রবিবারের বাবুইবাসা : 10.03.19

লেননের অভিযান

সুনন্দ সান্যাল

1611 সালের 21শে জুলাই থেকে 1612 সালের 10ই আগষ্ট, বারংবার মোট 18 বার, লেনন হাডসন এশিয়া অভিযান খাতে অর্থ ও অনুমতি আবেদন করা সত্ত্বেও তা খারিজ করে দেয় ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। অবশ্য খারিজ করার কারণও ছিলো, লেনন হাডসনের বাবা হেনরি হাডসনকে একেবারেই পছন্দ করতেন না ব্রিটিশরা, সবথেকে সাহসী ও বেপরোয়া অভিযাত্রী ছিলেন হেনরি হাডসন, সাথে সবসময় বন্দুক ও কার্তুজ থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহারের বিরুদ্ধে ছিলেন, ছবি আঁকা ও সাহিত্যচর্চা ছিলো খুব পছন্দের, হেনরি মনে করতেন গোল টেবিলে বসে পরস্পর মতামত বিনিময় করে, কথা বলে, সব সমস্যার সমাধান সম্তব। মানুষে মানুষে লড়াই করলে মানবজাতির ক্ষতি। হেনরির এইরুপ আচরণ একেবারেই মেনে নিতে পারতেন না ব্রিটিশরা। 1610 সালে হেনরির শেষ অভিযানে জাহাজ যখন আইসল্যান্ড, উত্তর আমেরিকা হয়ে দক্ষিণ অ্যাটল্যান্টিক মহাসাগরে এসে উপস্হিত হয় তখন প্রবল দুর্যোগের সম্মুখীন হয় এবং স্তব্ধ হয়ে পড়ে জাহাজটি।
দু মাস পর আবহাওয়া পরিস্কার হয়ে গেলে 17 জনের দল দুটি দলে বিভক্ত হয়ে যায়, হেনরি হাডসন ও তাঁর বন্ধু উইলিশ জেমস অভিযান এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপক্ষে থাকলেও বাকীরা লন্ডনে ফিরে যাওয়ার কথা প্রকাশ করে। হেনরি হাডসন সিদ্ধান্ত নেন জাহাজে রাখা একটি ছোট নৌকা নিয়ে তিনি বন্ধু উইলিশ জেমসকে সাথে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন। বিরোধীদের সাথে তীব্র বাতানুবাদ ও উত্তেজনার বশে উইলিশ জেমস প্রকাশ্যে হেনরি হাডসনের বিরোধী নেতা স্টিভেনসনকে গুলি করেন, এই ঘটনা মন থেকে মেনে নিতে পারেননি হেনরি তিনি উইলিশ জেমসের পায়ে ও হাতে গুলি করে উইলিশকে জেনারেল অ্যাকিনসনের হাতে তুলে দেন এবং নিজে একা ছোট নৌকা নিয়ে অভিযানের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যান। দেশে ফিরে উইলিশ জেমস পুরো ঘটনা বর্ণনা করলে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি হেনরি হাডসনকে দোষী বলে ঘোষণা করে এবং স্টিভেনসনের মৃত্যুর জন্যও দায়ী করেন হেনরি হাডসনকে।
পুরো দেশ বিরুদ্ধে গেলেও ছেলে লেনন হাডসনের কাছে দেশনায়ক ছিলেন হেনরি হাডসন। এশিয়া অভিযান মুখ্য কারণ কাগজে কলমে দেখালেও আসলে নিজের বাবাকে খুঁজতেই যে এই অভিযান তা বুঝতে পেরেছিলো ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী। তাই 18 বার আবেদন খারিজ হয়, পরে 1612 সালের 14 আগষ্ট জেনারেল উইলি ও জেনারেল ক্যুপার ব্যক্তিগতভাবে অর্থ ও অনুমতি প্রদান করেন লেনন হাডসনকে। 1612 সালের 23 সেপ্টেম্বর লেনন, লেননের বান্ধবী এডিনা এবং 7 জন ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাদের এশিয়া অভিযান শুরু করে। চলতি পথে লেনন তার সহযাত্রীদের পরিস্কার জানিয়ে দেন তার কাছে বাবাকে খুঁজে পাওয়াটাই মুখ্য। প্রতিটা বন্ধুই হৃদয় থেকে সমর্থন করেন লেননকে।
মাদাগাস্কারে পৌঁছে বন্দরের কাছে একটি দোকানে রাখা কাগজ দিয়ে বানানো একধরনের বিশেষ অর্কিড লেননের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, কারণ এই ধরণের কিরিগামী (বিশেষ ধরণের কাগজশিল্প) ও এই বিশেষ অর্কিডের নকশা তার বাবা হেনরি হাডসন তাকে শিখিয়েছিলেন। দোকানে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন এক পাগল ভিক্ষুক এই অর্কিড আর অনেক হাতে আঁকা ছবি বন্দরের আশেপাশের দোকানগুলিতে দিয়ে যায়, বদলে কোন আর্থিক সাহায্য নেন না, শুধু পেট ভরে রোজ খাবার খাওয়াতে হয় ও মাঝে মাঝে নতুন পোষাক কিনে দিতে হয়। দোকান মালিকের কাছ থেকে ঠিকানা সংগ্রহ করে লেনন ও তার বান্ধবী পৌঁছে যান সেই পাগল ভিক্ষুকের ঘরে। দরজা খুলতেই লেনন “বাবা” বলে চেঁচিয়ে উঠলেও পাগল ভিক্ষুকটি মুখে একরাশ সরল হাসি ছাড়া আর কোনও অভিব্যক্তি প্রকাশ করেননি। লেনন বুঝতে পেরেছিলো তার বাবার সম্পূর্ণ স্মৃতি বিলোপ ঘটেছে সাথে বাকক্ষমতাও হারিয়েছেন। লেনন তার বাবাকে জড়িয়ে অঝোড় কান্নায় ভেঙে পড়লো, ঝাপসা চোখে দেখতে পেলো ঘরের চার দেওয়ালেই বাবা তার ছেলের ছবি এঁকে রেখেছেন কিন্তু চরম দুর্ভাগ্য যখন তার ছেলে সত্যি সামনে এলো তখন আর চিনতেই পারলো না।
লেনন, লেননের বান্ধবী এডিনা ও বাবা হেনরি একসাথে মাদাগাস্কারেই থেকে গেলো, লেননের জাহাজ ফিরে গেলো লন্ডনে, সবাই জানলো লেনন ও লেননের বান্ধবী এডিনা সামুদ্রিক ঝড়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

