রবিবারের বাবুইবাসা : 21-04-19

স্লিপিং বিউটি

সুনন্দ সান্যাল

দীর্ঘ 11 বছরের প্রেম জীবনের অবসান ঘটিয়ে 15 ডিসেম্বর 1916 খ্রীষ্টধর্ম অনুযায়ী পালার্মো ক্যাথিড্রাল গির্জায় বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন মারিও লোম্বার্ডো ও মারিয়া ট্রেস্টোহিক। মারিও লোম্বার্ডো ইটালীর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পাওলো বসেলীর প্রতিনিধি রূপে পালার্মো শহরে সরকারী কাজ করতেন। মারিও ও মারিয়ার সংসার আলোকিত হয়ে ওঠে 13 ডিসেম্বর 1918 তে, ওইদিন তাদের কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।

মারিও ও মারিয়ার জীবনে বড় হয়ে ওঠা ও শিক্ষার পিছনে অবদান ছিল তাদের শিক্ষিকা রোসালিয়া প্যাসোলির। তাই সেই মহান শিক্ষিকার নামানুসারে কন্যাসন্তানের নাম রাখলেন রোসালিয়া। কন্যাসন্তানের জন্মের পর এতটাই আনন্দিত হয়েছিলো মারিও, যে প্রধানমন্ত্রী পাওলো বসেলীর দফতর থেকে ৬ মাসের ছুটি নিয়ে মেয়ের সঙ্গে সময় অতিবাহিত করলো।

আনন্দ, খুশির সমারোহ চলছিলো মারিওর সিসিলির বাড়িতে, কিন্তু আচমকা 22 নভেম্বর 1920 সালের রাতে তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয় রোসালিয়া, কি বা বয়স তখন রোসালিয়ার। মারিয়া প্রাথমিক সেবা শ্রুশুষা শুরু করলেও মারিও নিশ্চিন্ত হতে পারেন না, ছুটে যান শহরের বিখ্যাত 3 জন চিকিৎসককে ডেকে আনতে। চিকিৎসক অ্যান্টিও মার্সেলি ও চিকিৎসক ডেনমন্স জোনস যেতে চাইলেও চিকিৎসক প্যাট্রিক হোমস রাজি হননি।

মারিও বহুবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও যখন চিকিৎসক প্যাট্রিক রাজি হয়নি, সেই সময় মারিও তার দফতরের ক্ষমতার কথা জানিয়ে প্যাট্রিককে খুন করারও হুমকি দেন, একপ্রকার অসহায় হয়ে হার মানতে হয় চিকিৎসক প্যাট্রিককে।

রীতিমতো মেডিক্যাল বোর্ড বসে মারিওর বাড়িতে, চিকিৎসকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেন কিন্তু শরীরের তাপমাত্রা কমলেও তা ফিরে ফিরে আসছিলো। 1দিন পর চিকিৎসক প্যাট্রিক একটি ওষুধ তৈরি করে খাওয়াতে 1ঘন্টার মধ্যে জ্বর একদম কমে যায়, এবং সেই দিন আর জ্বর আসেনি। মারিও চিকিৎসকের পা ধরে ক্ষমা ভিক্ষা করে ও চিকিৎসকের পারিশ্রমিক দিতে গেলে প্যাট্রিক পারিশ্রমিক না নিয়েই চলে আসেন এবং মারিওকে বলেন “আমি যতদূর জানি, খুনের হুমকির কোন ক্ষমা হয় না, আমি মানুষ, ক্ষমা করবেন ঈশ্বর, তবে আপনি কোন পরিস্হিতিতে খুনের হুমকি দিয়েছেন আশা করি ঈশ্বর সেটা বিচার করে দেখবেন।”

কিছুদিন পেরিয়ে পুনরায়, 12 ডিসেম্বর 1920 রোসালিয়ার জ্বর আসে ও শরীরের গলার কাছে লাল রঙের আস্তরণ দেখা যায়। চিন্তিত হয়ে মারিও ছুটে যান চিকিৎসক প্যাট্রিকের কাছে, প্যাট্রিক রোসালিয়াকে দেখে ওষুধ দিলেও 13 ডিসেম্বর 1920 ছোট্ট শিশু রোসালিয়ার মৃত্যু হয়। চিকিৎসক প্যাট্রিক শোকস্তব্ধ মারিওকে বলেন “বুকে সংক্রমণজনিত কারণেই এই মৃত্যু।”

