কুকুরছানা খুনে যাঁরা হত্যাকারীদের হয়ে পোঁ ধরছেন, কুণাল ঘোষের কলম

   কুণাল ঘোষ

কুকুরছানাদের হত্যাকান্ডে যারা প্রতিবাদ করেছেন এবং দোষীদের শাস্তি চেয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশ করেও নানা কটাক্ষ চলছে। নার্স, কিছু ডাক্তার, কিছু মানুষ পাল্টা নানা কথা বলছেন। পশুপ্রেমীরা নিরামিষাসী কি না, তা নিয়েও বিপ্লব চলছে।

আমার সবিনয় নিবেদন:

1) যেভাবে কুকুরছানাদের পিটিয়ে মারা হয়েছে, তা পৈশাচিক। ঘটনার প্রতিবাদ ন্যায্য।

আরও পড়ুন – লাথি মেরে গৃহবধূর ভ্রুণ নষ্ট করার অভিযোগ, গ্রেফতার 2

2) নার্স বা সিস্টাররা খারাপ, সবাই মন্দ কাজ করেন, কেউ সেবা করেন না ; এমন কথা কেউ বলেননি। শুধু ওই ঘটনার প্রতিবাদ হয়েছে। তার জবাবে এত সেবার জীবনী লেখার কারণ আছে কি?

3) নার্সরা প্রবল প্রতিবাদ করছেন, এখনই কুকুরমুক্ত হাসপাতাল চাই। ঠিক কথা। এই নজরকাড়া প্রতিবাদটা 16টা বাচ্চাকে পিটিয়ে মারার আগেও করা যেত। করা হয় নি কেন?

আরও পড়ুন –প্রাক্তন পাক ক্রিকেটাররা নাকি শৌচাগারেও কাজ করতে ইচ্ছুক!

4) হাসপাতাল যে কুকুর, বেড়াল ঘোরার জায়গা নয়; সেটা সঠিক কথা। ব্যর্থতা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের। কিন্তু তার সমাধান কি 16টা ছানাকে খুন করা, যারা এখনও কাউকে কামড়াবার বা ভয় দেখাবার জায়গাতেই আসে নি?

6) যদি ভয় এবং আক্রমণের কথা ওঠে, তাহলে রাস্তায় পাগল বা মানসিক ভারসাম্যহীন বা এগিয়ে আসা নোংরা পোশাকের ভিক্ষুক দেখলেও পিটিয়ে মারার তত্ত্ব চালু করতে চান আপনারা?

আরও পড়ুন –মহা-ব্রিগেডে নক্ষত্র সমাবেশ, কে কখন আসছেন

7) অনেকে অনেক বড় বড় কথা বলছেন। পশুপ্রেমীরা কুকুর নিয়ে যাক ইত্যাদি। এটুকু তো মানুন যে, নার্স বলতে যে ইমেজটা বোঝায় তার সঙ্গে এভাবে পিটিয়ে ছানাগুলোকে খুনটা মানায় না। যদি কোনো মাংসের দোকানের কসাই এভাবে এটা করত, এত হইচই হত না। এটা করেছে আপনার আমার ঘরের মেয়েরা, যারা সেবার কাজে আসার ব্রত নিচ্ছে। আমাদের ধারণায় এদের মন নরম। কিন্তু এই ঘটনা বলছে, সংশ্লিষ্ট মেয়েদের মন কতটা কঠিন বা নির্মম হলে ঐটুকু বাচ্চাগুলোকে পৈশাচিকভাবে পিটিয়ে মারতে পারে। এখানেই সমাজ নড়ে উঠছে। এটা বুঝেও অনেকে বুঝছেন না।

আরও পড়ুন –একটা করে কিডনিই সম্বল এই 26 জনের

8) হাসপাতাল, এমনকি রাস্তাতেও কুকুর বেড়ে গেলে সমস্যা। এটা প্রশাসন দেখুক। বিকল্প ব্যবস্থা হোক। কিন্তু মানুষের গলতিতে অন্যায্য জায়গায় কুকুর বাড়বে আর মানুষই পিটিয়ে মারবে, এটা কোনো সভ্য সমাজ হতে পারে না।

9) কুকুর অন্য অনেক প্রাণীর থেকে আলাদা। মানুষের বন্ধু। বহু ক্ষেত্রে কুকুর থাকা নিরাপদও বটে। এর ভারসাম্যটা ঠিক রাখলে কারুরই সমস্যা হয় না। এটা সরকার আর পুরসভাকে দেখতেই হবে।

আরও পড়ুন –ঝাড়খণ্ডে নদীর ধার থেকে উদ্ধার পূর্ণবয়স্ক হাতির দেহ

10) সর্বোপরি, দেড় মাসের ছানা। দেখলেই মায়া হয়। এগুলিকে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়ানো সহজ। এই নার্সরা দেড় মাসের ছানাগুলো ম্যানেজ করতে পারেন না; বিস্কুট দিয়ে ডেকে পিটিয়ে মারেন পাক্কা খুনের প্লটে; এই মানসিকতার কেউ মাঝরাতে অস্থির কোনো বৃদ্ধ বা বৃদ্ধা রোগীর অস্থির আচরণে বিরক্ত হয়ে মাথা গরম করে ফেলবেন না তো?

11) যদি আপনি কোনোদিন আপনার নিকটাত্মীয়কে হাসপাতালে রেখে আসার সময়ে শোনেন এই সেই নার্স, যে পিটিয়ে 16 টা কুকুরছানাকে খুন করেছে, আপনি নিশ্চিন্ত হয়ে ফিরবেন তো?

আরও পড়ুন –আনন্দ থেকে “রানিসাহেবা”, জেলজীবনের পঞ্চম বই কুণালের

নার্স অত্যন্ত জরুরি ও সম্মানের পেশা। তাদের কেউ ছোট করছে না। কিন্তু নার্সিং পড়ুয়া বলেই এই দুই হত্যাকারীর আচরণ বেশি আপত্তিকর ও অমানবিক লেগেছে।

প্রতিবাদটা তাই জোরালো। এর পাল্টা যারা পশুপ্রেমীদের আক্রমণ করছেন, তাঁরা আসল বিষয়টি এড়িয়ে একটি পৈশাচিক ঘটনাকে সমর্থন করছেন।

আরও পড়ুন –মহা-ব্রিগেডে যোগ দিতে শুক্রবারই শহরে পা রাখছেন বিজেপি-বিরোধী মহা-তারকারা