প্রযুক্তির দৌলতে কি ফিকে হয়ে যাচ্ছে হালখাতার রঙ

এসবিবি: একটা সময় ছিল যখন নতুন বছর শুরুর উৎসবের কেন্দ্রে থাকত লাল রঙের হিসেবের খাতা। কিন্তু এখন সেই ছবিটা বদলে গিয়েছে।তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, প্রযুক্তির দাপটেই কি দিন দিন গুরুত্ব হারাচ্ছে সেই চল? বড়বাজারে হিসেবের খাতার পাইকারি ব্যবসায়ী থেকে শিয়ালদহের হাল খাতা তৈরির কারখানা মালিক প্রত্যেকের গলায় কিন্তু এক সুর।

আরও পড়ুন- মথুরায় 110 ফুট গভীর কুয়ো থেকে উদ্ধার পাঁচ বছরের শিশু
আসলে হিসেবের খাতার জায়গা নিয়ে নিয়েছে কম্পিউটার!বছর শুরুর হালখাতার উৎসবের কথা মনে করলেই চোখে ভেসে উঠবে লাল সালু মোড়ানো মোটা হিসেবের খাতা। পরবর্তী সময়ে যে কাজে লাল কাগজ সাঁটা খাতাও ব্যবহার করা হত।কিন্তু কেন এমন নাম?বড়বাজারের সোনাপট্টিতে প্রায় 90 বছর ধরে এই হালখাতার পারিবারিক ব্যবসা করছেন শিবেন ঘোষ। এই বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, ‘‘হাল মানে নতুন। নতুন বছরের ব্যবসার খাতায় নাম তোলার প্রক্রিয়াকে হালখাতা বলা হত সেই নবাবের সময় থেকে। পরে হিসেবের সেই লাল খাতাটিই ‘হালখাতা’ নামে পরিচিত হয়ে যায়।’’ বছর শুরুর আগে সেই লাল খাতাই কেনার ভিড় জমত বড়বাজারের অলিগলিতে।যা বর্তমানে উধাও।

আরও পড়ুন- ‌স্ট্রংরুমের ভিতর ছবি তুলে ধৃত টিআরএসের পোলিং এজেন্ট
বড়বাজারের অন্যান্য খাতা বিক্রেতাদেরও একই হাল। আশি বছরের পুরনো দোকান অনাদি দত্তের। তাঁর কথায়, হালখাতার জন্য লাল সালুতে বাঁধা টালিখাতা ব্যবহার করা হত। কিন্তু এখন ওই খাতার আর বিক্রি নেই বললেই চলে। সাধারণ লাইন টানা খাতা কিনে নিয়ে যান অনেকে।

আরও পড়ুন- দ্বিতীয় দফার ভোটেও বহু বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে না


হিসেবের খাতা তৈরির একাধিক কারখানা রয়েছে শিয়ালদহের বৈঠকখানা রোডে। প্রায় চল্লিশ বছর ধরে সেখানে কারখানা চালাচ্ছেন রফিকুল ইসলাম।তাঁর কথায়, ‘‘আগে কালীপুজোর পর থেকেই নববর্ষের খাতা তৈরির কাজ শুরু হত। এখন নববর্ষের মাস দেড়েক আগে কাজ শুরু করি।’’ তবে হিসেবের খাতা ব্যবহারের চল কমে যাওয়া নিয়ে আফশোস করতে নারাজ অনেকেই। ওষুধ ব্যবসায়ী তপন দত্তের বক্তব্য, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আপনাকে চলতেই হবে। এখন কম্পিউটারেই মানুষ বেশি স্বচ্ছন্দ। আমি নিজেও ল্যাপটপ ব্যবহার করি।প্রতীক হিসেবে খাতাটা থাকবে।প্রযুক্তির যুগে পরিবর্তনকে মেনে নিতে হবে। তবে হালখাতা উৎসবটা হারিয়ে যাবে, সে কথা ঠিক নয়।