শনির কোপ থেকে বাঁচতে কেন হনুমান চালিশা দরকার?

এসবিবি : হনুমান শিশু অবস্থায় পালক পিতা পবন দেবতার কাছে আকাশ মার্গে বিচরণের শক্তি পেয়েছিল । একদিনের কথা। প্রভাতে পূর্ব গগনে উজ্জ্বল লাল দিনমণিকে দেখে হনুমান মহারাজ ভাবলেন সেটি নিশ্চয় মিষ্ট ফল। আকাশে ঝুলে আছে। অতএব ঐ ফল খেয়েই দেখতে হবে। ভাবা মাত্রই লম্ফ দিয়ে ছুটে গেলেন ধরতে। একেবারে ভূলোক ছাড়িয়ে সোজা ঐ সূর্য লোকে চলে গেলেন। সে সময় রাহুর মস্তক সূর্যকে গ্রাস করবার জন্য এগিয়ে যাচ্ছিল। সূর্য দেবতা জানতেন সৃষ্টির নিয়ম অনুসারে গ্রহণ হবে। হনুমানকে দেখে রাহু ও সূর্য উভয়ে চমকে গেল। হনুমান মহারাজ ঐ বাল্যকালেই রাহুর খণ্ডিত মস্তক তুলে বহুদূরে নিক্ষেপ করে সূর্যকে গিলতে অগ্রসর হলেন।

আরও পড়ুন –পৌষকে বিদায় জানাতে টুসু পরবে মাতোয়ারা ঝাড়গ্রামবাসী

রাহু গিয়ে স্বর্গে ইন্দ্রের কাছে বলিলোঃ-“হে দেবেন্দ্র! সৃষ্টির নিয়মে আমি চন্দ্র সূর্যকে গ্রাস করি। তবে আজ কোথা থেকে সেই উদ্ধত বালক এসে আমার কর্মে হস্তক্ষেপ করছে?”এইদিকে হনুমান সূর্য কে গ্রাস করিলেন। সমগ্র জগত প্রথমে ভাবল গ্রহণ উপস্থিত । কিন্তু বহু সময় পরেও সূর্য গগনে দেখা দিল না দেখে সকলে ভয়ভীত হইলেন। রুদ্রাবতার হনুমান সূর্য গ্রাস করেছেন। ইন্দ্র দেবতা বজ্র ধারন করে ঐরাবত স্কন্ধে আসিলেন। এসে বলিলেনঃ-“কপি বালক। সূর্য দেবকে উন্মুক্ত করে ফিরে যাও। অন্যত্থায় তোমাকে দণ্ড প্রদান করবো।” হনুমান তো কিছুতেই সূর্য দেবতাকে ছাড়বেন না। ইন্দ্রদেবতা তখন বজ্র অস্ত্র নিক্ষেপ করিলেন। বজ্র গিয়ে হনুমানের বুকে আঘাত হানলো ।

আরও পড়ুন –কেন্দ্রের প্রস্তাব ফেরালেন বিচারপতি সিক্রি

হনুমানের মুখ থেকে সূর্য বেরিয়ে এল। রক্তাক্ত অবস্থায় হনুমান আছড়ে পড়িলেন আরবল্লী পর্বতের উপরে। পবন দেবতা এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ইন্দ্রদেবতার কাছে গিয়ে বলিলেনঃ-“হে মহেন্দ্র। আপনি কেন একজন বালকের ওপর বজ্র অস্ত্র প্রয়োগ করিলেন?” ইন্দ্রদেবতা অনেক বোঝালেন যে, সূর্য দেবতাকে উন্মুক্ত করতেই এটা আমাকে করতে হয়েছে। পবন দেবতা বলিলেনঃ-“দেবরাজ। হনুমান আমার পালক পুত্র। এর প্রতিশোধ আমি নেবোই। আজ বিশ্ব সংসার দেখবে পবন দেবতার শক্তি কত। একজন পুত্রহারা পিতার শোকে এই জগত ধ্বংস হবে আজ।”

