বিশেষ সাক্ষাৎকারে অকপট পার্থ, কী বললেন দেখুন

লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফা শেষ। ভোটারদের মন কোন দিকে সেটার কি সামান্য আচঁ পাওয়া গেল। তা নিয়ে সংবাদ বিশ্ব বাংলায় মুখোমুখি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। নিজের বাসভবনে একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন “সংবাদ বিশ্ব বাংলা”র প্রতিনিধি প্রীতম সাহাকে।

প্রশ্ন: কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার। দাঁড়িপাল্লা কী বলছে?

 

পার্থ: দাঁড়িপাল্লা একদিকের ভারে ছিঁড়ে পড়ে গিয়েছে। আমরা দুটো কেন্দ্রে অন্তত দেড় লক্ষ ভোট জিতবো।

 

প্রশ্ন: ব্রিগেড-মিটিং-মিছিল সর্বত্র একটাই স্লোগান আপনাদের। 42-এ 42। অঙ্কটা কী?

 

পার্থ: খুব সহজ অঙ্ক। 42টা কেন্দ্রে আমরা প্রার্থী দিয়েছি। 42টাই জিতবো। বিরোধী শিবির তো এখনও  প্রার্থী ঠিক করতে পারলো না। মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দেবে। 42টা কেন্দ্রে উনি আমাদের প্রার্থী।

 

প্রশ্ন: বিজেপি ও বলছে 22-23 সিট নিশ্চিত। কতটা বাস্তবসম্মত দাবি?

 

পার্থ: এ সব জেগে জেগে স্বপ্ন দেখার মতো কথা। নিজেদের কর্মীদের বোকা বানানোর ফর্মুলা। ওরা যে জিরো পাবে সেটা বলে ফেললে তো আর চিৎকার চেঁচামেচি করতে পারবে না।

 

প্রশ্ন: বিজেপি যে আজকের তারিখে আপনাদের প্রধান প্রতিপক্ষ সেটা কি অস্বীকার করতে পারবেন?

 

পার্থ: কিছু জায়গায় দাঙ্গা করে, চিৎকার করে, মানুষকে ভুল বুঝিয়ে, ভয় দেখিয়ে ওরা নিজেদের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলার মানুষ অন্যায়-এর রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেয় না। 23 মে মানুষ-ই মুখোশটা খুলে দেবে।

 

প্রশ্ন: সিপিএম-এর অভিযোগ আপনারাই নাকি বিজেপি কে বাংলায় শক্ত জমি করে দিয়েছেন?

 

পার্থ: ওরা কী বলছে সেটা একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক। আসলে বিজেপি এই রাজ্যে ঢুকতে পেরেছে সিপিএম আর কংগ্রেসের ব্যর্থতার জন্য। নিজেদের দলটাকে শেষ করে বিজেপিকে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিয়েছে।

 

প্রশ্ন: আপনারা কেন্দ্রে থার্ড ফ্রন্ট গড়ার জন্য জোর দিচ্ছেন। থার্ড ফ্রন্টের নেতা কে?

 

পার্থ: সেটা মানুষ ঠিক করবে। ভোটার পর আঞ্চলিক দলগুলো মিলেমিশে সেটা ঠিক করবে। এত তাড়া কীসের। সবুরে মেওয়া ফলে।

 

প্রশ্ন: বিজেপি কিন্তু বার বার কটাক্ষ করছে থার্ড ফ্রন্ট কে।

 

পার্থ: গদি টলমল করছে তো তাই ভয় পাচ্ছে। জানে একবার ক্ষমতা চলে গেলে সব পর্দা ফাঁস হয়ে যাবে। থার্ড ফ্রন্ট যদি এতটাই গুরুত্বহীন হতো তাহলে তাদের এত পাত্তা দেওয়ার কী আছে। এ সব ভয় থেকে বলছে।

 

প্রশ্ন: এই নির্বাচনে আপনারা বার বার বেঙ্গল মডেল তুলে ধরছেন দেশবাসীর কাছে। এই বেঙ্গল মডেলটা কী?

 

পার্থ: মানুষের জন্য আমরা যে কাজ করেছি সেটাই আমাদের মডেল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ পর্যন্ত যা যা প্রকল্প চালু করেছেন তাতে সব মানুষ উপকৃত হয়েছে। দেশের সেরা প্রকল্পগুলোর মধ্যে বাংলার বেশির ভাগ প্রকল্পই প্রথম সারিতে জায়গা করে নিয়েছে। আমরা লোক ঠকাই না। যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় সেটা 100 ভাগ পূরণ করা হয়। বিজেপি-র মতো মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করি না।

 

প্রশ্ন: বারাকপুর এবারের অন্যতম নজরকাড়া কেন্দ্র? কি ফল হবে মনে হচ্ছে?

