নিহতের স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণে শর্ত প্রয়োজন কি না? কুণাল ঘোষের কলম

        কুণাল ঘোষ

নিহত পুলিশ অফিসার অমিতাভ মালিকের স্ত্রী বিউটি বীমার টাকার জন্য আদালতের দ্বারস্থ। আদালত অমিতাভর বাবাকে বলেছেন অর্ধেক টাকা স্ত্রীকে দিতে।

আরও পড়ুন –সাংবাদিক খুনে যাবজ্জীবন সাজা রাম রহিমের

এপ্রসঙ্গে নজর রাখার
1) ক্ষতিপূরণজনিত চাকরি বিউটি মালিক পেয়েছেন।
2) বিউটি অমিতাভর মৃত্যুর পর থেকে বাপের বাড়িতে থাকেন।
3) দুই পরিবারের দূরত্বের জেরে অমিতাভর ভাইকেও চাকরি দিতে হয়েছে সরকারকে।
4) অমিতাভ যখন বীমা করেছিলেন, তখন তিনি অবিবাহিত। নমিনি তাই বাবা। এখন আইনি পত্নী হিসেবে কোর্ট বিউটিকে তার অর্ধেক দিতে বলেছে।

আরও পড়ুন –এনআরএস নার্সিং স্কুলের লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি মানেকা গান্ধীর

অমিতাভ মালিকের স্ত্রী এবং বাবা মায়ের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েও সবিনয় নিবেদন-

ছেলেকে কষ্ট করে মানুষ করার পর চিরতরে হারিয়েছেন বাবা মা। ক্ষতিপূরণের চাকরিটি পাওয়ার পর বিউটি কি অমিতাভর বাবা মাকে একটুও সাহায্য করেছিলেন?
একটি মৃত্যুতে দুটি চাকরি দিতে হল কেন?

আরও পড়ুন –ব্রিগেড পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বিউটির প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়েও একটি নীতিগত জিজ্ঞাসা:

এইসব ক্ষেত্রে স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণের চাকরি এবং অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শর্ত কি থাকা উচিত নয়?

স্ত্রী চাকরি পেলেন, টাকা পেলেন। হয়ত ছেলেটির বাবা মাকে দেখলেন না। তিনি আবার বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করলেন। এবং আবার কিছু ক্ষতিপূরণের অধিকারী হলেন। ছেলেটির বাবা মা বৃদ্ধ বয়সে কী করবেন? যদি স্ত্রী এই বাড়িতেই থাকেন এবং এঁদের দায়িত্ব নিয়ে বাকি জীবন কাটান, তাহলে তিনি সব পেতেই পারেন। পাওয়া উচিত। কারণ শ্বশুরবাড়ি বিধবা বধূকে দেখছে না, এমন উদাহরণও আছে। কিন্তু উল্টো হলে?

আরও পড়ুন –কর্মব্যস্ততার সকালে সেক্টর 5 এ আগুন

আমি এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মহিলার নতুন বিয়ে এবং নতুন করে জীবন শুরুর পক্ষে। কিন্তু সেক্ষেত্রে তখন আগের ক্ষতিপূরণবাবদ পাওয়া চাকরি বা অর্থ সংশ্লিষ্ট ছেলেটির পরিবারে ফিরে আসা উচিত নয় কি? মেয়েটির উপর দিয়ে ঝড় গেছে, এটা ঠিক। তবে নিহতের বাবা মায়ের যন্ত্রণাও বিবেচ্য। সারাজীবনের মত ক্ষতিপূরণের চাকরি ও টাকা স্ত্রীকে দেওয়ার শর্ত কেন থাকবে না যে তিনি নিহতের বাবা মাকে দেখবেন?

আরও পড়ুন –দুরন্ত এক্সপ্রেসে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব, লুঠ নগদ থেকে সোনা

বিষয়টি জটিল। কোনো উপসংহার টানছি না। একাধিক আলোচনা শুনলাম। মতবিনিময় হোক। বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তে আসুক প্রশাসন।