নাগরিকত্ব বিলে সায় না দিলে মতুয়াদের সমর্থন আর পাবে না, বড়-মার চিঠি মুখ্যমন্ত্রীকে

এসবিবি : মতুয়া-ইস্যুতে কি বড়সড় চাপে পড়লো তৃণমূল ? মতুয়া সম্প্রদায়ের বড়-মা’র মনোভাব কি কোনও কারনে বদলে যাচ্ছে ?

এই জল্পনার কারন একটি চিঠি। বড়-মা লিখেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে। চিঠির বিষয়বস্তু তৃণমূলের পক্ষে খুবই অস্বস্তিকর। নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল 2019 সমর্থন করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখেছেন মতুয়া মহাসংঘের বড়-মা বীণাপাণি ঠাকুর। চিঠির সার-কথা, ওই বিলকে রাজ্যসভায় তৃণমূল সমর্থন করুক। না হলে মতুয়ারা আর তৃণমূলকে সমর্থন করবে না।
সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানান বড়-মার নাতি শান্তনু ঠাকুর। শান্তনুবাবু বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সচেতন করতে চাইছেন বড়-মা। ভোটের রাজনীতি বন্ধ করে মুখ্যমন্ত্রী বিলকে সমর্থন করুন, এই আবেদনই জানিয়েছেন বড়মা।”

আরও পড়ুন –শিলান্যাস হলেও ইস্টার্ন বাইপাসের মূল কাজ এখন শুরুর কোনও সম্ভাবনাই নেই

মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা বড়-মার চিঠির কপি দেখিয়ে শান্তনুবাবু বলেছেন, “চিঠিতে বড়-মা লিখেছেন, 2-1 দিনের মধ্যে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল, 2019 রাজ্যসভায় অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। এই বিল রাজ্যসভায় পাশ হলে মতুয়ারা নাগরিকত্ব পাবে।” বড়মা মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিতে লিখেছেন, “তুমি আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে মতুয়াদের স্বার্থ দেখবে। এবার সুযোগ এসেছে মতুয়াদের নাগরিকত্ব পাওয়ার। আমার আবেদন তোমার দল এই বিলকে রাজ্যসভায় সমর্থন করুক। অন্যথায় মতুয়ারা কিন্তু আর তোমাদের সমর্থন করবে না। তুমি মতুয়াদের স্বার্থ রক্ষা করবে বলে আশা করি।” শান্তনুবাবু বলেন, “সকালেই এই চিঠি আমরা মেল করেছি। তবে এখনও কোনও উত্তর আসেনি।”

অন্যদিকে, চিঠিতে থাকা স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বড়মার পুত্রবধূ তথা তৃণমূল সাংসদ মমতা ঠাকুর। তিনি বলেন, “NRC সরলীকরণের জন্য আমরা দাবি করেছিলাম। এই বিলে সেই দাবি পূরণ হয়নি। বড়মার এখন একশো বছর বয়স। তিনি এখন সেই জায়গায় নেই যে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখবেন। কী করে মা এটা বলতে পারল? বড়মা এই চিঠিটা লিখতে পারেন না।”

আরও পড়ুন –উত্তরপ্রদেশে বিষমদে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল 116, চক্রান্ত বলছেন যোগী