356-এর সুপারিশ করেই কি রাজভবন থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে গোপন রিপোর্ট গেল, জল্পনা তুঙ্গে

এসবিবি : পশ্চিমবঙ্গে কি 356 ধারা প্রয়োগ করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে চলেছে?
রাজ্যপাল কি এমন সুপারিশ করেই গোপন রিপোর্ট পাঠালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে ?

রবিবার সারদা-কাণ্ডের তদন্তে কলকাতার নগরপালের বাড়িতে CBI অফিসাররা গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সরকারি কাজে CBI অফিসাররা সেখানে পৌঁছেই কলকাতা পুলিশের একদল পদস্থ অফিসারের হাতে নিগৃহীত হন। পাশাপাশি, CGO কমপ্লেক্স, নিজাম প্যালেস ঘেরাও করে কলকাতা পুলিশ। CBI-এর জয়েন্ট ডিরেক্টর পঙ্কজ শ্রীবাস্তবকেও ঘরবন্দি করে ফেলা হয়। সেই পরিস্থিতিতে তখনই কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবিতে CBI প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের নির্দেশে সঙ্গে সঙ্গেই CGO কমপ্লেক্স , নিজাম প্যালেসের সামনে নামে আধাসেনা। এরপর থানা থেকে অনেক রাতে ছাড়া হয় CBI অফিসারদের। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার রাতেই শুরু হয় কেন্দ্র-রাজ্য চূড়ান্ত সংঘাত। কলকাতা পুলিস বনাম CBI লড়াইয়ে তোলপাড় রাজ্য থেকে জাতীয় রাজনীতি।

আরও পড়ুন –পুলিশের এত প্রশংসা, বাম জমানায় বোঝেন নি মমতা ?

এদিকে, নির্ভরযোগ্য সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সোমবার সকালেই রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠিকে ফোন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। ফোনে রবিবারের ঘটনায় রাজ্যপালের কাছে উদ্বেগপ্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। CBI অফিসারদের সঙ্গে কলকাতা পুলিশের একদল অফিসারের ধস্তাধস্তি, CBI অফিসারদের আটক করা, ঘেরাও করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাজনাথ। এই ঘটনাকে “অভূতপূর্ব ও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক” বলে রাজ্যপালকে ফোনে উল্লেখও করেন রাজনাথ সিং। রাজ্যপালকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কলকাতার সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং একইসঙ্গে রাজনাথ সিং জরুরিভিত্তিতে রাজ্যপালকে রিপোর্ট পাঠাতে বলেন।

আরও পড়ুন –এখন অবরোধ আর রাস্তায় মঞ্চ কী করে হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা পেয়েই তত্পর হয়ে ওঠেন রাজ্যপাল। সেন্ট্রাল আইবি-র অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর-সহ অন্যান্য একাধিক কেন্দ্রীয় এজেন্সির শীর্ষস্তরের কর্তাদের রাজভবনে ডেকে পাঠান রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি। দীর্ঘ আলোচনার পর দ্রুততার সঙ্গে প্রস্তুত হয় সেই রিপোর্ট। সূত্রের খবর, রাজভবন থেকে ই-মেল মারফত একটু আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে সেই গোপন রিপোর্ট। খুব স্বাভাবিকভাবেই রিপোর্টে কী আছে, তা জানা যায়নি, জানা সম্ভবও নয়। তবে রাজ্যপাল গুরুতর কিছু সুপারিশ করেছেন বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। কারণ, জানা গিয়েছে, ওই রিপোর্ট দিল্লি পৌঁছানোর পরেই সন্ধ্যায় জরুরিভিত্তিতে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠিকেও দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রবিবারের ঘটনার রিপোর্ট এবং ভিডিও-ফুটেজ CBI ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেই রিপোর্টেও কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু অভিযোগ CBI এনেছে। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে সোমবার সকালেই রাজ্যের কাছে তিন শীর্ষ IPS কর্তার বিরুদ্ধেও রিপোর্ট তলব করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

আরও পড়ুন –নেতাদের বেলায় চুপ, আইপিএসে ধর্ণা কেন মমতার? প্রশ্ন রবিশংকরের

পরপর এত দ্রুততায় কেন্দ্রীয়স্তরে বেশ কিছু পদক্ষেপের পর থেকেই সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাজনৈতিক মহলে ঘুরছে একটিই প্রশ্ন,

তাহলে কী রাজভবন থেকে খানিক আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে যে রিপোর্ট মেল করা হয়েছে, সেখানে রাষ্ট্রপতির শাসনেরই সুপারিশ করা হয়েছে ?

নাহলে, ওই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই সন্ধ্যায় জরুরিভিত্তিতে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠিকে দিল্লিতে কেন ডেকে পাঠানো হলো ?