লোকসভা ভোটে কং-জোট, না একলা চলো, ঠিক করতে ফের সিপিএমের পলিটব্যুরো

এসবিবি : লোকসভা ভোটে একলাই চলবো, নাকি হাত ধরবো কংগ্রেসের ?

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সিপিএম আগামী 8 এবং 9 ফেব্রুয়ারি, দু’দিনের পলিটব্যুরো বৈঠক ডেকে দিয়েছে। যথারীতি পলিটব্যুরোর পরেই কোনও এক সময়ে হবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিং। তবে পলিটব্যুরোর সিদ্ধান্ত কী হয়, তা দেখার পরেই কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিং চূড়ান্ত হবে।

আরও পড়ুন- ED-র তলবপবন রুইয়াকে, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

এ কথা আর নতুন নয়, দলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাতের অনুগামী সিপিএমের কট্টরপন্থী কেরল-লবি প্রথম থেকেই কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে লোকসভা ভোটে যাওয়ার বিরোধী। অন্যদিকে, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির অনুগামী ‘জোটপন্থী’ আলিমুদ্দিনের সাফ কথা, বাম ঐক্য সুদৃঢ় করার কথা যতই বলা হোক, এই মুহূর্তের রাজ্য বা জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেখানে দাঁড়িয়ে, সেখানে বামপন্থীদের একার পক্ষে বিজেপির সঙ্গে লড়াই করা অসম্ভব। তাই গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির মোড়কে কংগ্রেসের হাত ধরলেই বামেদের শক্তিবৃদ্ধি হতে পারে।

আরও পড়ুন- সিনেমা হল হাউস ফুল করে কী করলেন সোম মন্ডল?

পরস্পরের যুক্তি যখন এমনই, তখন আগেই এটা বলে দেওয়া যায়, এই ইস্যুতে ফের একবার পলিটব্যুরো বৈঠকে ফাটাফাটি হতে চলেছে সিপিএমের অন্দরে। তবে এবারের পিবি-তে কিছুটা ব্যাকফুটেই থাকবে ইয়েচুরি তথা বঙ্গ-শিবির। তৃণমূল কংগ্রেসের ব্রিগেড সমাবেশের সাফল্য কামনা করে যেভাবে  সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধী বার্তা পাঠিয়েছেন এবং যেভাবে AICC-প্রতিনিধিরা মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন, তাতে নিশ্চিতভাবেই অস্বস্তিতে সিপিএমের জোটপন্থী বঙ্গ-শিবির।

আরও পড়ুন- প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজ প্রয়াত

কেন্দ্রে বিজেপিকে সরিয়ে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের দাবি করার পাশাপাশি সীতারাম ইয়েচুরি বারবার বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল-হটাও ইস্যুও তাদের ঘোষিত নীতি। সেই তৃণমূলের ব্রিগেডে কংগ্রেসের হাজিরা নিয়ে কেরল-লবি চেপে ধরলে, পালাবার রাস্তা না-ও পেতে পারেন ইয়েচুরি এবং তাঁর অনুগামী বঙ্গ-নেতারা।
এই বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই সিপিএমের এবারের পলিটব্যুরো বৈঠকের মুখ্য আলোচনা যে হবে তাতে কোনও সন্দেহই নেই।

আরও পড়ুন- এ বারের বইমেলায় গোটা একটা লাইব্রেরি উপহার পেতে পারেন বই-ক্রেতারা

তবে একটা পথ অবশ্য খোলা থাকবে যদি আগামী 3 ফেব্রুয়ারির ব্রিগেড উপচে দিতে পারে আলিমুদ্দিন। মাঠ ভরলে ইয়েচুরিরা, কারাত-লবিকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে পারবেন, এ বঙ্গে দলের সাংগঠনিক শক্তি কতটা রয়েছে এবং এই শক্তি জোটেরই পক্ষে।