দুই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী ‘নরম’, কিছুটা হতাশ নেতা-কর্মীরা

বাঁদিকে সিদ্ধার্থ নস্কর, ডানদিকে কৃষ্ণ জোয়ারদার আর্য

এসবিবি: বহরমপুর ও তমলুকের মতো কেন্দ্রে বিজেপি’র প্রার্থীরা অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হওয়ায় বিজেপির কর্মী-সমর্থক মহলে কার্যত হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

বহরমপুর কেন্দ্র থেকে দীর্ঘদিন ধরেই জিতে আসছেন কংগ্রেসের অধীর চৌধুরি। এবার তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণ জোয়ারদার আর্য। এই নাম শোনার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন জেলার বিজেপি নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। নাম ঘোষণা হতেই বিজেপির জেলা নেতাদের মধ্যে জল্পনা শুরু হয়, কে এই কৃষ্ণ জোয়ারদার! জেলা বিজেপির নেতারা এখনও তাঁকে চিনে উঠতে পারেননি। বিজেপির দক্ষিণ মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেছেন, “কৃষ্ণ জোয়ারদার আর্য সম্ভবত কলকাতার একটি মঠের মহারাজ। তার বেশি কিছু জানি না।” দলের জেলা কমিটির সহ-সভাপতি শাখারভ সরকার বলেছেন, “ওই মহারাজের আদিবাড়ি সম্ভবত বালুরঘাট।” আর দলের উত্তরবঙ্গের আহ্বায়ক সুভাষ মণ্ডল বলেন, “খুব সম্ভবত শ্যামবাজারের একটি মঠের মহারাজ কৃষ্ণ জোয়ারদার আর্য”। এদিকে এই কৃষ্ণ জোয়ারদার আর্যর বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরে। এ বছর গঙ্গাসাগর মেলায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। দিলীপবাবু সল্টলেকে বাড়ি বদলানোর সময় তাঁর নতুন বাড়িতে পুজো করতে এসেই নাকি ভোটে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তারপরই এই কৃষ্ণ জোয়ারদার আর্যর নাম দেখা যায় অধীর চৌধুরির বিরুদ্ধে পদ্মপ্রার্থী হিসাবে। অধীরবাবুকে গভীর শ্রদ্ধা করেন কৃষ্ণ জোয়ারদার আর্য। বলেই ফেলেছেন, “আমি অধীরবাবুর আশীর্ব্বাদ নেবো। উনি বিজেপিতে এলে বহরমপুরকে লণ্ডন বানাতে পারতেন”। এই মন্তব্যে আরও চটেছেন জেলার বিজেপি নেতা-কর্মীরা।

আরও পড়ুন –প্লাস্টিক ব্যাগে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বাজার করলেন কলকাতার মেয়র !

তমলুকে তৃণমূলের প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারি হলেও এই কেন্দ্রটির সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছেন রাজ্যে জনপ্রিয় তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারি। এই কেন্দ্রে এবার বিজেপি প্রার্থী সিদ্ধার্থ নস্কর। দলীয় সূত্রে খবর, নদিয়ার নবদ্বীপের বাসিন্দা সিদ্ধার্থবাবু অল ইন্ডিয়া কীর্তন, বাউল অ্যান্ড ডিভোশনাল সিঙ্গারস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট শিল্পী সংসদের কর্ণধার। তমলুক কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হিসাবে সিদ্ধার্থবাবুর নাম জানার পরেই ক্ষোভ দেখা দিয়েছে জেলার বিজেপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে। বিজেপি’র তমলুক সাংগঠনিক জেলা নেতারা প্রকাশ্যেই বলছেন এই সিদ্ধার্থ নস্করকে তাঁরা কেউই চেনেন না। সম্পূর্ণ অপরিচিত। এই প্রার্থী বদল করে জেলার বা রাজ্যের কোনও পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিকে প্রার্থী করার জন্য রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে দরবারও করেছেন তাঁরা। কিন্তু দল প্রার্থী বদল করছেনা বলেই জানিয়েছে। বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রদীপ দাস ইতিমধ্যেই বলেছেন, “আমরা প্রার্থী নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারিনি”।

আরও পড়ুন –মেরঠের নির্বাচনী সভা থেকে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

অল ইন্ডিয়া কীর্তন বাউল অ্যান্ড ডিভোশনাল সিঙ্গার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট-এর সর্বভারতীয় সভাপতি সিদ্ধার্থ নস্কর আসলে দক্ষিণ 24 পরগনার ক্যানিং-এর বাসিন্দা। ইদানিং নবদ্বীপে থাকেন। নিজেকে একজন কীর্তনিয়া হিসেবে পরিচয় দিতেই ভালোবাসেন তিনি। সিদ্ধার্থবাবু বলেছেন, “আমি তমলুকে অপরিচিত নই। বহুদিন ধরে তমলুকের নানা জায়গায় কীর্তন গান করেছি”।

আরও পড়ুন –‘পুলিশ ছাড়া এই সরকার এক দিনও টিঁকবে না’, ঘাটালে বিস্ফোরক ভারতী ঘোষ

বহরমপুর এবং তমলুকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অধীর চৌধুরি এবং শুভেন্দু অধিকারির নাম। এই দুই কেন্দ্রে এবার লড়াই দিতে তৈরি ছিলেন দুই জেলার বিজেপি নেতা-কর্মীরা। কিন্তু এই দুই কেন্দ্রে একদমই ‘বহিরাগত’ প্রার্থী হওয়ায় হতাশ কর্মীরা। তবে বিজেপির এক রাজ্য নেতা বলেছেন, “অনেক খোঁজ করেও তেমন প্রার্থী পাওয়া যায়নি। তা বলে তো আসন খালি রাখা যায়না। দলের প্রার্থী তেমন ভোট কাটতে পারবে না, এটা আমরাও বুঝি। কিন্তু তুমুল লড়াই হবে”।

আরও পড়ুন –ফর্মে ফিরলেন বিমান বসু, মমতাকে বললেন ‘কাশ্মীর কি কলি’