শাসক দলকে বিঁধে পার্কস্ট্রিট-কাণ্ডে নির্যাতিতা সুজেটের মৃত্যুদিনে শ্রদ্ধা বিশিষ্টদের

এসবিবি: 2012 সালে বহু-আলোচিত পার্কস্ট্রিটের ধর্ষণকাণ্ডকে কেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সাজানো ঘটনা বলেছিলেন তা নিয়ে ঘটনার সাত বছর বাদে আবার প্রশ্ন তুলছেন বিশিষ্টরা।তাঁদের প্রশ্ন, যাঁর বিরুদ্ধে এক ধর্ষককে আশ্রয় দেওয়ার মত গুরুতর অভিযোগ, তিনি কোন জাদুতে আইনের হাত থেকে ছাড় পেয়ে যান এবং লোকসভা নির্বাচনের মত গুরুত্বপূর্ণ ভোটে প্রার্থী হন? পার্কস্ট্রিটের সেই নির্যাতিতা প্রতিবাদী সুজেট জর্ডনের মৃত্যুদিনে এই প্রশ্নই তুলেছেন বিভিন্ন সংগঠনের বিশিষ্টরা। বুধবার সুজেটের স্মরণে ভবানীপুরের সমাধিস্থলে গিয়ে মালা-মোমবাতি দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তাঁরা। ছিলেন সেভ ডেমোক্র্যাসির চঞ্চল চক্রবর্তী, প্রদেশ মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী রাসু দত্ত, সিপিএম কাউন্সিলার চয়ন ভট্টাচার্য, কবি দীপঙ্কর মুখোপাধ্যায়, সুজাতা ঘোষ, মানস ব্যানার্জি প্রমুখ।

আরও পড়ুন –রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে শুক্রবার, রুটমার্চও শুরু কাল থেকেই

প্রসঙ্গত, 2012 সালের 5 ফেব্রুয়ারি ভোরে সুজেটকে এক্সাইড মোড়ে গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে যায় একদল দুষ্কৃতী। এরপর পার্কস্ট্রিট থানায় সুজেট এফআইআর করে জানান, তাঁকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, এটি সাজানো ঘটনা। তদন্তের আগেই তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরবর্তীকালে তৎকালীন ডেপুটি পুলিস কমিশনার দময়ন্তী সেন জানান, সাজানো নয়, এটি সত্যিই ধর্ষণের ঘটনা। যদিও এরপর অন্যত্র বদলি হয়ে যান দময়ন্তী সেন। সেইসময় অভিযুক্তদের অনেকে গ্রেফতার হলেও মূল অভিযুক্ত কাদের খানকে বেশ কয়েক বছর ধরতে পারেনি পুলিস। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সেই সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, ধর্ষণকাণ্ডের পর শাসক দলের ঘনিষ্ঠ টালিগঞ্জের এক উঠতি অভিনেত্রীর আশ্রয়ে কয়েকদিন ছিল মূল অভিযুক্ত কাদের খান। এখন লোকসভা ভোটে রাজ্যের একটি কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়া সেই অভিনেত্রীর প্রসঙ্গে উঠে আসছে পার্কস্ট্রিট কাণ্ডের স্মৃতি। বিরোধীরা যা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলছেন।

আরও পড়ুন –জোড়া চ্যালেঞ্জের মুখে শাসক দল ,দেবাশিস পাঠকের কলম