সেই তো মমতাই, তাহলে এততো নেতানেত্রী…!

এসবিবি : ফের প্রমানিত তিনিই একমাত্র রক্ষাকর্ত্রী। বাকি সব ‘দুধেভাতে’। বিরোধীরা মাঝেমধ্যেই বলে থাকেন, ‘তৃণমূলে একটাই পোস্ট, বাকি সব ল্যাম্পপোস্ট’। ততটা না হলেও বিষয়টা অনেকটাই এ রকমই।

ভোট প্রচারের শুরুর দিন থেকেই উত্তরবঙ্গ নিয়ে বিজেপির একটা ‘সন্তুষ্টি’র হাওয়া তুলেছিলো। ওখানকার মোট 8 আসনের 5টিতেই চমক দেখাবে তারা। উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের নেতার সংখ্যা বড় কম নয়। তার ওপর শীর্ষস্তরের একাধিক নেতা উত্তরের বিভিন্ন জেলার ‘পর্যবেক্ষক’। বিজেপির ওই প্রচার ঠেকাতে ব্যর্থ প্রায় সবাই। কোচবিহার কেন্দ্রের ভোটের দিন তো সোশ্যাল মিডিয়ায় ধরা পড়েছে ওই জেলার তৃণমূল সভাপতির বেহাল, হতাশ কিছু মন্তব্য। শেষপর্যন্ত তাঁকে শরণাপন্ন হতেই হয় উত্তরবঙ্গ সফররত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই। টানা 12/13 দিন উত্তরবঙ্গে ঘাঁটি গেড়ে বসে শেষ পর্যন্ত সবকিছু সামাল দিতে হলো মমতাকেই। ভোটের ফল কি হবে, তা জানা যাবে 23মে। তবে এটা ঠিক, মমতা নিজে এভাবে মাটি কামড়ে উত্তরবঙ্গে না থাকলে, শাসক দল কিছুটা বেহাল থাকতোই।

আরও পড়ুন –দ্বিতীয় দফার ভোটেও বহু বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে না

এরপর নিশ্চিতভাবেই তৃণমূলনেত্রী শুরু করবেন কলকাতার দু’টি আসন-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রচার। বিজেপি বা অন্য বিরোধীরা বেশ কয়েকটি আসনে ‘এগিয়ে আছে’ বলে দাবি করছে। হয়তো কিছু আসন তৃণমূলকে হারাতে হবে। কিন্তু ‘স্টিয়ারিং’ মমতা নিজের হাতে তুলে না নিলে, তৃণমূলের ফল আরও খারাপ হবে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারনা। আসলে, দলের বয়স বাড়লেও তৃণমূলে সামগ্রিক ‘প্রকৃত’ জননেতার অভাব প্রকট। জেলাস্তরে কয়েকজনের অসীম প্রভাব আছে, এটি বাস্তব। কিন্তু রাজ্যস্তরে এখনও তাঁরা ততটা প্রবাবশালী হতে পারেননি। ‘রাজ্যনেতা’ হিসাবে অন্য এমন কয়েকজনকে প্রজেক্ট করা হয়েছে, যাদের একমাত্র যোগ্যতা তাঁরা মন্ত্রিসভার সদস্য। কিছু ‘রাজ্যস্তরের’ নেতা ভোটপ্রচারে এমন কিছু অতি উৎসাহী
মন্তব্য করে ফেলছেন, যাতে দলের থেকেও বেশি লাভবান হচ্ছে বিরোধী শিবির। অথচ দলে এনারা শীর্ষনেতা হিসাবেই প্রজেক্টেড। এই ধরনের নেতাদের তৈরি করা ফাঁকফোকর ঢাকতে উত্তরবঙ্গের মতো কলকাতা এবং দক্ষিণেও ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে তৃণমূল সুপ্রিমোকেই। কারন, ভোটের সময় ডাকসাইটে সব প্রার্থীরাও তাকিয়ে থাকেন নেত্রীর দিকেই।

আরও পড়ুন –জাতীয় ভোটযুদ্ধের রাউন্ড-আপ

তৃণমূল স্বীকার করুক বা না করুক, বাস্তব এটাই, এবারের ভোটে ‘কাউন্টার’ একটা হাওয়া আছে, যেটা 2016-র বিধানসভা নির্বাচনেও ছিলোনা। এই হাওয়া ‘ঝড়’ হবে কিনা বলা মুশকিল। সবটাই নির্ভর করছে সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরই। কারন, উনিই তো সব থেকে ভালো জানেন, দলের বাকি নেতানেত্রীদের সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্যতা কতখানি!
তো, বিশ বছর পরেও আজও যদি সবই সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সামলাতে হয়, তাহলে একটা ছোট্ট প্রশ্ন উঠেই আসে, এই দলে এততো ‘নেতানেত্রী’র কাজটা কী?

আরও পড়ুন –উড়তে গিয়ে রানওয়েতে ভেঙে পড়লো বিমান, তারপর কী হল জানেন?