রক্তচক্ষু নয়, রক্তকরবী-র প্রয়োজন

এসবিবি : দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগর। আমরা বেশির ভাগ মানুষ জেল এর সমার্থক শব্দ সচরাচর খুঁজি না কিংবা এই বিষয়ে ভাবি না। খুব বেশি হলে কদাচিৎ এর সমার্থক শব্দ হিসেবে কয়েদখানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকি। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ আছেন যাঁরা ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ এর মধ্যে এক অন্য জগতের সন্ধান দেন। সংশোধিত মানসচিত্তে এই আলো আঁধারীর জগতে মনুষত্ব বোধের আলো টুকু জ্বালিয়ে দিতে এগিয়ে আসেন। যারা যক্ষপুরে থেকে রঞ্জনের মত নন্দিনীদের মধ্যে যান্ত্রিকতার উর্দ্ধে আন্তরিকতার বাতাস বইয়ে দিতে পারেন।

আরও পড়ুন-উত্তরপ্রদেশ সফরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, চাঙ্গা কংগ্রেস কর্মীরা

গাণিতিক সংখ্যার আড়ালে একজন অপরাধী যে মানুষ এবং তার মধ্যে আপাত সুপ্ত মানবিকতাবোধকে ফিরিয়ে আনতে পারেন। অন্তত ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখাতে চান। যাঁরা বিশু পাগলের মত ভালোবাসার জয় গান গেয়ে ওঠেন,”তোমায় গান শোনাবো ওগো দুখ জাগানিয়া।” তাঁরা বিশ্বাস করেন কয়েদিদের ‘রক্তচক্ষু নয়, রক্তকরবী’-র প্রয়োজন। এই রকমই একজন রক্তচক্ষুর আড়ালে রক্তকরবীর রঙে রাঙিয়ে দেওয়ার বসন্ত দূত দমদম কেন্দ্ৰীয় সংশোধনাগারের কারাদক্ষ দেবাশীষ চক্রবর্তী।

আরও পড়ুন –রাজ্যে কংগ্রেসের ভোট কত শতাংশ? জানতে চান ইয়েচুরি

নাটকের বেশির ভাগ অংশ জুড়ে কারাদক্ষ নেপথ্যে থাকেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি একই ভাবেই নেপথ্যে থেকে আবাসিকদের জীবনের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার সৎ প্রচেষ্টায় আছেন।সংশোধনাগারের আবাসিকদের নিয়ে সরস্বতী পুজোর দিন সন্ধেয় সংশোধনাগর সংলগ্ন দুর্গা মন্দিরে রবীন্দ্রনাথের “রক্তকরবী” নাটক মঞ্চস্থ করেন। জাহ্নবী চক্রের সৌম্যজিত দাসের পরিচালনায় নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। মূল চরিত্রে রাজা(কারাদক্ষ দেবাশীষ চক্রবর্তী),নন্দিনী(সোমাশ্রী দাস),রঞ্জন(বাপি বিশ্বাস),বিশু(তুহিন রায়),কিশোর(তারক সরকার),চন্দ্রা(জিনিয়া নন্দী),সর্দার(শ্রীকৃষ্ণ ঘোষ) প্রমুখ আবাসিকগণ অভিনয় করেন।

 

আরও পড়ুন –কাঁথির তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির নলিকাটা দেহ উদ্ধার হুগলির দাদপুরে