মমতাকে স্বৈরাচারী বলেছিল শুভেন্দু, এবার বিজেপিকে ও আসন পাইয়ে দেবে : বিস্ফোরক অধীর

এসবিবি : লোকসভা নির্বাচনের মুখে ভেস্তে গিয়েছে বাম-কংগ্রেস ভোট। প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে রাজ্যে 42 টি আসনেই প্রার্থী দেবে কংগ্রেস। এরপর সোমবার মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন অধীর চৌধুরী। এদিন প্রদেশ কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের এই প্রাক্তন সভাপতি। তিনি স্পষ্টতই জানিয়ে দেন, “এই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়াবেন আবু হেনা। কংগ্রেসের যে জোট প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল সেটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই কংগ্রেস তার মতো করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সেই সুবাদে মুর্শিদাবাদ জেলার তিনটি আসন কংগ্রেস তার নিজের ক্ষমতায় লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবং মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আবু হেনাকে দাঁড় করানো হচ্ছে।  মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের মানুষ আবু হেনার মতো ব্যক্তিত্বকে পেয়ে আমাদের সাধুবাদ জানিয়েছে।” আবু হেনা মুর্শিদাবাদে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানোয় কংগ্রেসর একা লড়াইয়ের পথ প্রশস্ত হয়েছে। আর বহরমপুরে অর্থাত অধীর তাঁর নিজের কেন্দ্রে আরএসপি প্রার্থী দিলে কংগ্রেসের কাছে তা চাপ হয়ে যাবে বলে সাংবাদিক বৈঠকে জানান তিনি। অন্যদিকে, প্রার্থী ঘোষণার আগেই বহরমপুর ও জঙ্গিপুর কেন্দ্রে দেওয়াল লিখনও শুরু করে দিয়েছে কংগ্রেস।

আরও পড়ুন –নৌকাযাত্রা দিয়ে অভিনব ভোট প্রচার শুরু প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর

আবু হেনা লালগোলার কংগ্রেস বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আবদুস সাত্তারের ছেলে। বাবার কেন্দ্র থেকে বাবার মতোই বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তবে, তাঁর বাবা সাত বারের বিধায়ক। আর তিনি তিন বারের। মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে আবু হেনাকে প্রার্থী করার বিষয়ে অধীর জানান, “মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস শক্তিশালী। তাই আবু হেনাকে প্রার্থী করলে ভালো হবে।” এই একই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রতীকে লড়বেন নওদার বিধায়ক আবু তাহের।  ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে ভোটের প্রচার। মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে দেওয়াল লিখন শুরু করে দিয়েছেন সিপিএম এর সাংসদ বদরুদ্দোজা খান। এদিকে বিজেপি এখনও তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। তবে বামেদের সঙ্গে জোট না হওয়ায় নিজের কেন্দ্রেই চতুর্মুখী লড়তে হচ্ছে অধীর চোধুরীকে। চাপের মুখে পড়ে  অধীর বলেন, “আগেও চতুর্মুখী লড়াই করে জিতেছি। এই লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সুবিধা পাবে।”

আরও পড়ুন –ব্যুমেরাং হয়ে ‘ট্রেলার’ ফিরছে, খগেন মুর্মুর বিরুদ্ধে বিজেপি’র পোস্টার

জোট যে ভেস্তে যাবে তার আভাস পাওয়া গিয়েছিল রবিবারই। তার আগে পর্যন্ত বাম-কংগ্রেস জোটের সম্ভাবনা ছিল। ফলে, এই জোটের কথা ভেবেই মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে বামেদের বিরুদ্ধে কোনও প্রার্থীই দেয়নি কংগ্রেস। এবং বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রে কোনও প্রার্থীকেই দাঁড় করায়নি বাম শরিক আরএসপি।

আরও পড়ুন –মিমি–নুসরতের বিরুদ্ধে হন্যে হয়ে সেলেব প্রার্থী খুঁজছে বঙ্গ- বিজেপি

এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে শাসক দলকে আক্রমণ করে অধীর বলেন, শাসকদলকে 12 কোটি টাকা চাঁদা তুলে দিয়েছেন মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক। সেই সঙ্গে একই কাজ করে চলেছেন অ্যাডিশনাল এসপিও। এঁরা তৃণমূলের তোলাবাজ। জেলাশাসকের তো আবার নিজস্ব কোটা থাকে টেন্ডারে। যার জন্য শাসক দলকে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দেন তিনি। তবে, কংগ্রেস এসব  সহ্য করবে না। সরকারের কাজে নিযুক্ত লোকেরাই যদি এমন করে তাহলে  দুর্নীতি দূর হবে কী করে? আমরা জেলা শাসকের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি। এছাড়াও অনুব্রত মন্ডলের নকুলদানা দাওয়াইকে বিঁধে তিনি বলেন, ভোটের মুখে একের পর এক দাওয়াইয়ের কথা বলে চলেছেন শাসকদলের নেতৃত্বরা। নকুলদানা, পাচন, মিহিদানা কোথা থেকে আসবে? আর কোথায় ঢুকবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা পাচনের কথা বলে, মানুষকে মারধর করে জোর করে ভোট করাতে চাইছে এখানে। যা শুধু মুর্শিদাবাদ কেন গোটা রাজ্যের মানুষের কাছে অপমানজনক। এরপর অধীর চৌধুরীর মুখে শোনা যায় একটি বিস্ফোরক মন্তব্য। তিনি বলেন,  “শুভেন্দু আমার সঙ্গে রাহুলের বাড়ি গিয়ে বলেছিলো, মমতা স্বৈরাচারি। আমি কংগ্রেস করতে চাই। এবার বিজেপিকে কথা দিয়েছে 4-5টা আসন পাইয়ে দেবো। বিধানসভার আগে আমায় দেখতে হবে।” যদিও তৃণমূল শিবিরের দাবি, এবার বহরমপুরে অধীরের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাবে। রাজনৈতিক লড়াইয়ে পেরে না উঠে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতেই ভুল বকছেন অধীর।

আরও পড়ুন –পরিক্করের মৃত্যুতে’রাষ্ট্রীয় শোক,আজ বিজেপির দলবদল বা প্রার্থী ঘোষণা নাও হতে পারে