 

পার্থ: অর্জুন আমাদের অনেক দিনের সঙ্গী। কিন্তু এই ভাবে ও বিশ্বাসঘাতকতা করবে সেটা আমরা ভাবতে পারিনি। ও যখন যা চেয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাই ওকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ওই যে লোভ! মানুষকে শেষ করে দেয়। ব্যারাকপুরের মানুষ এর জবাব দেবে। আমরা 1 লাখের বেশি ভোট জিতবো।

 

প্রশ্ন: অর্জুন সিংহের মতো নেতার দল ত্যাগ কী দলের ব্যর্থতা নয়?

 

পার্থ: লোভীকে আপনি যতই দেবেন কুলোতে পারবেন না। বিধানসভা নির্বাচনেও তো ওর কথা শুনেই নোয়াপাড়া সিট ওর পরিজনকে দেওয়া হয়েছিল। আসলে কী জানেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকে ভোট দেয়। একবার তার হাত সরে গেলে কী হয়, সেটা এবার টের পাবে অর্জুন।

 

প্রশ্ন: মিমি চক্রবর্তী, নুসরাত জাহানরা এবার সরাসরি নির্বাচনের ময়দানে। বিরোধী শিবির বলছে সেলিব্রিটি স্টেটাসকে কাজে লাগাচ্ছে তৃণমূল? এই ফর্মুলা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারবে?

 

পার্থ: তৃণমূল কংগ্রেস সব শ্রেণীর, পেশার মানুষ জনকে নিয়ে চলতে পছন্দ করে। সম্মান করে। এতে বিরোধীরা কী বলছে তাতে আমাদের কিছু এসে যায় না। ইটা তো প্রথম নয়, এর আগে দেব, মুনমুন সেন, সোহম অনেকেই দাঁড়িয়েছে। মানুষ ওদের অনেককে জিতিয়েছে। মিমি-নুসরাতকেও আশীর্বাদ করবে।

 

প্রশ্ন: ঝাড়গ্রামের দায়িত্ব আপনার কাঁধে। ওখানে কি আপনাদের প্রার্থী বীরবাহা সোরেনকে নিয়ে একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে সাঁওতাল সম্প্রদায়ে?

 

পার্থ: ওই সব ছোটখাটো সমস্যা হয়েই থাকে। ঝাড়গ্রামে আমরা আগের থেকেও বেশি মার্জিনে জিতবো।

 

প্রশ্ন: তৃণমূল সবসময় গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলে। তাহলে ‘ভবিষতের ভূত’ ছবিটার ক্ষেত্রে এ রকম আচরণ কেন?

 

পার্থ: ছবিটায় এমন কিছু দৃশ্য ছিল যেটা ভোটার আগে রিলিজ হলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারতো। তাই আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। নির্বাচনের পরে রিলিজ হলে কোনো সমস্যাই হত না। সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য ছবিটা দেখানোর নির্দেশ দিয়েছে। আমাদের জরিমানাও হয়েছে। কিন্তু আমি খোঁজ নিয়েছি, দু’চারটে লোকও হচ্ছে না। হবেই বা কী করে, ভূত বলে বাচ্চাদের সিনেমা বলে দেখাচ্ছে অন্য কিছু। মানুষ-ই জবাব দিয়ে দিচ্ছে।

 

প্রশ্ন: নির্বাচনের পর বাংলায় কংগ্রেস আর সিপিএম-এর ভবিষ্যৎ কী?

 

পার্থ: সাইনবোর্ড হয়ে যাবে। যতটুকু জ্বলছে সেটাও চিরতরে নিভে যাবে। টর্চ লাইট দিয়েও খুঁজে পাবে না মানুষ।

 

প্রশ্ন: নির্বাচনের পরে যদি কংগ্রেস কেন্দ্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছায়, তাহলে সেই সময় সরকার গড়তে আপনাদের সাহায্য চাইলে কী করবেন?

 

পার্থ: গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল। তবে একটা কথা বলতে পারি বিজেপিকে আটকানোয় আমাদের প্রধান লক্ষ্য। 2019 বিজেপি ফিনিশ। তারপর অন্য কথা ভাবব।

 

 

 

 

দেখে নিন সেই এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারের ভিডিও ফুটেজ