আরও পড়ুন –ভরা বাজারে ঢুকে পড়ল ট্রাক, মৃত 20

পবন দেবতা ক্রোধান্বিত হয়ে সমগ্র জগত থেকে উৎক্ষেপন বায়ু, অবক্ষেপন বায়ু, আকুঞ্চন বায়ু, গমন বায়ু, প্রসারণ বায়ু, প্রান বায়ু, অপান বায়ু, ব্যান বায়ু, সমান বায়ু, উদান বায়ু , নাগ বায়ু, কূর্ম বায়ু, কৃকর বায়ু, দেবদত্ত বায়ু, ধনঞ্জয় বায়ু হরণ করলেন। সমস্ত বায়ু বিশ্ব থেকে নিজের মধ্যে সংহরিত করিলেন পবন দেবতা। বিশ্ব সংসারে মহাপ্রলয় নেমে আসিল, জীব প্রানী কূল বিনষ্ট হতে লাগিল। ইন্দ্রদেবতা, প্রজাপতি ব্রহ্মা অনেক বোঝালেন। পবন দেবতা বলিলেনঃ-“হনুমানের প্রান দান করা হলেই এই প্রলয় স্তব্ধ হবে। অন্যত্থায় বিশ্ব নষ্ট করব।” ব্রহ্মা ইন্দ্রকে বললেনঃ-“হে দেবেন্দ্র। হনুমানের আবির্ভাব দেবশত্রু রাক্ষস দের বিনাশের জন্য। আর দেবতা হয়ে তুমি দেবতাদের মিত্রকে বধ করে দেব শত্রুদের কল্যাণ করিলে।

আরও পড়ুন –কুমারী মেয়েদের সিল করা বোতলের সঙ্গে তুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

তুমি নিজের ক্ষতি নিজেই আহ্বান করেছো।” ব্রহ্মা প্রান দান করতে রাজী হলে পবন দেবতা শান্ত হয়ে সমস্ত বায়ু ফিরিয়ে দিলেন। দেবতারা আরবল্লী পর্বতে গেলেন। দেখলেন হনুমান মরে নি। তবে ভয়ানক আহত হয়ে মূর্ছা হয়ে পরে আছেন। বজ্রের আঘাত খেয়েও জীবিত। ব্রহ্মা হনুমানের নব নাম দিলেন ‘বজ্রংবলী’। ব্রহ্মা বর দিলেনঃ- “হনুমান তুমি চারযুগে অমর হবে। কোনো অস্ত্রই তোমাকে রোধ করতে পারবে না।” ইন্দ্র বর দিলেনঃ- “বজ্রের ন্যায় বল পাবে।” পবন দিলেনঃ-“বায়ুর চেয়েও দ্রুতগামী হবে তুমি। বহু দূরের বাক্য তুমি জানতে পারবে।” অগ্নি বর দিলেনঃ-“আগুনে তোমার ক্ষতি হবে না।” বরুণ বর দিলেন -“জলের তলে তুমি অবাধে বিচরণ ও শ্বাস নিতে পারবে।”

আরও পড়ুন –আজকের দিনে

যম হনুমানকে গদা দিয়ে বলিলেনঃ-“এই গদা দিয়ে দুষ্ট দমন করো। তোমার বৃদ্ধির সাথে সাথে এই গদাও বৃদ্ধি পাবে।” সূর্য দেবতা হনুমানের লোমকূপে সমগ্র কিরণ দিলেন। ব্রহ্মা বলিলেনঃ-“যাবতীয় বিদ্যার জ্ঞাতা হবে তুমি।” বিশ্বকর্মা বর দিলেনঃ-“অযুত শক্তিমান হও।” নারদ বলিলেনঃ-“মহান হরি ভক্ত রূপে খ্যাত হবে।” বাসুকী নাগ বললেনঃ-“নাগেরা তোমার বশে থাকবে। তোমার নামে নাগ ভয় দূর হবে।” এভাবে বাকী দেবতারা নানান বর দিলেন। হনুমান এরপর সূর্য লোকে শিক্ষা প্রাপ্তির জন্য গেলেন।

#বালসময়রবিভক্ষিলিয়ো_তব।
#তীনহুঁলোকভয়ো_অঁধীয়ারো।
#তাহিসোঁত্রাসভয়োজগ_কো
#য়হসঙ্কটকাহুসোঁজাতনাটারো।।
#দেবনআনিকরীবিনতীতব
#ছাঁড়িদিয়োরবিকষ্টনিবারো।
#কোনহিঁজানতহৈজগমেঁ_কপি
#সংকটমোচননামতিহারো ।।

<((<>( সন্ত তুলসীদাস গোস্বামী )<>))>

আরও পড়ুন –জানেন কি কমোডের থেকে বেশি জীবাণু থাকে হাতের স্মার্টফোনে?

