রবিবারের বাবুইবাসা : 17.03.19

ভালো থেকো

সুনন্দ সান্যাল

পূর্ণেন্দু পাহাড়ী, বয়স 72, বাড়ি দেশপ্রিয় পার্কে। এক দিন অন্তর অন্তর বা কোনও কোনও সপ্তাহে সোমবার আর বৃহস্পতিবার নিজেই গাড়ি চালিয়ে চলে যেতেন কসবার খাদ্যান্বেষী নামের একটি বাঙালী খাবারের দোকানে। এই দোকানে বসে খাওয়ার জন্য কোন সু-ব্যবস্হা ছিলো না, দোকানের সামনে 10-12টা চেয়ার থাকত, মূলত দোকান থেকে সবাই খাবার কিনে বাড়ি নিয়ে যেতো, মানে টেক অ্যাওয়ে কাউন্টার। তবে কেউ ওখানে খেতে চাইলে তার ব্যবস্হা ছিলো। দোকানটিতে কম্বো অফার বেশি চলতো, তার মধ্যে বিখ্যাত ছিলো লুচি আর কচি পাঁঠার ঝোল।
এরকমই একদিন পূর্ণেন্দু পাহাড়ী গিয়ে পৌঁছালেন খাদ্যান্বেষী দোকানে লুচি আর পাঁঠার মাংস খেতে। কিন্তু দোকানের কোন কর্মচারী তাঁর দেওয়া অর্ডারে কোনরকম কর্ণপাত করলো না। কিছুক্ষণ পর দোকানের মালিক পরিতোষ সেন বাইকে করে দোকানে এলেন। বাইকটা পার্ক করার পর পূর্ণেন্দু পাহাড়ীর হাত ধরে দোকান থেকে দু-পা সরিয়ে নিয়ে গিয়ে বললেন “কাকু আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আপনাকে আর আমি কোনরকম খাবার দিতে পারবো না।” পূর্ণেন্দু পাহাড়ী অবাক হলেন এবং বললেন “কেন? আমি কি টাকা দি না? না কি আপনারা ভাগাড়ের মাংস রান্না করে বিক্রি করছেন?” পরিতোষ মুচকি হেসে উত্তর দিলেন “আপনার ছেলে রণজিত আমার কলেজের বন্ধু। গতকালই অ্যাপে ভিডিও চ্যাট করার সময় কথায় কথায় আপনার কথা উঠলো, তখনই আপনার ছেলে, গাড়ির নম্বরটা জানার পরই 100 শতাংশ নিশ্চিত হয়ে জানালো নিশ্চিত আমার বাবা। ডক্টর আপনাকে অনিয়ম করতে বারণ করা সত্ত্বেও অনিয়ম করছেন, এটা ভালো নয়। তাই আপনাকে আর আমি খাবার দিতে পারবো না। আপনাকে তো নিয়ম মেনে ভালো ও সুস্হ থাকতে হবে।” পূর্ণেন্দু পাহাড়ী নিরাশ হলেন এবং বললেন “ভালো থাকার মানে জানো ? জীবনে চলার পথে ভালো থাকার কারণগুলো খুঁজে যাওয়াই ভালো থাকা। প্রতিনিয়ত সেই কারণগুলো খুঁজে যাওয়াই জীবন। ছেলে মানুষ করেছি, সে এখন নিজের যোগ্যতায় বিদেশে, বিয়ে দিয়েছি, এক মেয়ের বাবা হয়েছে, এদেশে ফেরার সম্ভাবনাও নেই, বউ তো অনেক আগেই ছেড়ে চলে গেলো। আমি always একটি মতাদর্শে বিশ্বাসী quality over quantity, আর মন খারাপ করা, stress, depression এগুলোই তো শরীর খারাপের প্রধান কারণ, medical fact তো তাই বলে।” এই কথা বলেই তিনি তাঁর গাড়ীর অভিমুখে হাঁটতে লাগলেন, দু পা এগিয়ে আবার বললেন “আমি যেহেতু quality তে বিশ্বাসী তাই আর অন্য কোনও দোকানে গিয়ে লুচি, মাংস খাবো না, কারণ তোমার দোকানের খাবার লা জবাব, কিন্তু বাড়িতে রান্নার লোককে দিয়ে মাঝে মাঝে রান্না করাবো। আর আমি ভালো থাকবো, ভালো থাকার কারণগুলো খুঁজেও যাবো, ভালো আছি বলে থমকে যাবো না। তোমার বন্ধুকে জানিয়ে দিও।”
পাঁচ বছর পর, পূর্ণেন্দু পাহাড়ী তাঁদের ফ্ল্যাটবাড়ির  ছ’তলার বীরেন সমাদ্দারের মেয়ের জন্মদিনে তাঁদেরই ফ্ল্যাটের ছাদে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গেছেন। পোলাও আর চিকেন প্লেটে নিয়েছেন আচমকা পিছন থেকে একজন বললেন “কাকু, ভালো থাকার কারণগুলো খুঁজছেন তো ?” পূর্ণেন্দু পাহাড়ী ঘুরে গিয়ে দেখলেন আরে এ তো সেই খাদ্যান্বেষী দোকানের মালিক, আবার ঘুরে গিয়ে প্লেটের থেকে অল্প পরিমাণ পোলাও মুখে দিয়ে বললেন “হ্যাঁ, অবশ্যই, এটা তো একটা চিরকালীন প্রক্রিয়া, তার মধ্যে একটি প্রধান কারণ তো আমার হাতে। তোমার দোকানের কি খবর? আমি তো আর ওদিকে যাই না।” পরিতোষ সেন কিছুটা আফসোসের সুরে বললেন “দোকানটা আর নেই, এখন আমি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের ব্যবসা করছি সাথে ক্যাটারিং। তবে আপনার ছেলের খবর পেয়ে খুবই খারাপ লাগে।” পূর্ণেন্দু পাহাড়ী আরও একটু পোলাও আর মাংস মুখে দিয়ে বললেন “look at me, at the age of 77+ গোগ্রাসে মাংস খাচ্ছি, আর আমার ছেলের মাংস খাওয়ায় নিষেধ, খেলেও আবার গ্রাম, পিস হিসেব করে খাওয়া, যেন রেশন দোকান, খুব তো নিয়ম মেনে চলতো, কি হলো? হাজার রকমের রোগ নিয়ে বসে আছে, স্ত্রীয়ের সঙ্গে separation, মেয়ে ওখানে hostel এ মানুষ হচ্ছে। ছেলে আর বউমা আমায় খুব বলতো বাবা, তুমি বটবৃক্ষ, আমাদের guide করবে।পরে বুঝলাম, শুধু বলার জন্য বলা ওই কথাগুলো। Guide করলাম, বোঝালাম কিন্তু শুনলো না কেউ একটি কথাও, যে যার নিজের মতো। stress, tension, depression এর চরমে পৌঁছে গেছে ওরা, আর রোগ টেনে নিয়ে এসেছে। এই সব দেখবো জীবনে ভাবতেও পারিনি। তবে এটাই জীবন, কিন্তু এইসব ভেবে মন খারাপ বা অযথা চিন্তা করে শরীর খারাপ করিনি আমি। যাই হোক, বাদ দাও। তুমি তোমার ব্যবসায় উন্নতি করো। এগিয়ে যাও। God Bless. তবে একটা কথা মাথায় রেখো সবসময় জীবন একটাই, উপভোগ করো, ৭০ বছর পর্যন্ত বাঁচলে বাঁচো, কিন্তু নিজের মতো করে বাঁচো, quality of life better হওয়া উচিত, than quantity,আর হ্যাঁ, চলতি পথে ভালো থাকার কারণগুলো খুঁজে যাও। বুঝলে? পরিতোষ সেন আবারও মুচকি হেসে বললেন “yes uncle, understand.” পূর্ণেন্দু পাহাড়ী হেসে বললেন “তোমার এই মুচকি হাসিটা খুব সুন্দর, এটাই যেন মুখে লেগে থাকে।” দুজনেই জোড়ে হেসে উঠলেন।

