কুরুচিকর মন্তব্যের উত্তর দিলেন বামপ্রার্থী, সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল

এসবিবি : বিরোধী দলের প্রার্থী সম্পর্কে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের কুরুচিকর মন্তব্যের নাম না করে জবাব দিলেন দক্ষিণ কলকাতার বামপ্রার্থী। এমন শানিত জবাবে নিশ্চিতভাবেই বিপাকে পড়বে তৃণমূল-শিবির।

রবিবার কলকাতার ‘মহানাগরিক’ তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সিপিএম এবং বিজেপির প্রার্থীর উদ্দেশ্যে কিছু মন্তব্য করেছিলেন। সেই মন্তব্য সীমা ছাড়ায় শালীনতার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ওঠে ওই ধরনের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে।
দক্ষিণ কলকাতার  বামপ্রার্থী অধ্যাপিকা নন্দিনী মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে শহরের মেয়রের মন্তব্য ছিলো এই রকম, “কে যেন সিপিএমের থেকে দাঁড়িয়েছে? কে তুমি নন্দিনী আগে তো দেখিনি”। এই মন্তব্যই শেষ নয়। ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীর নাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি। সেই প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিম একইসঙ্গে বলেছেন, “এর পর কোনও ফরেন মাল আসবে। বিজেপি আনবে”।

আরও পড়ুন –বিমানবন্দরে নাটক, কে সেই রহস্যময়ী?

শহরের প্রথম নাগরিকের মুখে এহেন মন্তব্যে মাথা হেঁট সংস্কৃতির পীঠস্থান কলকাতার। তবুও তৃণমূল-আশ্রিত যে সব তথাকথিত বুদ্ধিজীবী নির্বাচন কমিশনে রাজ্যকে ‘স্পর্শকাতর’ বলার প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলেন, সোমবার দুপুর পর্যন্ত তাঁদের একজনও মুখ খোলেননি মন্ত্রীর ওই নিম্নশ্রেনির মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে। অবশ্য এই ইস্যুতে তাঁরা মুখ খুললে অনেক কিছুই হারাতে হতে পারে তাঁদের।

তবে যে মহিলাপ্রার্থীর বিরুদ্ধে এই মন্তব্য মেয়র তথা মন্ত্রী মহোদয় করেছেন, দক্ষিণ কলকাতার সেই বামপ্রার্থী অধ্যাপিকা নন্দিনী মুখোপাধ্যায় জবাব দিয়েছেন। এই জবাবটি ফিরহাদ হাকিমকে ঠিক নয়, নন্দিনীদেবী দক্ষিণ কলকাতার ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন,
“মন্ত্রী যে গানের লাইনটি ব্যবহার করেছেন আমার সম্পর্কে, সেটি আমার প্রিয় নায়কের লিপে একটি জনপ্রিয় বাংলা গান। কিন্তু আমরা ছোটবেলায় দেখতাম এলাকার লুম্পেনরা এই গানটিকে ইভটিজিং-এর জন্য ব্যবহার করতো। এখন সেই লুম্পেন-সংস্কৃতিই রাজ্যের মন্ত্রীর মুখে। ভাবুন তাহলে রাজ্যের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে ?”

আরও পড়ুন –এ দেশে রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দলের সংখ্যা জানলে কপালে উঠবে চোখ

কারও নাম না করেই বামপ্রার্থী যেভাবে ‘লুম্পেন’, ‘ইভ-টিজিং’ শব্দগুলি শাণিতভাবে ব্যবহার করেছেন, তা ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল-মিডিয়ায়। ওই সোশ্যাল মিডিয়াতেই নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলেছেন, বিরুদ্ধ দলের প্রার্থী সম্পর্কে মেয়র-মন্ত্রী ব্যবহার করছেন “ফরেন-মাল” শব্দটি, গানের কলি ব্যবহার করে উপহাস করছেন এক মহিলা-প্রার্থীকে, এভাবে মহিলাদের অপমান করা সত্ত্বেও তাঁর দল নীরব কেন?”
বলা হয়েছে, “এই ধরনের সাব-স্ট্যাণ্ডার্ড লোককে কলকাতার মতো সংস্কৃতির পীঠস্থান কলকাতার মেয়র করা হয়েছে কোন যুক্তিতে ?”

আরও পড়ুন –মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ার দেওয়ালেই লাইন দিয়ে ফুটেছে পদ্মফুল