জোড়া চ্যালেঞ্জের মুখে শাসক দল ,দেবাশিস পাঠকের কলম

দেবাশিস পাঠক

এরকম অবস্থার কথা পাঁচ বছর আগেও ভাবা যেত না। 12-13 বছর আগে অবশ্য দেখা গিয়েছিল। মমতা বলছেন। বকাঝকা করছেন। প্রাণপাত পরিশ্রম করছেন। কিন্তু আবেগের বৃত্তে তেমনভাবে ঢেউ উঠছে না। একটা ছন্নছাড়া গা ছাড়া ভাব।
সেবার বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট। তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত । একতরফা প্রার্থী বাছাই। ‘নাউ অর্ নেভার’ স্লোগান। ছুটে বেড়াচ্ছেন নেত্রী। চষে বেড়াচ্ছেন রাজ্যের এমাথা থেকে ওমাথা। সঙ্গে সহযোদ্ধারা । যাঁদের অনেকেই এখন রাজ্যের মন্ত্রী কিংবা পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী । রাজ্যের সবচেয়ে বেশি প্রচারিত দৈনিকের প্রচ্ছন্ন সমর্থন । নেত্রী ভিক্ট্রি সাইন দেখালেন হাতের মুদ্রায়, ভোট শেষের পর। ফল বের হলে দেখা গেল, হা হতোস্মি । ঝুলি ভরেনি। জোটের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর বোঝাপড়ার দৈন্য মানুষের আবেগকে ভোটের বাক্সে টেনে নিয়ে যেতে পারেনি। সেবার প্রতিপক্ষ ছিল সুসংহত বামফ্রন্ট ।

আরও পড়ুন –11 আসনে কংগ্রেস, 20 আসনে RJD, আসন-রফা চূড়ান্ত বিহারে

এবার লোকসভা ভোট। বামেরা ছন্নছাড়া, কংগ্রেস যথারীতি তার ঐতিহ্যের গোঁফে তা দিচ্ছে । সেদিকে চিন্তার তেমন কিছু নেই। কিন্তু আসল প্রতিপক্ষ তো বিজেপি । সাংগঠনিক শক্তি নেই। চোরা আবেগে পদ্ম দুলছে মনোজলে। এটা যদি ইতিবাচক দিক হয়, তবে নেতিবাচক দিক হল তৃণমূলের তৃণমূল স্তরে মাতব্বরি, গা জোয়ারির বিরুদ্ধে মানুষের বিরক্তি । আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক হল সেনা হানার পর নবজাগ্রত জাতীয়তাবাদী আবেগের ঢেউ । সঙ্গে রয়েছে 2500-র কাছাকাছি আরএসএস- এর শাখার সাংগঠনিক শিকড়। অবাঙালি ভোটারদের হিন্দুত্ববাদের প্রতি প্রীতিপক্ষপাত। সেসবের সঙ্গে যোগ হয়েছে টিকিট না পাওয়া বিক্ষুব্ধ সুযোগসন্ধানীদের যোগদান। ফলত, গেরুয়া শিবিরের হারানোর কিছু নেই, জয় করার জন্য পড়ে আছে 10-16 টি আসন।

আরও পড়ুন –রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে শুক্রবার, রুটমার্চও শুরু কাল থেকেই

এবার তৃণমূল 24-32 টি আসন পেলেও ওই 10-12 টা আসন বিজেপির কাছে হারানোর মানে হল 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে চারদিকে ত্রাহি ত্রাহি রব। ঠিক যেমনটা দেখা গিয়েছিল ত্রিপুরায় গত বিধানসভায় । আবেগ -আদর্শ সর্বত্র যে হারে তলানিতে ঠেকছে , তাতে ওরকম একটা আবহ তৈরি হলে হুঁশিয়ার কাণ্ডারীরও তরী সামলানো দায় হবে।
ভিতর ও বাহিরে, অন্তরঙ্গ ও বহিরঙ্গে, অন্দরে ও অন্তরে, এক সার্বিক প্রতিকূলতা কাঁধে নিয়ে নির্বাচনে ঝাঁপাচ্ছেন মমতা। তাঁর নিজস্ব ভাবমূর্তি ছাড়া এ মুহূর্তে তৃণমূলের প্লাস পয়েন্ট বলতে কিছু নেই। এহেন পরিস্থিতি তিনি কীভাবে মোকাবিলা করেন, সেটাই এবারের লোকসভা নির্বাচনে রাজনীতির ছাত্রদের কাছে একটা ‘টেস্ট কেস’। রাম- বাম, হাত- হাতুড়ির এই বিচিত্র মিশ্রণের সামনে কোনও 56 ইঞ্চি ছাতি নেই। সত্যিই নেই। কিন্তু আদৌ কোনও শেরনি আছে কি না , সেটা বোঝা যাবে ফল প্রকাশের পর।
বিজেপি কটা আসন পাবে, সেটা এখন বলতে গেলে জ্যোতিষচর্চার দরকার হবে। কিন্তু তাদের সৌজন্যে যে বাংলার দিদি জাতীয় অঙ্গন ছেড়ে ফের গৃহমুখী, সেটা বোঝার জন্য রাজনীতি চর্চারও দরকার পড়ে না।

আরও পড়ুন –প্রায় 50 জন কাউন্সিলর নিয়ে আজই বিজেপিতে যাচ্ছেন দাপুটে অর্জুন সিং