সিপিএমের ভোটে জেতা বিরোধী দলনেতাই এখন সক্রিয় জোটবিরোধী!

কলি পারভিন

2016 সালে সিপিএমের সঙ্গে জোট না করলে বা সিপিএম সদস্য-সমর্থকদের ভোট না পেলে চাঁপদানির বিধায়ক হওয়া যে আবদুল মান্নানের কপালে ছিল না তা হুগলির কংগ্রেস কর্মীরাও স্বীকার করেন। শুধু বিধায়ক হওয়াই নয়, বিরোধী দলনেতার পদে এখনও যে তিনি আছেন এবং একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন সেটাও মূলত সিপিএম তথা বামেদের দয়াতেই। কারণ কংগ্রেসের যতজন বিধায়ক ইতিমধ্যেই দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন এবং তারপর কংগ্রেসের আসনসংখ্যা এখন যা দাঁড়িয়েছে তাতে সংখ্যার বিচারে আর বিরোধী দলনেতা থাকার কথাই নয় মান্নান সাহেবের। বামেরা মহা উদারতা দেখিয়ে কংগ্রেসের বর্তমান সদস্যসংখ্যার নিরিখে বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে এখনও প্রশ্ন তোলেনি আর সেই সুযোগ নিয়ে মান্নান সাহেব এখন সেই বামেদেরই জ্ঞান দিচ্ছেন!

আরও পড়ুন-আজই ঘোষণা হতে পারে বিজেপি প্রার্থীদের নাম, সম্ভাব্য তালিকা দেখে নিন

তিনি বিরোধী দলনেতা পদে থেকে এক ডজনের বেশি বিধায়কের তৃণমূলে যাওয়া আটকাতে পারেননি, মানস ভুঁইঞার মত কট্টর কংগ্রেসিও তৃণমূলে চলে গেছেন, পঞ্চায়েত ভোটের সময় জেলায় জেলায় তৃণমূলের হাতে মার খাওয়া সমর্থকদের পাশে একদিনও তাঁকে দেখা যায়নি, কংগ্রেস কর্মীদের উজ্জীবিত করা দূরের কথা, পঞ্চায়েতে হিংসার বিরুদ্ধে তাঁকে কড়া কথা বলতেও শোনেনি কেউ। সেই আবদুল মান্নানের হঠাৎ এই ভোট বাজারে আত্মসম্মান জেগে উঠেছে। তৃণমূল-বিজেপিকে হারাতে জোট দরকার বলে রাহুল গান্ধীও মানছেন, কিন্তু এখানকার বিরোধী দলনেতা বলছেন আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে সিপিএমের সঙ্গে জোট করা অসম্ভব। অদ্ভুত বিষয় হল, পঞ্চায়েতে তৃণমূলের হাতে মার খেয়ে কংগ্রেস কর্মীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারলে তাঁর আত্মসম্মান জাগে না, কংগ্রেসের টিকিটে জেতা বিধায়করা দলে দলে তৃণমূলে যোগ দিলেও তাঁর আত্মসম্মান জাগে না, বামেদের সমর্থনের সুযোগ নিয়ে সংখ্যা না থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দলনেতার পদ আলো করে বসে থাকতে তাঁর আত্মমর্যাদায় আঘাত লাগে না, শুধু লোকসভা ভোটে বাম-কংগ্রেস ঐক্যের প্রসঙ্গেই আত্মসম্মান?

আরও পড়ুন-নীরব মোদির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল লন্ডনের আদালত

এখন আত্মসম্মানের ইস্যু তুলছেন যাঁরা, তাঁরা প্রকারান্তরে কংগ্রেসের বর্তমান সাংসদদেরও জেতার পথে বাধা তৈরি করছেন। বাম-কংগ্রেস ঐক্য না হলে বেশিরভাগ আসনেই তৃতীয় বা চতুর্থ হওয়ার জন্য নামতে হবে মান্নান সাহেবের দলের প্রার্থীদের। কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন অধীর চৌধুরী, আবু হোসেনরা। দলীয় প্রার্থীদের আত্মসম্মান বজায় রেখে হারার কথাই কি বলতে চাইছেন মান্নান সাহেব? কংগ্রেস প্রার্থীদের জেতার সম্ভাবনা বাড়লে তাঁর তো খুশি হওয়ার কথা! তাহলে আত্মসম্মানের অজুহাত তুলে জোট ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা কেন করলেন জোটের ভোটে জেতা বিধায়ক? সমস্যা তো 2016-তেও ছিল। বরং আরও বেশি ছিল প্রথমবার এধরনের অবস্থান দুদলের কর্মীদের বোঝানোর ক্ষেত্রে। সেই তুলনায় এবারের ঐক্য দুদলের নীচু তলায় অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। দু-একটি কেন্দ্রের জন্য গোটা প্রক্রিয়ায় বাগড়া দিয়ে কার সুবিধে করা হচ্ছে তা মানুষ বিচার করবেন। আর সত্যিই আত্মসম্মান থাকলে আবদুল মান্নান কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে হুগলির কোনও একটি লোকসভা কেন্দ্রে জিতে দেখিয়ে দিন।