রবিবারের বাবুইবাসা : 17.02.19

জীবনের মানে বোঝার চেষ্টা

সৈয়দ হুমায়ুন রাণা

বাবা ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেন,”বাবা তোমাকে গীতা পড়তে দিয়েছিলাম,তুমি পড়েছিলে?”

ছেলে,”পড়েছি বাবা।”কথাটি বলেই সে এক অভাবনীয় কান্ড করে বসলো। একটা খেলনা পিস্তল বাবার মাথায় ঠেকিয়ে বললো, “এই পৃথিবীতে কেউ কারো নয়। একাই এসেছি, একাই যেতে হবে। এখানে কেউ বাবা নয়, কেউ ছেলে নয়। সব ই মায়া।”

বাবা ভীষণ ভয় পেয়ে বললেন, “একি বলছিস! আমি তোর বাবা। আমাকে মেরে ফেলবি?”

-“আত্মার মৃত‍্যু নেই। আত্মা অজয়-অমর-অক্ষয়। সুতরাং, তোমার ও মৃত‍্যু নেই।”

-“আমি মারা গেলে তোর ভাই,বোন,মাকে কে দেখবে বাবা?”

-পৃথিবীতে কেউ কারো নয়। তুমি মারা গেলে, তোমার আত্মা নতুন করে জন্ম নেবে। পুরনো শরীর ছেড়ে। আত্মাকে জলে ভেজাতে পারা যায় না। আগুনে পোড়ানো যায়না। তাকে স্পর্শ করা যায়না। সুতরাং, তোমার ক্ষতি হবেনা।”

বাবা কাঁদতে,কাঁদতে ছেলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বললেন, “আমার বড়  ভুল হয়েছে বাবা, তোমাকে গীতা পড়তে না দিয়ে, একটি দামী মোবাইল কিনে দিলে ভালো করতাম।”ছেলে হাসতে,হাসতে বাবার গলা জড়িয়ে ধরে আল্হাদে আটখানা হয়ে বললো, “গীতায় যত ভুল ভাল লেখা ছিল। তুমি আমার ভালো বাবা, আমি তোমার স্নেহের আদরের একমাত্র ছেলে। ঠিক বললাম!!” বাবা তখন ও ভয়ে কাঁপছিলেন; মাথা নাড়িয়ে সাঁয় দিলেন কিন্তু কথা বেরুলো না।

################################

পদাতিক  

সুনন্দ সান্যাল

নব জীবনের স্বপ্নীল ভালোবাসা,

ঐক্য, আস্হা ও আত্মত্যাগের প্রভাতী পরিভাষা।

উত্থান-পতনের সমন্বয়ে কর্মমুখর জীবন, বেঁচে থাকার অহং,

দেওয়ালে ঠেকলে পিঠ, অটুট থাকুক জেদ, সংগ্রামে ফেরো স্বয়ং।

মৃত্তিকার মনস্বত্ত্বের গভীরে ছড়িয়ে পড়ুক উষ্ণতা,

জাগো আগামী, সৃষ্টি ও সৃজনের শপথ ও স্লোগানে বিলুপ্ত হোক স্হবিরতা।

################################

বাঁকুড়ার লে বলছি রে বাপ

চণ্ডীচরণ দাস

বাঁকুড়ার লে বলছি রে বাপ বাঁকুড়ার লে বলছি।

কেমন করে বলব বাছা কত জ্বালায় জ্বলছি।।

মিয়া মরদ মচছি খাটে কাঁসাই লদীর পাড়ে।

জাড়ের সময় চামড়া গুলান সিঁধাই যাচ্ছে হাড়ে।।

থাকতলে গতর পাব খাতে বুজলুম আমি সেটা।

বৌটা সুখের স্বপন দেখে বুজাবেক বল কেটা।।

ছিলাপিলা ভোকে কাঁদে চালে নাই বাপ খড়।

বর্ষাকালে ঘরের ভিতর জল ঢুকে হড়হড়।।

ভিজা কাঠে ধুঁয়ায় ধুঁয়া সঙে সর্দি হাঁচি।

ছিলাপিলা মিয়ামরদ কিয়ে খাঞে বাঁচি।।

গরুবাছুর বিঁকাই গেছে ঘড়াধরার হাটে।

আলু পিঁয়াজ গম মলল আকাল জলে মাঠে।।

হাঁস মুরগী ছাগল অ নাি বিকে বিনব চাল।

সকাল সাঁঝে ঘুচি কেবল উঠছে পায়ের ছাল।।

কুথায় যাব কাজটা পাব ভিটাটা ছাড়ে দিয়ে।
কাঁদছে ছাটা মাড়ের লাগে কাঁদছে মায়ে ঝিয়ে।।

গরীব ঘরে জনম লিলি ওরে আমার বাপ।

ভোকের সাথে লড়তে হবেক কিসের মনস্তাপ।।

জলে, ঝড়ে, রোদে, কাদায় থাকলে টেকে শরীর।

তবেই ন তুই আমদে হয়ে লড়বি বেটা বীর।।

ঝড় আসছে ব অ আ ক খ র জাগছে গাঁয়ের মানুষ।

দুনিয়া থাকে সরান দিবেক রক্ত চুষা ফানুস।।

################################