-চিনি: লেবু ত্বকের উজ্জবলতা ফেরাতে কাজ দেয়, তার সঙ্গে ঠোঁটের কালো দাগ দূর করতেও। একটি পাতলা লেবুর ওপরে চিনি লাগিয়ে তা ঠোঁটের ওপর স্ক্রাবিং করুন। একদিন অন্তর কাজটি করবেন।
. লেবুর রস ও গ্লিসারিন: পাতিলেবুর রসের সঙ্গে গ্লিসারিন মিশিয়ে তা ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন আধ ঘন্টা। তারপরে ঠোঁট ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন এই কাজটি করবেন মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ফল পাবেন হাতে নাতে।
. চিনি ও মধু: মধুতে কিছুটা চিনি নিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। যখন দেখবেন চিনির দানা গুলো একটু ছোটো হয়ে গেছে তখন সেই মিশ্রণটি ঠোঁটে লাগিয়ে কিছুক্ষণ ঘষে নিন। তারপর ধুয়ে ফেলুন।
. টম্যাটোর রস: এক টুকরো টম্যাটোকে চিপে রস বের করে নিন। তারপর সেই রসটি ঠোঁটে লাগিয়ে নিন এবং কিছুক্ষণ রেখে দিন।
. টক দই: দইয়ে উপস্থিত ল্যাকটিক অ্যাসিড ঠোঁটের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন রাতে শোওয়ার সময় টক দই ঠোঁটে লাগিয়ে নিয়ে শুয়ে পড়ুন।

****************************************************************************************************