সূর্য দেবতা তাঁহাকে বৈদিক শাস্ত্রাদি জ্ঞান থেকে আরম্ভ করে যুদ্ধবিদ্যা সকল কিছুই প্রদান করিলেন। সূর্য দেবতার দ্বিতীয়া পত্নী ছায়াদেবীর সন্তান ছিলেন শণি। সে সময়ের কথা- শনিদেবের খুব ক্রোধী মেজাজ ছিলো। কোনো কারণে একদিন শনিদেবের সাথে হনুমানের বিবাদ সৃষ্টি হয়। অবশেষে দুজনের মধ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। যুদ্ধে শনিদেব দারুন ভাবে পরাজিত হয়। তখন সূর্য দেবতা এসে দুজনের মধ্যে মিটমাট করেন। উভয়ে বন্ধুত্ব স্বীকার করেন। শণিদেবতা তখন হনুমান কে বর প্রদান করেন। শনিদেব বলিলেনঃ-“হে অঞ্জনালাল মারুতি! আমি কথা দিচ্ছি যারা তোমাকে ভজনা করবে তাহাদিগের ওপর আমি কদাপি কুদৃষ্টি দেব না। তাহাদের সকল গ্রহ দোষ খণ্ডন হবে।

আরও পড়ুন –ফ্ল্যাটে ঢুকে কুখ্যাত দুষ্কৃতী খুন

নবগ্রহ তাহাদের ওপর সুপ্রসন্ন থাকবে। কলিকালে যাহারা তোমার বন্দনা করবে তাহাদিগের সকল গ্রহদোষ ও শণির দশা খণ্ডন হবে। তাহাদের নবগ্রহ আশীর্বাদ করবেন।” এই কারনে জ্যোতিষীরা “হনুমান চালিশা” পড়বার বিধান দেন। যাই হোক বিদ্যা শিক্ষা সমাপনের পর বালক হনুমান আবার মায়ের কোলে ফিরলেন । কিন্তু তাঁহার দুষ্টুমি কমলো না। যেমন নারকেল দিয়ে ঢিলানো বা পক্ক ফলমূল চৌর্য বা ধ্যানরত মুনি ঋষি দের তুলে একস্থান থেকে অন্যস্থানে নিয়ে যাওয়া, বিশাল বৃক্ষ তুলে উৎপাটন ইত্যাদি। কয়েকবার খেলাচ্ছল্লে কিছু রাক্ষস কেই বাল্যকালে যমালয়ে পাঠালেন। একবার মহর্ষি রুশি তপস্যায় বসেছিলেন একটি বটবৃক্ষের তলে।

আরও পড়ুন –বিষ ! এনআরএসে 16 কুকুরছানার দেহ নিয়ে তুলকালাম

হনুমান খেলাচ্ছল্লে ভূমি শুদ্ধ তাকে তুলে অন্যত্র রাখলেন। মহর্ষি রুশি অভিশাপ দিলেন- “তুমি তোমার অলৌকিক সকল দৈবশক্তি বিস্মৃত হও।” এই দেখে অনান্যরা বলল- “মহর্ষি এ আপনি কি করলেন ? হনুমান রূপে দেবাদিদেব অবতার গ্রহণ করেছেন রাক্ষস কূলের সংহারের জন্য। আপনি অভিশাপ দিয়ে তাঁর শক্তি ভুলিয়ে দিলেন?” মহর্ষি রুশি বললেন- “যথা সময়ে কেউ যখন হনুমানের শক্তির কথা স্মরণ করাবে, তখন হনুমানের সমস্ত শক্তির কথা স্মরণ আসবে।” হনুমান তখন শান্ত হলেন।