***********************

নারী দিবসের বিশেষ দিনে

সৈয়দ হুমায়ুণ রানা

নারী তুমি অসাধারণ,তুমি অনন‍্য
শ্রদ্ধামাখা ভালোবাসা তোমাদের জন‍্য;
তোমার তুলনা তুমি নিজেই——
তোমার হাতের ছোঁয়ায়, সংসার জীবন ধন‍্য
নারী তুমি অসাধারণ, তুমি অনন‍্য……

তুমি অস্ত্র হাতে ,অসুরেরে করো বধ
তুমি কখনও লক্ষী,বিদ‍্যার দেবী স্বরস্বতী
তোমার করুনায় লাশেরা ফিরে পায় প্রাণ
তোমার চরণে লুটায় ওগো রথী—মহারথী
নারী তুমি অসাধারণ, তুমি অনন‍্য
তোমার তুলনা তুমি নিজেই—
তুমি ধন‍্য ওগো তুমি ধন‍্য.. …….

***********************

চুপ

চণ্ডীচরণ দাস

দিনকে দিন জীবনটা ব বড় বিষাই যাচ্ছে।

দুখের পকা হাড়পাঁজরা কুরে কুরে খাচ্ছে।।

ছানাপনার কিচির মিচির হাগছে আর গগাছে।

হাঁচিকাশি খোশপাঁচড়া দিনে রাতে ভুগাচ্ছে।।

ভোরের লে মকমকানি রাস্তায় রাস্তায় দোড়ে।

আঁঠু ছুলায় কপাল লুকাই বুলে ঝোড়ে।।

ভেউ ভেউ করে দিবেক চেঁচাই উড়বেক চালের কাগ।

বৌটার কথা বলব কি বাপ, বিহার রাতের লে বাগ।।

কুনটা হাসি, কুনট কান্না, খানাই পাছি নাই।

বাসাম থাকে সাঁজে অব্ধি খালি চাই আর চাই।।

শাড়ি, গয়না, টিভি, ফিরিজ, চুড়ির থাকে ঝুড়ি।

কানের, গলার, হাতের, পায়ের সমকিছু চাই খুড়ি।।

দিনকে দিন জীবনটা বাপ বড় বিষাই যাচ্ছে.

