হিন্দি সিনেমায় হোলি বিভিন্ন সময়ে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে

এসবিবি: ধর্মীয় আবেশে মোড়া থাকলেও বিনোদনে এই দোল এককালে নাচ-গান সমৃদ্ধ অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। আর হিন্দি বলয়ে দোল নয় রাধা-কৃষ্ণের মিলনমেলায় হোলিই প্রসিদ্ধ। তবে ভারতীয় সিনেমায় এই উৎসব এতই ব্যাপক যে এর প্রতিদ্বন্দ্বী দ্বিতীয় কেউ নেই। হিন্দির তুলনায় বাংলা সিনোমায় হোলি অনেক পরে এসেছে। আটের দশকে ‘একান্ত আপন’ ছবিতে আশা ভোঁসলে ও কবিতা কৃষ্ণমূর্তির গাওয়া ‘খেলব হোলি রঙ দেব না তাই কখনও হয়’ বাংলায় সাড়া ফেলে দিয়েছিল। ‘বাদল’ ছবির বাবুল সুপ্রিয়র ‘এসেছে হোলি এসেছে’, ‘লক্ষ্যভেদ’ ছবির ‘এল রে এল রে হোলি এল রে’, ‘ক্রিমিন্যাল’ ছবিতে ‘খেলব হোলি তোমার সাথে’ গানগুলি একসময়ে দোলের দিন পাড়ায় পাড়ায় হই হুল্লোড় করে গাওয়া হত।
তবে হিন্দি সিনেমায় হোলি বিভিন্ন সময়ে কোনও না কোনওভাবে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে হোলি উৎসব পালনের পথিকৃত ছিলেন রাজ কাপুর। নিজের আর কে স্টুডিওতে সকাল থেকেই হোলির আসর বসাতেন তিনি। ইন্ডাস্ট্রির নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রায় সব সেলিব্রেটিরাই হাজির হতেন সেখানে। দিনভর চলত লাড্ডু, ভাঙ সরবত, সবশেষে ভুরিভোজ। আর কে স্টুডিওর দেখাদেখি প্রভাত স্টুডিও, প্রসাদ, কমলিস্তান স্টুডিও আরম্ভ করে ফিল্ম স্টারদের নিয়ে হোলির উৎসব। এখন অবশ্য আর কে স্টুডিওর সেই ধারাবাহিকতা অনেকটাই কমে এসেছে। এছাড়া অমিতাভ বচ্চনও সহ অনেক অভিনেতাই এখন নিজের বাড়িতে আলাদা করে হোলি পালন করে থাকেন।

আরও পড়ুন- দেদার ছাড় বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে

হোলি নানাভাবে ধরা দিয়েছে হিন্দি সিনেমায়। 1957 সালে মেহবুব খানের ‘মাদার ইন্ডিয়া’ ছবিতে নৌসাদের সুরে শামসাদ বেগম ‘হোলি আই রে কানহাই’ গানটি গেয়ে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিলেন। সিনেমায় হোলির অনেক গানই বিখ্যাত হয়ে আছে। আনন্দ বক্সির লেখা আর ডি বর্মনের সুর করা ‘কাটিপতঙ্গ’ ছবির ‘আজ না ছোড়েঙ্গে বাস হামজোলি খেলেঙ্গে হাম হোলি’ গান আজও হোলির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। গানটি গেয়েছিলেন কিশোরকুমার ও লতা মঙ্গেশকর। ‘শোলে’ ছবির ‘হোলি কে দিন’, কামচোর ছবির ‘মল দে গুলাল মোহে আই হোলি আই রে’, জখমি ছবির ‘আই রে আই রে হোলি’, ধনবান ছবিতে ‘রং দি প্রীত নে রং লো’ গানগুলি মাইলস্টোন হয়ে আছে। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে সিলসিলা ছবির অমিতাভ বচ্চন গীত ‘রং বরষে ভিগি চুনারওয়ালি,,,,,গানটি।

আরও পড়ুন- লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটনে মিঠুন চক্রবর্তী