দর্শক মনোরঞ্জন যাঁদের কাজ, তাঁরা একটি দলের ‘হাতের পুতুল’ হয়ে বদনাম কিনছেন কেন?

এসবিবি: এরাজ্যে নতুন একটি ধারা বহমান। তৃণমূল কংগ্রেসের নানা ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সেজেগুজে বসে থাকতে দেখা যায় বাংলা ছোট ও বড় পরদার একঝাঁক নামি-অনামি শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজককে। তাঁরা হাসি হাসি মুখে হাত নাড়েন, দু-এক কলি গান গেয়ে বা জনপ্রিয় সিনেমার ডায়লগ বলে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আসা কর্মী-সমর্থকদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন আর তারপরই ‘দিদি জিন্দাবাদ’ বলে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রমাণ দিয়ে চুপচাপ বসে পড়েন। এই স্ক্রিপ্টের বাইরে রাজ্য ও দেশের কোনও গভীর সমস্যা নিয়ে এঁদের মুখ থেকে কিছু শোনাও যায় না, শোনার আশাও সম্ভবত কেউ করে না। এরাজ্যে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়া কোনও সিনেমা প্রশাসনিক চাপে বন্ধ করে দেওয়া হলেও একই পেশার এই একঝাঁক শিল্পী মৌনব্রতী হয়েই থাকেন। চেনা স্ক্রিপ্টের বাইরে কিছু বললে অনেক সুযোগ-সুবিধা হারানোর ভয় অথবা অনেক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার লোভেই হয়তো। তাই তৃণমূলের নির্দেশ মান্য করে এরা কখনও প্রার্থী, কখনও প্রচারক, কখনও নিখাদ মোসাহেব। নিজেদের পেশাভিত্তিক কাজের মাধ্যমে দল নির্বিশেষে দর্শকদের মনোরঞ্জন ও আনন্দ দেওয়া যাঁদের কাজ, তাঁরা যখন কোনও একটি রাজনৈতিক দলের হাতের পুতুল হয়ে সুতোর টানে নাচতে থাকেন তা শিল্প ও শিল্পী দুইয়ের পক্ষেই বড় দুঃসময়।

আরও পড়ুন –কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঝাঁটা মারার নিদান তৃণমূল মন্ত্রীর! রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড়

তবে যাঁরা নিজেদের শিল্পীসত্তাকেই সম্মান করেন না, তাঁদের মর্যাদারক্ষার দায় দর্শকরাই বা নেবেন কোন ভরসায়? সম্প্রতি ফিরদৌস বা নূর গাজী ইস্যু রাজ্যের একাংশের শিল্পীদের এই কাণ্ডজ্ঞানহীন কাণ্ডকারখানাকেই আরও স্পষ্ট করল।

আরও পড়ুন –তৃণমূলের পাল্লায় পড়ে ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ হয়ে বাংলাদেশ ফিরতে হল ফিরদৌসকে, লাভ হল কি?