কংগ্রেসের কল্যাণে লক্ষণের বনবাসের অবসান, জল্পনা তুঙ্গে

এসবিবি : “বিধান ভবনের মুখাপেক্ষী হয়ে বসে থাকবেনা।দলের স্বার্থে নিজেই দায়িত্ব নিতে পারবে, দলে এমন নেতার খুব দরকার”। ঠিক এই যুক্তি সামনে এনেই এক সময়ে হলদিয়ার দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী সিপিএম নেতা লক্ষণ শেঠকে দলে নেওয়ার সবুজ সংকেত দিল্লি থেকে পেতে চলেছে প্রদেশ কংগ্রেস। নন্দীগ্রাম গণহত্যার অন্যতম নায়ক হিসাবে অভিযুক্ত এই লক্ষণ শেঠকে দলে নেওয়া নিয়ে বিধান ভবনের জল অনেক ঘোলা হয়েছে। বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানের মতো বেশ কিছু নেতা লক্ষণ শেঠকে দলে নেওয়ার বিরোধিতা করে বারংবার মুখ খুলেছেন। বল গড়ায় দিল্লি পর্যন্ত। প্রদেশ কংগ্রেসের একাংশের দাবি, লক্ষণ শেঠকে দলে নিতে দিল্লির আপত্তি নেই। মঙ্গলবারই দিল্লি থেকে এই বার্তা বিধান ভবনে এসেছে। ফলে যে কোনও দিনই হাত-পতাকা হাতে তোলার সুযোগ পেতে চলেছেন একদা কট্টর এই সিপিএম নেতা।

আরও পড়ুন – তৈরি হচ্ছে নতুন পদ, রাজ্যের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা CBI-এর প্রাক্তন SP রিনা মিত্র

সেক্ষেত্রে বাম, বিজেপি হয়ে তৃণমূলে ঢোকার ব্যর্থ প্রয়াসের পর এবার কংগ্রেসে ঘাঁটি স্থাপন করতে চলেছেন নন্দীগ্রাম ‘খ্যাত’, একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ লক্ষণ শেঠ।
2014 সালে সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর 2016 সালে বিজেপিতে যোগ দেন এক সময়ের সিপিএমের বাহুবলী নেতা লক্ষণ শেঠ। বিজেপিতে সেভাবে জায়গা না পেয়ে 2018-তে ওই দল ছেড়ে দেন। তারপর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু নন্দীগ্রাম আন্দোলনে যাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করে শুভেন্দু অধিকারিরা পায়ের তলায় জমি পেয়েছেন, তাঁকে দলে নিতে চায়নি তৃণমূল। অগত্যা, নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা করতে কংগ্রেসের ছাতার তলায় আসার চেষ্টা করছেন তিনি। সোমেন মিত্র প্রদেশ কংগ্রেস হওয়ার ক’দিন পরই তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন লক্ষণ শেঠ। তারপর বেশ কয়েক ধাপ কথাবার্তা এগিয়েছে দুই পক্ষের। শেষপর্যন্ত সফল হতে চলেছে লক্ষণ শেঠের স্বপ্ন। দু’দিন বাদেই তিনি হয়ে উঠবেন ‘বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা’।

আরও পড়ুন – রাফাল চুক্তি নিয়ে রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে তোপে উড়িয়ে দিলেন অনিল আম্বানি