পাঁচজনই প্রার্থী এবারও! তাহলে মমতা সেদিন কেন বলেছিলেন আগে জানলে ওঁদের প্রার্থী করতাম না?

কলি পারভিন

2016। রাজ্য বিধানসভা ভোটের আগে নারদ ঘুষকাণ্ডের অভিযোগে রাজ্যজুড়ে তোলপাড়। গোপন ক্যামেরায় তোলা ভিডিওতে হাসিমুখে টাকার বান্ডিল নিতে দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের প্রায় একডজন নেতা-মন্ত্রী-বিধায়ক-সাংসদকে। নারদ স্টিং অপারেশনের দৃশ্যাবলী প্রকাশ্যে আসার আগেই এই ঘুষখোরদের বেশ কয়েকজনকে বিধানসভা ভোটে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল তৃণমূল। তখনই প্রশ্ন উঠেছিল ভাবমূর্তি বাঁচাতে কী বলবেন তৃণমূলনেত্রী? প্রথমদিকে জাল ভিডিও, ষড়যন্ত্র, ঘুষ দেওয়াও অপরাধ ইত্যাদি বলা হলেও পরে রাজ্যবাসীর ক্ষোভ আন্দাজ করে তৃণমূলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি এক জনসভায় বলেছিলেন, “আগে জানলে (নারদ ঘুষকাণ্ড) প্রার্থী করতাম না।” অর্থাৎ তাঁর দলের নেতারা বান্ডিল বান্ডিল টাকা ঘুষ নিয়ে পকেটে, ড্রয়ারে বা তোওয়ালে মুড়ে লুকিয়ে রাখছেন এসব তাঁর আগে জানা থাকলে তিনি নাকি ওদের প্রার্থীই করতেন না! এই যুক্তি শুনে নরম হয়ে অনেকেই ভেবেছিলেন সত্যিই তো, প্রার্থী ঘোষণার পর এইসব বিস্ফোরক ভিডিও প্রকাশ্যে এলে দলনেত্রীর কীই বা করার থাকে? এতগুলো হেভিওয়েটের নাম কি একসঙ্গে বাদ দেওয়া যায়? আর ‘সততার প্রতীক’ নেত্রী নিজের মুখে যখন বলছেন আগে জানলে ব্যবস্থা নিতেন তখন তাঁর কথায় বিশ্বাস রাখা উচিত।

2016-র ভোটের ফল। 211আসনে জিতে মন্ত্রিসভা গঠন করল তৃণমূল।সেখানেও দেখা গেল “আগে জানলে টিকিট দিতাম না” তালিকার কয়েকজন দিব্যি মন্ত্রী হয়ে গেলেন।শোনা যায়, নারদ অভিযুক্তদের মন্ত্রী করার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি শপথ অনুষ্ঠানে যাননি।

আবার একটা ভোট। আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্বে সিবিআই। সঙ্গে ইডি। ফরেনসিক তদন্তে প্রমাণ হয়েছে নারদ ভিডিও জাল নয়। ভিডিওতে ঘুষ নিতে দেখা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর করে তদন্ত চলছে। পৃথকভাবে তদন্ত করছে ইডিও। তদন্তের অস্বাভাবিক শ্লথতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে, কিন্তু ঘটনা হল নারদকাণ্ডে অভিযুক্তরা এখনও তদন্তের আওতাভুক্ত। তাহলে 2019-এ মমতা ব্যানার্জি নারদ অভিযুক্তদের টিকিট দিলেন কেন? তৃণমূলের লোকসভা ভোটের প্রার্থী তালিকায় সুব্রত মুখার্জি, সৌগত রায়, প্রসূণ ব্যানার্জি, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, অপরূপা পোদ্দারের নাম কেন? কেউ বলতেই পারেন কোর্টে অভিযোগ প্রমাণের আগে কাউকে দোষী বলা যায়না। কিন্তু এই যুক্তি মানলে তো বলতে হয় মমতা সেদিন ওকথা বলেছিলেন কেন? আগে জানলে প্রার্থী করতাম না। সেই মন্তব্যটা কি শুধু লোকদেখানো ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা ছিল? নাকি বুঝেশুনেই মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল? কোনটা ঠিক? সেদিন প্রকাশ্য সভায় বলা কথা নাকি আজকের উল্টো অবস্থান? এদেশের অধিকাংশ রাজনীতিকই আমজনতাকে বিস্মৃতিপ্রবণ নির্বোধ ভেবে থাকেন। মমতা তার চেয়ে আলাদা হলে এখন বরং স্পষ্টভাবে নিজের কথার ব্যাখ্যা দিন।