ককপিটে “ক্যাপ্টেন রোহন”! স্মৃতির সরণিতে তিনদশক পিছনে ফিরলেন স্কুল শিক্ষিকা

এসবিবি: তোমার নাম কী?

তিনবছরের শিশুটির আধো আধো গলায় অকপট উত্তর, “ক্যাপ্টেন রোহন”। নার্সারি স্কুলে ভর্তি হতে গিয়ে স্কুল টিচারকে নিজের প্রথম পরিচয়টা এভাবেই দিয়েছিল ছোট্ট রোহন।

তারপর পার হয়ে গিয়েছে 30টা বছর। ঘটে গিয়েছে অনেক ঘটনা। পাল্টেছে অনেক কিছু, কিন্তু পাল্টায়নি “ক্যাপ্টেন রোহন”!

গত রবিবার, দিল্লি থেকে শিকাগোর এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে সওয়ার করছেন সুধা সত্যেন। এমন সময় ঘোষণা, “এই বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন রোহন ভাসিন।” মহূর্তের মধ্যে স্মৃতির সরণি বেয়ে তিন দশক আগে ফিরে গেলেন স্কুল শিক্ষিকা সুধাদেবী।

বাস্তবে ফিরে এলেন খানিক পরেই। বিমান সেবিকাকে অনুরোধ করলেন, পাইলটের সঙ্গে একবারটি সাক্ষাৎ করিয়ে দেওয়ার। তাঁর অনুরোধ রইলো। দেখা হলো পাইলটের সঙ্গে। স্মৃতি বিজড়িত হয়ে চোখটা ঝাপসা হয়ে গেল সুধাদেবীর। তারপর সেই ছোট্ট ক্যাপ্টেন রোহনেট সঙ্গে ফিরে গেলেন স্কুলের দিনগুলিতে।

টুইটারে রোহন আর তাঁর ছোটবেলার স্কুল শিক্ষিকার ছবি পোস্ট করে বিষয়টি জানিয়েছেন, রোহন ভাসিনের মা নিবেদিত দেবী। দুটি ছবি পাশাপাশি পোস্ট করেছেন তিনি। একটি 30 বছর পর রোহন আর সুধাদেবীর পুনর্মিলন আর একটি 1990-91 সালের ছবি। যেখানে স্কুলে ভর্তি হতে গিয়ে শিক্ষিকা সুধা সত্যেনের কোলে ছোট্ট রোহন।

 

আর পাঁচটা বাচ্চার মতো স্কুল শিক্ষক বা সরকারি চাকুরে নয়। ছোটবেলা থেকেই আকাশে ওড়ার ইচ্ছে রোহনের। ছোট বয়সেই ঠিক করে ফেলেছিল, বড় হয়ে পাইলট হবে সে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বপ্নও বাড়তে থাকে। সেই স্বপ্নপূরণ হয়। ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে রোহনের। গর্বিত তাঁর শিক্ষিকাও। দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে পাইলট ট্রেনিং করছেন রোহন।

মা নিবেদিতা ও বাবা রোহিত ভাসিনও পাইলট। সারা বছর ধরেই আকাশে ওড়াওড়ি চলতে থাকে ভাসিন পরিবারের চার সদস্যের। মাসে মাত্র পাঁচ-ছ’দিনই একসঙ্গে কাটাতে পারেন তাঁরা। তবে তাতে খেদ নেই ভাসিনদের।

তিন পুরুষ আগে শুরুটা করেছিলেন রোহনের দাদু ক্যাপ্টেন জয়দেব ভাসিন। 1954-য় দেশের সাত জন পাইলটের মধ্যে প্রথম কম্যান্ডার হন তিনি। এর পর নিজের ছেলে রোহিত ভাসিনকেও পাইলট বানান জয়দেব। রোহিতকে বিয়ে করে ভাসিন পরিবারে আসেন নিবেদিতা জৈন। বিয়ের সময় নিবেদিতা ছিলেন দেশের প্রথম তিন জন মহিলা পাইলটদের এক জন। তাঁদের ছেলে-মেয়ে রোহন ও নীহারিকা ভাসিনও এখন কম্যান্ডার।