সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে উপ মুখ্যনির্বাচন কমিশনারের বৈঠক, কী বললেন দলের প্রতিনিধিরা?

এসবিবি : শুক্রবার ডিসিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের পর  জানা গিয়েছিল রাজ্যে আসতে চলেছেন উপ মুখ্যনির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন। ভোটের মুখে তিনি খতিয়ে দেখবেন রাজ্যের পরিস্থিতি ও আইন-শৃঙ্খলার বিষয়টি। সেই মত শনিবার সকালেই রাজ্যে এসেছে পৌঁছেছেন উপ মুখ্যনির্বাচন কমিশনার। এদিন প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন তিনি।  প্রথমে বৈঠক হয় জাতীয়স্তরের দলগুলির সঙ্গে। এরপর রাজ্যস্তরের দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে করেন উপ মুখ্যনির্বাচন কমিশন সুদীপ জৈন।

আরও পড়ুন –বিজেপির নির্বাচন কমিটির বৈঠকে থাকছে কী চমক ?

এদিনের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার, সিপিএম নেতা রবিন দেব সহ কংগ্রেসের তরফে  প্রদীপ ভট্টাচার্য। মুখ্য উপনির্বাচন কমিনার ছাড়াও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক এল এন মীনা।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা। সেখানে পশ্চিমবঙ্গকে ‘অতি স্পর্শকাতর’-এর আখ্যা দিয়ে জায়গায় জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর দাবি জানিয়ে ছিল গেরুয়া বাহিনী। এরপর শনিবারের বৈঠকে উপ মুখ্যনির্বাচন কমিশনারকে মুকুল রায় জানান, “ বিজেপি নতুন কিছু বলবে না। তথ্য দিয়ে সব বলা হয়েছে। 2011-তে মমতা যা বলেছিলেন, সেটাই বলা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এরাজ্যে সব বুথ সেন্সিটিভ। পঞ্চায়েত ভোটের কাগজ দেখিয়েছি। এই রাজ্য সব সীমা পার করেছে। বাংলার পুলিশের উপর বিশ্বাস নেই।” এছাড়াও তাঁর দাবি, রাজ্য পুলিশের উপর বেশি ভরসা না করে যেন নিজেদের দায়িত্বেই ভোটপর্ব সামলায় কমিশন।

আরও পড়ুন –অর্জুন সিং-এর প্রভাব কমাতে একাধিক পদক্ষেপ

মুকুলকে পাল্টা জবাব দিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন,”রাজ্যে উন্নয়ন, শান্তি থাকার পরেও ছলচাতুরি করছে বিজেপি। তৃণমূল নথি দিয়ে সুপ্রিম কোর্টে প্রমাণ দিয়েছে পঞ্চায়েত ভোটের পর। সুপার সেন্সিটিভ বুথ আবার কি? বাংলার মানুষ ভোট দেবে। ছলচাতুরি ও উচ্ছিষ্টদের নিয়ে  দল করেছে গেরুয়া শিবির।”

বৈঠক থেকে বেড়িয়ে কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, “রাজ্যএর 79 হাজার বুথ স্পর্শকাতর। এরাজ্যএর পরিস্থিতি কী সেটা আগেই জানানো হয়েছে। যার ফলে একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে রাজ্য জুড়ে। মনে হচ্ছে যেন, সবাইকে হাতকড়া পরানো হয়েছে। ভোটের সময় যেন পুলিশ গুন্ডাদর ডাকা না হয়। কমিশনকে জিজ্ঞেস করেছি, দু’মাসের জন্য এলেন। কিন্তু যারা এই দুমাসের ভয় দেখাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কী কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে? ”

আরও পড়ুন –রাজীবে দিল্লি হঠাৎ নরম, রহস্যে বিস্মিত সিবিআই

উপ মুখ্যনির্বাচন আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠকের পর অন্যান্য  রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের মত নিজের মতামত জানালেন বামফ্রন্টের রবিন দেব। তাঁর দাবি, ভোটে যেন সিভিল ভলেন্টিয়াদের নিযুক্ত না করা হয়। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, “অবাধ ও শান্তিপূর্ণ বোটের বিষয়েও। সেটা কী আদৌ সম্ভব? শাসক দলই স্বয়ং নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে চলেছে।“  এদের ব্যবস্থা না করলে অবাধ ভোট সম্ভব নয় বলে জানান এই বাম-নেতা। এছাড়াও তিনি বলেন, শুধু স্পর্শকাতর এলাকায় নয়। সবর্ত্রই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রুট মার্চ করা উচিত।”

শেষ পর্যন্ত কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই এখন দেখার।

আরও পড়ুন –রাজ্যে 22 হাজার বুথ ‘স্পর্শকাতর’,খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন