নবাগতদের বরণ করার ঠেলায় বঙ্গ-বিজেপির পুরোনো নেতারা কোনঠাসা, ক্ষোভ বাড়ছে

এসবিবি : ভোট দোরগড়ায়। অথচ 11 এপ্রিল ভোট হবে যে দুই কেন্দ্রে সেই কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রের প্রার্থীর নামও বঙ্গ-বিজেপি জানাতে পারেনি। দ্বিতীয়, তৃতীয় দফার ভোট যথাক্রমে 18 এবং 23 এপ্রিল। ওই দুই দফায় ভোট হবে মোট 8 কেন্দ্রে। সেখানেই অনিশ্চিত প্রার্থীর নাম। প্রার্থীকে সামনে রেখে প্রচারের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার পরিবর্তে, বঙ্গ-বিজেপি এখনও ব্যস্ত অন্য দল ভাঙ্গানোর খেলায়।

আরও পড়ুন –দেশের প্রথম লোকপাল হতে চলেছেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি পিনাকীচন্দ্র ঘোষ

রাজ্য নেতাদের একাংশের এ ধরনের কাজে ক্ষুব্ধ দলের জেলাস্তরের নেতা-কর্মীরা। শুধু তাই-ই নয়,প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়টি নিয়ে দলের অভ্যন্তরে তীব্র কোন্দল শুরু হয়ে গিয়েছে। ভোটের মুখে অন্য রাজনৈতিক দলগুলি থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়াচ্ছেন কিংবা যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন একাধিক প্রভাবশালী নেতা ৷ দিল্লিতে দলের সদর দফতরে এ রাজ্যের নতুন নেতাদের দলে অবাধে স্বাগত জানানো হচ্ছে ৷ মিনিটে মিনিটে গুজব রটছে, তৃণমূল বা অন্য দল থেকে অমুক অমুক নেতা গেরুয়া শিবিরে সামিল হচ্ছেন। দলের 2-3জন নেতা বলেই চলেছেন, ধামাকা-দার নেতা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে। দলবদলে এসব নাকি ট্রেলার, আসল সিনেমা শুরুই হয়নি।

আরও পড়ুন –নির্বাচনের 48 ঘণ্টা আগে ইস্তাহারও ঘোষণা করা যাবে না,নির্দেশ কমিশনের

দিল্লিতে বসে অন্য দলের নানা সাইজের নেতাদের বিজেপিতে সামিল করানোর কাজকে একদমই মানতে পারছেন না বিজেপির জেলাস্তরের নেতা-কর্মীরা। দলের শীর্ষস্তরের জনাকয়েক নেতার এ ধরনের কাজ দেখে জেলাস্তরে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।
প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি দলের পুরনো নেতারা লোকসভা নির্বাচনের টিকিট পাবেন না ? অন্য দল থেকে আসা লোকজনকেই সব টিকিট দেওয়া হবে? তাহলে এতদিন ধরে নানা নির্যাতন সহ্য করে দলের পতাকা যারা জেলায় জেলায় তুলে ধরলেন, তাঁরা ঢালাওভাবেই বাদ ? জেলা নেতৃত্বের অনেকেরই প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা এইসব ‘কুমড়ো’ শ্রেনীর নেতাদের থেকে অনেক বেশি। তবুও তাঁদের ছাঁটা হচ্ছে পরিকল্পিত ভাবেই। বিজেপির জেলাস্তরের নেতা-কর্মীদের কথা, ঢালাওভাবে অন্যদলের যে সব লোকজনকে আনা হচ্ছে, এদের প্রত্যেকেই রাজ্যে বিজেপির নেতাদের থেকে বড়, যোগ্য, অভিজ্ঞ – এমন ধারনা কেন হচ্ছে ? তাহলে ভোটও তারাই করুক।

আরও পড়ুন –তৃণমূলের দুই তারকা প্রার্থীর বিরুদ্ধে টলিউডেরই দুই তারকাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাতে চাইছে রাজ্য বিজেপি

এদিকে আরও এক ‘সঙ্কট’ রাজ্য বিজেপির অন্দরে। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নাকি বলেছে, রাজ্য কমিটির সাধারন সম্পাদকরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। তাঁদের সক্রিয় থাকতে হবে সামগ্রিক ভোটের কাজে। এই নির্দেশের ফলে দলের একাধিক সাধারন সম্পাদক, যাদের এবার প্রার্থী হওয়ার কথা, তাঁরা বিমর্ষ হয়ে আছেন। দলের একাংশের বক্তব্য, এমনিতেই পুরনো নেতা-কর্মীরা নবাগতদের চাপে কোনঠাসা। তার ওপর যদি তাঁদের প্রার্থী হওয়ার অধিকারও কেড়ে নিয়ে নব্য-বাহিনীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তাহলে এতদিন ধরে দলটা যারা বাঁচিয়ে রাখলো, তাঁদের অসম্মানই করা হচ্ছে। এর কু-প্রভাব দলের তৃণমূলস্তরে পড়তে বাধ্য।

আরও পড়ুন –মনোহর পরিক্কর আশঙ্কাজনক, রাজ্যজুড়ে চলছে প্রার্থনা