আয়োজন প্রায় শেষ, বাঙালির চতুর্দশ পার্বণ ‘বইমেলা’ সেজে উঠেছে

বিকাশ মন্ডল

কথায় আছে, “বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ।” কিন্তু উৎসব প্রিয় বাঙালি সংখ্যাটিকে তেরোতেই আর আটকে রাখেনি। সংখ্যার পর সংখ্যা জুড়েছে বঙ্গসংস্কৃতির উৎসব যাপনের তালিকায়। সেই তালিকার গুরুত্বপূর্ণ এবং ভিন্নধারার সংযোজন “বইমেলা” তথা কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তক মেলা। তাই কলকাতা বইমেলাকে বাঙালির “চতুর্দশ পার্বণ” বলাটা খুব একটা অতিরঞ্জিত আখ্যা নয়।

আরও পড়ুন- আটক না গ্রেফতার? শ্রীকান্ত মেহতাকে CGO-তে নিয়ে গেল CBI

আন্তর্জাতিক কলকাতা পুস্তকমেলা পৃথিবীর বৃহত্তম অবাণিজ্যিক বইমেলা এবং এশিয়ার বৃহত্তম বইমেলা। 1976-এ শুরু হয়ে 1984 সালেই “আন্তর্জাতিক” স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই বইমেলাই সহ্য করেছে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত। 1996-এর সেই বীভৎস অগ্নিকান্ড। পুড়ে গেছে কত সহস্র মলাট বন্দি স্বপ্ন-সংকল্প। অন্যদিকে ময়দান থেকে মুক্ত হয়ে যুবভারতী ঘুরে মিলন মেলা প্রাঙ্গণ অতিক্রম করে পরিযায়ী পাখির মত এখন সাঁতারে বেড়াচ্ছে লবণ হ্রদে অর্থাৎ সল্ট লেকের সেন্ট্রাল পার্কে। স্থান পরিবর্তিত হয়েছে বারবার, তবুও বাঙালি পাঠকের উৎসাহে, আবেগে কোনও চিড় ধরাতে পারেনি। গতবারের পরিসংখ্যান বলছে 2.5 মিলিয়ন পাঠকের উপস্থিতি এবং 22 কোটি অর্থমূল্যের কেনাবেচা। অথচ এটি একটি অবাণিজ্যিক মেলা যার উদ্দেশ্য ছিল, বিভিন্ন প্রকাশক তাদের নতুন নতুন বইয়ের সম্ভার নিয়ে বৃহৎসংখ্যক পাঠকের সামনে উপস্থিত হওয়া।

আরও পড়ুন- পাহাড়ে বৃষ্টি এবং তুষারপাতের পূর্বাভাস

43তম বইমেলা শুরু হচ্ছে আগামী 31 জানুয়ারি, 2019। চিরাচরিত জানুয়ারির শেষ বুধবারের বদলে এবছর বইমেলা শুরু হবে বৃহস্পতিবার। চলবে 11 ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর 12টা থেকে রাত 8টা পর্যন্ত। এবারেও বইমেলার শুভ সূচনা করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে এবছরের ‘ফোকাল থিম’ কান্ট্রি গুয়েতেমালার রাষ্ট্রদূত এবং বিশিষ্ট লেখক ইউডা মোরালেজ। মধ্য আমেরিকার ছোট্ট একটি দেশ গুয়েতেমালা। যাকে বলা হয় “মায়া সভ্যতার হৃদয়।” তবে ফোকাল থিম কান্ট্রির পাশাপাশি এবারে ভারতীয় কোনও  জনজাতির সাহিত্য- সংস্কৃতিকে তুলে ধরার পরিকল্পনা নিয়েছে গিল্ড। সেই পরিকল্পনা অনুসারে এবার থাকবে লেপচা জাতির সাহিত্য ও সংস্কৃতি। লেপচা জাতির উপর থাকবে বিশেষ স্টল। 2 ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় লেপচাদের নিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে মেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন- সন্তান হলে খরচ বাড়বে, গর্ভস্থ সন্তান নষ্টের অভিযোগ শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে

এ বারের বইমেলা সম্পর্কিত একাধিক তথ্য জানিয়েছে পাবলিশার্স ও বুক সেলার্স গিল্ড। এবছর থাকছে 600 বইয়ের স্টল। থাকবে 200টি লিটল ম্যাগাজিনের স্টল। সারা বিশ্বের 20টি দেশের প্রকাশকরা অংশ গ্রহণ করছেন। পাশাপাশি থাকছে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের প্রকাশনা সংস্থা। এবছর ইরান প্রথমবার কলকাতা বইমেলায় অংশ নিচ্ছে।বিধাননগরের করুনাময়ী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এই মেলায় থাকছে মোট 9টি ফটক। থিম-কান্ট্রির রেপ্লিকা -শোভিত দুটি মূল ফটক। রাজ্য পরিবহন দপ্তর জানিয়েছে, শিয়ালদহ, শ্যামবাজার, বিধাননগর, গড়িয়া, বেহালা ইত্যাদি এলাকা থেকে বইমেলামুখী 190টি বাস মেলা চলাকালীন যাতায়াত করবে।

আরও পড়ুন- পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের খণ্ডযুদ্ধে ধুন্ধুমার উত্তরপাড়া

মেলা কর্তৃপক্ষ এ বছর বাংলা সাহিত্যের সদ্য প্রয়াত তিন নক্ষত্রকে বিশেষভাবে স্মরণ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
তিন মহারথী সাহিত্যিক, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, দিব্যেন্দু পালিত এবং অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনটি বিশেষ প্যাভিলিয়ন তৈরি হচ্ছে। কবি পিনাকী ঠাকুরের স্মৃতিতে লিটিল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘পিনাকী ঠাকুর প্যাভিলিয়ন’। মহাত্মা গান্ধীর 150 জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এবছর তাঁর নামাঙ্কিত একটি প্যাভিলিয়নও থাকছে।

আরও পড়ুন- এবার IPL-এর আসরেও বচ্চনরা !

ডট কমের যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে এবার বইমেলা-সম্পর্কিত একটি Android ও ISO App এবং সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ ‘wi-fi জোন’ থাকছে বলে ঘোষণা করেছে গিল্ড। এই অ্যাপের সাহায্যে পাঠক তাঁর কাঙ্খিত স্টল মোবাইলের সাহায্যেই খুঁজে নিতে পারবেন। আর সঙ্গে তো থাকছেই সেই ‘যত খুঁজি তত হারিয়ে ফেলি”-র চিরাচরিত বইমেলা ম্যাপ!! এর পাশাপাশি থাকছে খাবারের স্টলও। বইয়ের পাশাপাশি ভুরিভোজে মিটবে  মনের স্বাদ।