ব্যর্থ হলেও চাঁদের মাটিতে ইজরায়েলের ‘বেরেশিট’ মহাকাশযান

মদনমোহন সামন্ত

চাঁদের উত্তর-পূর্বাংশে লাভাময় ‘Sea of Serenity-তে চাঁদের মাটি স্পর্শ করলেও বিশ্বের প্রথম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইজরায়েলের ‘SpaceIL’-এর তৈরি চন্দ্রাবতরক মহাকাশযান ‘বেরেশিট,’Beresheet মুখ থুবড়ে পড়ল চাঁদের বুকেই। ব্যর্থতা সত্ত্বেও 100 মিলিয়ন ডলার প্রকল্পের প্রথম ইজরায়েলি চন্দ্রাভিযান ওই দেশকে চাঁদের মাটিতে Lunar Lander পাঠানোর ক্ষেত্রে আমেরিকা, রাশিয়া এবং চিনের পরে চতুর্থ স্থানে পৌঁছে দিল। এবছর 21 ফেব্রুয়ারি SpaceX কোম্পানির SpaceX Falcon 9 রকেটে চড়ে “বেরেশিট” উৎক্ষিপ্ত হয়ে 6 সপ্তাহ ধরে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেছিল। এক সপ্তাহ আগে 4 এপ্রিল বেরেশিট চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করে । মাত্র দু’দিনের আয়ুর চার পা-ওয়ালা বেরেশিট-এ ছিল ম্যাগনেটোমিটার, যা চাঁদের রহস্যাবৃত চৌম্বকক্ষেত্র পরীক্ষা করত। সেইসঙ্গে একটি রেট্রো-রিফ্লেক্টর প্রতিফলক ছিল।

 


এটি য লেজার রশ্মিকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে চাঁদের সঠিক দূরত্বের জানান দিত। এছাড়াও বেরেশিট সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল ইজরায়েলের জাতীয় পতাকা, ইংরেজি ভাষাতে সম্পূর্ণ উইকিপিডিয়া, বাইবেলের কপি এবং ইজরায়েলি শিশুদের আঁকা ছবি । বেরেশিট-এর আয়ু মাত্র দু’দিনের হলেও ইজরায়েলের ক্ষেত্রে তা অসীম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্। প্রথমত, বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে চাঁদের মাটিতে “সফট ল্যান্ডিং” করতে পারার প্রযুক্তির পরীক্ষা এবং দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তি সফল হলে এক বিশাল অঙ্কের পুরস্কার প্রাপ্তি হত। যার ফলে ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তিগত প্রকল্প হাতে নিতে পারত তারা।

আরও পড়ুন- রাসেল-ভীতি চিন্তায় রেখেছে দিল্লি ক্যাপিটালকে

প্রসঙ্গত, ভারতও এবছরেই চন্দ্রাবতরণ করবে “চন্দ্রযান-2″এর মাধ্যমে। অসফল হয়েও আমেরিকা, পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, জাপান, ভারত এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির পরে বিশ্বের সপ্তম দেশ হিসাবে ইজরায়েল চাঁদের কক্ষপথ পরিক্রমা করল। চাঁদের বুকে অবতরণের ক্ষেত্রে শেষ পর্যায়টি সব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হয়। এক্ষেত্রেও শেষ পর্যায়ে মহাকাশযানটির মূল ইঞ্জিন অকেজো হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যে ইঞ্জিনিয়াররা যদিওবা সেটিকে চালু করতে সক্ষম হন, ততক্ষণে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় মহাকাশযানটি চাঁদের বুকে মুখ থুবড়ে পড়ে বলে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর ভারতীয় সময় রাত্রি একটার সামান্য আগে “প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে” ঘোষণা করেন তাঁরা। চাঁদের মাটি থেকে 13 কিলোমিটার উপরে বেরেশিট পৃথিবীতে প্রথম সেলফি ছবিটি পাঠাতে সক্ষম হলেও বিপর্যয়ের ফলে চাঁদের বুক থেকে পৃথিবীতে আর কোন তথ্য পাঠাতে পারেনি । দুর্ঘটনার পরে ইজরায়েলের য়াহুদ-এ অভিযান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নিতানিয়াহু সবাইকে আশ্বস্ত করেন এই বলে যে “প্রথমবারে যদি সফল না হন, তাহলে আবার চেষ্টা করুন”। ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের মহাকাশ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার ওফার ডোরোন বিষণ্ণতার সুরে বলেন, “আমাদের মহাকাশ অভিযান ব্যর্থ হয়েছে”। SpaceIL-এর কর্ণধার মরিস কান বলেন, “যাই হোক, আমরা এবার পারলাম না। কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছিলাম। আমার মনে হয় আমরা গর্বিত হতে পারি”।