জাতীয় স্তরের সমীক্ষায় এ রাজ্যে কার ক’টা আসন

এসবিবি : সপ্তদশ লোকসভা ভোটের আগে এ রাজ্যের প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষায় যে ছবি উঠে এসেছে তা হতাশ করছে তৃণমূল এবং বিজেপি, দু’পক্ষকেই। একইসঙ্গে পথে বসিয়েছে বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসকেও। Times Now-এর প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষায় উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের এমনই চিত্র।

বিজেপির জাতীয় সভাপতি বলেছিলেন কমপক্ষে 23টি আসন বিজেপি এবার পাবেই। বিজেপির এই আশা বা স্বপ্ন, এই নির্বাচনে পূরণ হচ্ছে না বলেই আভাস দিচ্ছে সমীক্ষা।

আরও পড়ুন- দোল ও হোলিতে 2 দিনই সরকারি ছুটি, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

একই সঙ্গে সমীক্ষা জানাচ্ছে তৃণমূলের 42-এ 42 পাওয়ার চ্যালেঞ্জও পূরণ হচ্ছে না। আর এই সমীক্ষা একেবারেই পথে বসিয়েছে বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসকে। 2014-র নির্বাচনে কংগ্রেস পেয়েছিলো 4টি আসন। সিপিএম জয়ী হয় 2 আসনে। সমীক্ষা বলছে, এই দুই পক্ষকেই এবার ফিরতে হবে শূন্য হাতে। সিপিএম বা কংগ্রেস 2019-এর6 লোকসভা নির্বাচনে খাতাই খুলবে না বলে Times Now জানাচ্ছে।

এবারের নির্বাচনের আবহ একটু অন্যরকম। তৃণমূল কংগ্রেস এবার ভোটে যাচ্ছে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসানোর লক্ষ্যে। সেই লক্ষ্য পূরণে তৃণমূলকে বাড়াতে হবে নিজেদের আসন সংখ্যা। 2014-র নির্বাচনে তৃণমূলের ঝুলিতে গিয়েছিলো মোট 42 আসনের 34টি। কংগ্রেস পেয়েছিলো 4 আসন। সিপিএম এবং6 বিজেপি’র পক্ষে যায় 2টি করে আসন। তৃণমূলের লক্ষ্য দিল্লি, সে কারনেই দলনেত্রী 42-এ 42 পেতে চাইছেন। আর সমীক্ষা বলছে, আসনবৃদ্ধি তো দূরের কথা, 2014-র প্রাপ্ত আসন থেকে তৃণমূল 3টি আসন কম। তৃণমূলের কাছে এটা মহা বিপর্যয়।

আরও পড়ুন- এসএসসির অনশনরতদের পাশে শঙ্খ ঘোষের সংহতি বার্তা

সমীক্ষা বলছে এবার এ রাজ্যে অভাবনীয় উত্থান হবে বিজেপির। এবার 11টি আসন পেতে পারে বিজেপি। 2014-তে আসন ছিলো 2টি। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের ভিত্তিতে বিজেপির পক্ষে এই ফল আশাতীত হলেও, ধাক্কা খাচ্ছেন খোদ অমিত শাহ। তাঁর দাবি, বিজেপি পাবে 23 আসন। শাহকে হতাশ করে আসন আসছে অর্ধেকেরও কম।

ওদিকে সমীক্ষা রিপোর্ট রাজ্য থেকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে বামফ্রন্ট€ এবং কংগ্রেসকে। বামফ্রন্টের পক্ষে এই ফল খুব একটা অস্বাভাবিক না হলেও, কংগ্রেসের বহরমপুর আসন পাওয়া মোটামুটি নিশ্চিত বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারনা। ওদিকে জঙ্গিপুরে প্রাক্তণ রাষ্ট্রপতির পুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের জয়ী হওয়া উচিত সর্বদলসম্মত প্রার্থী হিসাবেই। যে কোনও কারনেই হোক জঙ্গিপুরে দুর্বল প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল। বিজেপির প্রার্থীও তেমনই হওয়ার সম্ভাবনা। তাহলে জঙ্গিপুর আসন কেন কংগ্রেসের হাতছাড়া হবে, বলা কঠিন।

আরও পড়ুন- সমৃদ্ধি এখন চোখের মণি, এমন কী করলো সে?

তবে, গোটাটাই সমীক্ষা। সমীক্ষা শুধুই একটা আভাস। সমীক্ষার ফল পুরোটাই মিলেছে, এমন ঘটনা দেশে ঘটেনি। তাই এই সমীক্ষাকে রাজ্যের ভোটের চূড়ান্ত ফল হিসাবে ধরে নেওয়া ভুল হবে। কিন্তু এই সমীক্ষা থেকে এটুকু অন্তত ধরে নেওয়াই যায় যে সাংগঠনিকভাবে বিজেপি এ রাজ্যে অনেকটাই মজবুত হয়েছে।

সমীক্ষা-রিপোর্ট

● লোকসভা আসন = 42

● ভোট প্রাপ্তি

□ তৃণমূল – 39 %
□ বিজেপি – 32 %
□ বামফ্রন্ট – 15%
□ কংগ্রেস – 08 %
□ অন্যান্য – 06%

● আসনচিত্র

□ তৃণমূল – 31
□ বিজেপি – 11
□ বামফ্রন্ট – 00
□ কংগ্রেস – 00
□ অন্যান্য – 00

আরও পড়ুন- অর্জুনের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনছে তৃণমূল