সুযোগ পালেই যে যার নিজের কোলটায় ঝোল টানছে।।

ঝাটপাট নাই ছড়ামাড়ুলি শিকায় তুলে রাখে।

তুলসী থানে পিদিম নাই বাপ ফুঁ দিছে নাই শাঁখে।।

ছানাপনারা উঠলে পরে খকখক ঢকঢক।

কাঁদছে ইটা চেঁচায় উটা কেবল যে বকবক।।

মগটা দেন পেশটা দেন জিবছুলিটা দেন।

গরম জলটা দিতে তরা দেরি করছিস কেন।।

দে দে করা চেঁচামেচিতে মাত হচ্ছে পাড়া।

মা গুলা কি চুপটা থাকে, বলে, দেখাচ্ছি দাঁড়া।।

মস্ত বড় হাঁ টা করে, ডেমরা ডেমরা চোখটা করে

পিঠে বসায় ‘গুপ’।

গরগরাতে থাকে রাগে, চেঁচাই উড়ায় চালের কাগে

বলে, ‘একবারেই চুপ’।।

***********************

সানডে স্পেশাল রেসিপি : ডিম-বেগুনের যুগলবন্দী

ডিমের ডালনা, বেগুন বাহার বা বেগুন ভর্তার স্বাদ সকলেই চেনেন। এবার যদি ডিম আর বেগুনকে একই রান্নায় ব্যবহার করা হয় তাহলে কেমন হয়?  যারা রান্না করতে ভালোবাসেন তাদের কাছে সেই সব রান্নাই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে যেগুলি নতুনত্ব। এমনই একটা রেসিপি হলো ডিম-বেগুনের যুগলবন্দী। একটি রয়েছে প্রোটিন। আর অপরটিকে বলা হয় নেই কোনও গুণ। এই দুটি উপকরণ মিলিয়ে রান্না করলে তার স্বাদ কেমন হবে নিশ্চয় জানতে ইচ্ছা করছে? দেখে নিন রেসিপি।

উপকরণ : ডিম 4 টে,  বেগুন 2 টি , হলুদ হাফ চামচ,  লঙ্কা গুঁড়ো হাফ চামচ, আদা বাটা 1 চা চামচ,  রসুনবাটা 1 চা চামচ, জিরা হাফ চা চামচ, 2 টি এলাচ গুঁড়ো করা,  পেঁয়াজ কুচি 1 কাপ, তেল ও নুন পরিমাণমত।

প্রণালী : ডিমগুলি সেদ্ধ করে বেগুনগুলিকে ডুমো ডুমো করে কেটে নিতে হবে। ডিম সেদ্ধ হয়ে গেলে তার গায়ে লম্বালম্বিভাবে চারটি আচর দিন চামচের সাহায্যে। এবার ডিমগুলিকে হলুদ, লঙ্কা গুঁড়ো, নুন মাখিয়ে হালকা করে ভেজে নিন। এরপর টুকরো করে রাখা বেগুনগুলিকেও সমস্ত উপকরণে মাখিয়ে নিয়ে তা ভেজে নিন।

পরবর্তী পর্যায়ে কড়াইতে তেল দিয়ে কুচনো পেঁয়াজ ও সামান্য নুন দিন। ভাজা ভাজা হয়ে এলে এক কাপ জল দিন কড়াইতে। এবার সব মশলা দিয়ে কষান। মশলা কষান হয়ে গেলে ডিম ও ভেজে রাখা বেগুন দিয়ে দিন। মাখা মাখা খেতে চাইলে জল কম দিন। আর যারা ঝোল পছন্দ করেন তারা 1 কাপ জল দিন। ফুটে গেলে জিরে গুঁড়ো ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন ডিম-বেগুনের যুগলবন্দী।

***********************