বলিউড কুইন হতে পারলেন না ‘কুইন অফ ঝাঁসি’, জমল না মণিকর্নিকা

এসবিবি : মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন লক্ষ্মীবাঈ। 160 বছর আগে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ দিয়েছিলেন তিনি। নারীশক্তির ‘আইডল’ তিনি। তাঁর জীবনীকে স্ক্রিনে ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে দর্শককে হতাশ করল ‘মনিকর্নিকা: দ্য কুইন অফ ঝাঁসি’। ভিস্যুয়াল এফেক্টগুলিও অত্যন্ত খারাপ, সংলাপে কোনও ধার নেই।

আরও পড়ুন-টুথপেস্টের এই ব্যবহার গুলি জানেন?

মণিকর্নিকার পরিচালনার জন্য কৃষ্ণ জগলমুড়ির থেকেও বেশি ক্রেডিট নিয়েছেন কঙ্গনা। কিন্তু আদতে সিনেমাটি ভারতীয় ইতিহাসের এক বীরাঙ্গনাকে শুধুমাত্র মহিলা স্টান্টম্যানে পর্যবসিত করে ফেলেছে।
হঠাৎ একটি দৃশ্যে দেখা গিয়েছে রানি লক্ষ্মীবাঈ ভাঙা ভাঙা ইংরাজিও বলছেন। গোটা সিনেমা জুড়েই মাতৃভূমির জয়জয়কার চললেও তা এতটাই অপ্রাসঙ্গিকভাবে করা হয়েছে, যে তা বুঝতে দীর্ঘক্ষণ সিনেমাপ্রেমীদের মাথার চুল ছিঁড়তে হতে পারে।
আবার একটি দৃশ্যে দেখা গিয়েছে রানি চ্যাম্পিয়ন অ্যাথলিটের মতো দৌড়াচ্ছেন, ঝাঁপাচ্ছেন, লাফিয়ে পড়ছেন। দেশভক্তিকে সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যে এত বেশি রকমের গুলে খাওয়ানোর চেষ্টা হয়েছে যে বেশিরভাগ সময়েই পুরোটা অবিশ্বাস্য লেগেছে। আরেকটি দৃশ্যে রানির স্বামী মহারাজা গঙ্গাধর রাও নেওয়ালকরের ভূমিকায় যীশু সেনগুপ্তের হাতের কড়া (যা বশ্যতার চিহ্ন) নেড়েচেড়ে দেখছেন রানি। একটি নারী ক্ষমতায়ন বিষয়ক সিনেমায় নারীর আভূষণ কেন তার বশ্যতার প্রতীক হবে তা বোধগম্য হল না।

আরও পড়ুন-সিনেমার স্টাইলে প্রতিরোধের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলেন শ্রীকান্ত মোহতা

 

ভাগ্যিস শুরুতেই সিনেমাটি বলে দিয়েছিল তারা কোনও ঐতিহাসিক ঘটনার পুনর্নিমাণ করছে না। শুধুমাত্র সিনেমার শুরুতে অমিতাভ বচ্চনের গলায় ব্রিটিশদের হিংসা ও অত্যাচারে পবিত্র ভূমির দুরবস্থার অংশটুকু শুনতে ভালো লাগে।
রানী লক্ষ্মীবাঈয়ের একমাত্র সন্তানের জন্ম ও মৃত্যু, স্বামীর মৃত্যুর দৃশ্যগুলি বেশ দীর্ঘ। প্রথম দেখা যায় 14 বছরের লক্ষ্মীবাঈকে, যিনি একটি ছাগলকে বাঘের খাদ্য হওয়ার হাত থেকে বাঁচান, তারপরেই একটি গরুকে এক ব্রিটিশের মধ্যাহ্নভোজ হওয়ার হাত থেকেও রক্ষা করেন।তাই প্রশ্ন উঠেছে গরু বাঁচাও বার্তা ছাড়া কি সিনেমা এখন একেবারেই সম্ভব নয়!
বিভিন্ন দৃশ্যে প্রয়োজন মতো কঙ্গনা হেসেছেন, কেঁদেছেন, চেঁচিয়েছেন, ভেঙে পড়েছেন ফের উঠেও দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু সিনেমাটিকে টেনে তুলতে পারেননি। বিশেষ করে যুদ্ধের দৃশ্যগুলো বড়ই ক্লান্তিকর।

আরও পড়ুন-শাট ডাউন উঠতে চলেছে আমেরিকায়

মহম্মদ গৌস খানের চরিত্র ড্যানি ডেনজংপা, তাঁতিয়া টোপির চরিত্রে অতুল কুলকার্নি এবং বিশ্বাসঘাতকের চরিত্রে জীশান আইয়ুব নজরে পড়লেও তাদের বিশেষ কিছু করার সুযোগ ছিল না।
সিনেমাতে ব্রিটিশ মাত্রেই খারাপ। সুতরাং তাদের চরিত্রগুলির সুযোগ আরও কম ছিল। মণিকর্নিকা আসলে কঙ্গনার সিনেমা। একটা ঐতিহাসিক ঘটনাকে একার কাঁধে চাপিয়ে টেনে তোলার চেষ্টা। তিনি চেষ্টার কসুর করেননি ঠিকই, তবে ফল আশাব্যাঞ্জক নয়। আসলে মণিকর্নিকা অনেক চেষ্টা করেও একটি অন্তঃসারশূন্য সিনেমা হয়েই রয়ে গেল। বলিউড কুইন কোনওভাবেই পর্দায় “দ্য কুইন অফ ঝাঁসি” হয়ে উঠতে পারলেন না।

আরও পড়ুন-গোয়ার সমুদ্রতটে প্রকাশ্যে মদ্যপান করলে 10 হাজার টাকা জরিমানা