তদন্ত প্রসঙ্গে কী আবেদন করলেন কুণাল ঘোষ?

এসবিবি: সারদা কান্ডে শিলংয়ে সিবিআই যেদিন রাজীব কুমার ও কুণাল ঘোষকে মুখোমুখি বসালো, তার পর সোমবার ভোরে কুণাল ফেস বুক পোস্টে লিখেছেন-

একটি অনুরোধ

বাংলার সব রাজনৈতিক দলের কাছে একজন নাগরিক হিসেবে একটি অনুরোধ।

চিট ফান্ড কান্ডে তদন্তের অঙ্গ হিসেবে কিছু ঘটনা ঘটছে। দয়া করে এর সঙ্গে রাজনীতি জড়াবেন না। তা পক্ষেই হোক, বা বিপক্ষে।

যে পদক্ষেপগুলি এখন হচ্ছে, তা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। এমনকি সিবিআইয়েরও আগে রাজ্য সরকারের সিটের তদন্তের সময়ই। তখন হয় নি। পরেও বহু সময় নষ্ট হয়েছে। তবু এখন যেটুকু দেখছি, বেটার লেট দ্যান নেভার।

সিবিআই বা কোনো তদন্তকারী সংস্থাই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। তদন্তের ক্ষেত্রে বহু ইস্যুতে বহু বিতর্কের ইতিহাস আছে। কিন্তু সেসব তুলে এখানকার এতবড় কেলেঙ্কারির তদন্তে বাধা দেওয়া যুক্তিসম্মত নয়।

আমাকে যেভাবে জড়ানো হয়েছে, আমি বিরোধিতা করেছি। কোর্টে লড়ছি। রাজ্য এবং সিবিআইয়ের বিরুদ্ধেই লড়ি। ফলে তদন্তের মুখে যিনি আসবেন, তাঁরও উচিত সরকার বা রাজনৈতিক মদত ছাড়া নিজের লড়াই নিজে লড়া।

যে দল এখন বেশি সমালোচিত হচ্ছে, তার এখন দলগতভাবে বিষয়টায় কতটা জড়ানো, ভাবা উচিত। যেসব দল সমালোচনা করছে, তাদের ঘরে উঁকি মারলেও নানা আলোচনার তথ্য মিলবে।

ফলে, অনুরোধ, তদন্তটা হতে দিন। এতে কতদূর কী হবে, জানি না। বড়রা কখন যে কার সঙ্গে ভাব করে ফেলে, এবিষয়ে আমার এই তদন্তেই দেখা অভিজ্ঞতা অপূর্ব !!! আমি তদন্ত এজেন্সিগুলির অন্ধ সমর্থক নই। তবু, যেটুকু হচ্ছে, দেখা যাক। বল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই রাজনীতির রং লাগিয়ে সমর্থন বা প্রতিহিংসার রাজনীতি বলে বিরোধিতা না করে একটু নজর রাখাই ভালো।

আবার বলছি, যেটুকু দেখছি, যা হচ্ছে, তা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। তাহলে এখন এত কথা উঠত না।

আমি নিজে এই তদন্ত ঘটনাক্রমের সমর্থন বা বিরোধিতা কিছুই করছি না। সহযোগিতা করছি বরাবরের মত। নজর রাখছি। আমি আর কোনো কিছুকেই বিশ্বাস করতে পারি না। যখন প্রতিবাদের পর্যায় আসবে, তখন দরকারে নিশ্চয়ই তা করব। কিন্তু আপাতত প্রক্রিয়াটি দেখার পক্ষে। যখন আমি বারবার প্রতিবাদ করতাম, তখন যাঁরা বলতেন আইন আইনের পথে চলবে, আজ তাঁদের তরফে তদন্তে বাধা কাম্য নয়।

দলগুলিকে অনুরোধ, সমর্থন বা বিরোধিতার সময় পালিয়ে যাচ্ছে না। আপাতত তদন্ত প্রক্রিয়ায় যা হচ্ছে, রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার না করে একটু পর্যবেক্ষণে রাখুন।

এবং বঙ্গ মিডিয়া। এই সংক্রান্ত কিছু কভারেজ, তথ্য, শব্দপ্রয়োগ, পক্ষপাতিত্ব হাস্যকর পর্যায়ে যাচ্ছে। পাঠকদের বিভ্রান্ত করে কোনো বড় ব্যক্তির পক্ষে ধারণা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এসব করতে যাওয়া মানে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতায় আঘাত করা। উদাহরণ: একটি কাগজের দক্ষ সাংবাদিক সারাদিন শিলংয়ে বসে থাকার পর আজকের কাগজেই লিখেছেন, রাজীব কুমার চাইলেও জেরা পর্ব ভিডিও রেকর্ড করে নি সিবিআই। বাস্তব হল, গোটা ভিডিও হয়েছে। এবং সেটার সঙ্গে রাজীববাবুর ইচ্ছে অনিচ্ছের সম্পর্ক ছিল না।
এই হাস্যকর কাজগুলো করার আগে মিডিয়ারও একটু ভেবে দেখা উচিত। এটা আমাদের পছন্দের জায়গা। কেন সেটা নষ্ট করার উপাদান বিলোন হচ্ছে?

পুনশ্চ: প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর একটি ভূমিকা অন্তত এখনও পর্যন্ত আমার ভালো লেগেছে। তিনি বা কংগ্রেস কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের প্রতিবাদে সরব হলেও নিজের স্বামী তলব পাওয়ার পর নিজে গিয়ে ইডির দপ্তরে পৌঁছে দিয়ে এসেছেন।