বিজয়ের বাগান-অটো, কুণাল ঘোষের কলম

     কুণাল ঘোষ

বাগান-অটো।
সকালে এক মৃত্যুসংবাদজনিত কারণে জে এন রায় হাসপাতালে গেছিলাম। কিছুক্ষণ ওখানে ছিলাম। বেরোনর সময় গেটে দেখি এই বাগান-অটো। আলাপ করে আমি মুগ্ধ !

অটোর মাথায় বাগান। মাটি, ঘাস, গাছ, পাতাবাহার, ফুল। রীতিমতো যত্ন করা সবুজ। তার মধ্যে ফুটবলও।

আরও পড়ুন –শিক্ষক-বদলি নিয়ে চাপানউতোর তুঙ্গে

চালক বিজয় পাল। কথা বললাম। সবুজের ভক্ত। বাগান করেছেন। তিনি মালিক নন। কিন্তু মালিক আপত্তি করেননি।
বিজয়বাবু মাঝবয়সী। বুঝলাম দারুণ মুডি। কখনও এলোমেলো পোশাকে অটো চালান। কখনও স্যুট টাই পরে। কখনও “ইয়ারানা” পোশাকে, সারা গায়ে টুনি জ্বলে। বচ্চনসাহেবের ভক্ত বলে কথা !

জানলাম বাড়ি গিরিডিতে। বাবা বিজ্ঞানের শিক্ষক। বিজয়ের কথায়,” প্রবল মার খেতাম। তারপর ভয়ে পালিয়ে কলকাতা চলে আসি। তারপর থেকে অটো চালাচ্ছি। ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বছর হয়ে গেল।” বিয়ে করেননি। বাড়িতে শুধু দিদি। অটোই নেশা। দিনরাত অটো। ফুলবাগান-গণেশ টকিজ রুটে চালান। আবার, এই তো, পেশেন্ট নিয়ে হাসপাতালে।

আরও পড়ুন –কাল থেকে রাজ্যের ‘শো-কেস’ শিল্প সম্মেলন ‘বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট’

বললাম, বিজয় নামটা সত্যি ? নাকি অমিতাভ বচ্চনের থেকে ধার নেওয়া?
জবাব দিলেন না। এমন লাজুক হেসে মুখ ঘোরালেন যে উত্তরটা বুঝে নিতে হল।

এমন মানুষও কিন্তু চারপাশে দরকার। সবাই ছাঁচে গড়া রুটিনমাফিক হলে জীবনের মানে থাকে না কি?

আরও পড়ুন –রুবি মোড়ের কাছে বহুতলে আগুন