 

*******************************************

মানুষ

সৈয়দ হুমায়ুণ রানা

বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গিয়েও আমি অক্ষত ছিলাম;
সামান‍্যতম চোট পাইনি
কারণ সেটা ছিল, সাদা মানুষের সৃষ্ট স্বর্গধাম।
রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে এমন হোঁচট খেলাম
আমার বাম পা-টাই গেল ভেঙ্গে;
রাস্তাটি কোনো কালো মানুষ কেটে রেখেছিল
আমি সারাজীবনের জন‍্য পঙ্গু হোলাম;
আমার আকাশ অন্ধকারে ঢাকা—-
পিউ কাঁহা,পিউ কাঁহা বলে ডেকে গেল
একটি পাখি; আমার বৈশাখী টা গেল কোথায়?
আঁধার ঘুজির বুকে,সেটাই আমি খুঁজে মরি…..

*******************************************

সানডে স্পেশাল রেসিপি : ব্রোকলি ও পনিরের চিকেন স্যুপ

স্বাস্থ্যকর ও উপাদেয় খাবার হিসেবে স্যুপের জুরি মেলা ভার। এই স্যুপ খাওয়ার জন্য অনেকেই রেস্টুরেন্টমুখী হন। কিন্তু জানেন কি, বাড়িতেই তৈর করা যেতে বিভিন্ন ধরনের স্যুপ। এরকমই এক ভিন্ন ধারার স্যুপের রেসিপি হল ব্রোকলি ও পনিরের চিকেন স্যুপ। কীভাবে বানাবেন দেখে নিন রেসিপি।

উপকরন : আধ কাপ মাখন, এক কাপ পিয়াজ কুচি, আধা কাপ ময়দা, চার কাপ লো ফ্যাট দুধ, দুই কাপ জল, 250 গ্রাম পনির, 500 গ্রাম বোনলেস চিকেন, চার কাপ ব্রোকলি ছোট ও কুচি করে কাটা,  দুই চামচ চিকেন স্যুপ ফ্লেভার্ড পাওডার, তিন কাপ হলুদ পনির ক্রিম বা পেষ্ট করে নিন,এক চামচ লঙ্কা গুঁড়ো, নুন পরিমাণমতো।

রান্নার পদ্ধতি : প্রথমে ফ্রাইং প্যানে মাখন ও পিয়াজ দিয়ে মাঝারি আঁচে ভেজে নিন। কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করার পর ময়দাও দিয়ে দিতে হবে।  বাদামি রং ধারণ করলে দুধ দিয়ে ভালো করে নাড়তে থাকুন। এরপর পনিরের টুকরোগুলি দিয়ে গ্যাস ওভেনের আঁচ বাড়িয়ে দিন। পনিরের টুকরোগুলি গুলে না যাওয়া পর্যন্ত ফুটতে দিন।

পরবর্তী পর্যায়ে বোনলেস চিকেন, ব্রোকলি ও চিকেন স্যুপ ফ্লেভার্ড পাউডার দিয়ে আরও 15 মিনিট ফুটতে দিতে হবে। নামানোর আগে পনির ক্রিম বা পেষ্ট, লঙ্কা গুড়ো, নুন ছড়িয়ে দিন ব্রোকলি-পনির-চিকেন স্যুপে।

*******************************************