কান্নায়, দিশাহারা, বাকরুদ্ধ লোম্বার্ডো পরিবার, মেয়ের শরীর আঁকড়ে ধরে বাবার কান্না, চিৎকার করছে, আর মা মারিয়া শোকে স্হবির। মারিও সিদ্ধান্ত নেয় রোসালিয়াকে সারা জীবনের জন্য অমর করে যেতে হবে। যোগাযোগ করে বন্ধু ও পেশায় সর্বকালের সেরা দেহ সংরক্ষক কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বিরোধী আলেফ্রেদো সালাফিয়ার সাথে। আলেফ্রেদো মারিওর অবস্হা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং নিজেকে এক চরম পরীক্ষার মধ্যে ফেলে ঘোষণা করেন “পৃথিবীর সর্বকালের সেরা মমি বানাবো আমি, রোসালিয়ার মৃত্যু হয়নি, রোসালিয়ার মৃত্যু হবে না।”

গ্লিসারিন,জিঙ্কসালফেট,ক্লোরাইড, সালিসাইক্লিক অ্যাসিডের মাধ্যমে রোসালিয়ার মমিটি এমনভাবে সংরক্ষণ করেন আলেফ্রেদো যাতে বহু বছর ধরে সেটি অক্ষত থাকে। “আমি তো প্রধানমন্ত্রী দফতরে কাজ করি, আর তুমি তো সরকার বিরোধী, কেন তুমি আমার কথা শুনে, এতো বড় পরীক্ষার সম্মুখীন হলে?” প্রশ্ন করেছিলেন মারিও লোম্বার্ডো। “শাসক-বিরোধী সম্পর্ক পরে, সবার প্রথম আমিও বাবা- তুমিও বাবা।” সিসিলির কাপুচিন সমাধিতে ছোট্ট রোসালিয়ার মমিটির পাশে বসে মারিও কাঁদতো, কখনও হাসতো, এবং অনেক গল্প করতো, জামা, উপহার সব কিনতো মেয়ের জন্য। স্ত্রী মারিয়া এক-দুবার এমন করতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন না মারিও। মারিও বিশ্বাস করতেন তার বন্ধু আলেফ্রেদোর কথা “রোসালিয়ার মৃত্যু হয় না।”

কালের নিয়মে শোকগ্রস্ত মারিও ও মারিয়ার জীবনাবসান হলেও আজও জীবিত থেকে গেছে ছোট্ট রোসালিয়া। সিসিলির কাপুচিন সমাধিতে আজও রোসালিয়াকে দেখে মনে হয় মাথায় রাণীর ব্যান্ড পড়া, গায়ে চাদর ঢাকা, দুবছরের ছোট্ট একটি শিশু ঘুমিয়ে আছে। বিশ্বের সর্বকালের সেরা দেহ সংরক্ষক আলেফ্রেদোর কথাই সত্যি হয়েছে, রোজ সূর্য উদয় ও সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় রোসালিয়ার চোখের পলক বন্ধ হয় ও খুলে যায়। (বৈজ্ঞানিক কারণ হলো, জিঙ্ক সালফেট মাখা চোখের আস্তরণে সূর্যের আলোর রশ্মি এসে পড়ায় এমনটা মনে হয় দর্শকদের)

রোসালিয়ার নিষ্পাপ নীল চোখে ধরা পড়ে কিছু না পাওয়ার আবেগ, কান্না-হাসি।

(কৃতজ্ঞতা স্বীকার:- প্রফেসর জিওরজিয়া রোমানো)

#############################################

 

।। কবি।।

সৈয়দ হুমায়ুন রাণা

আজকাল চোখে পড়ে, পাড়ার কোনো ছেলে
বড় কবি কিংবা শিল্পী হয়ে উঠেছে;
হঠাৎ করে দু/একটি সাহিত্য ম‍্যাগাজিন
ব‍্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠে নরম মাটিতে
বয়স্ক ক’য়েকটা কোলাব‍্যাঙ মনের সুখে গান গায়
মেঘলা আকাশে কিছু তারা উঁকি মারে–
মাটিতে নেমে এসে,নব‍্যকবিদের হাত ধরে;
তাতে নিজেদের ও স্বার্থসিদ্ধি হয়
‌ মেঘলা আকাশ আলোয় ভরে….
এখানে–ওখানে সাহিত্যের প্রচার–প্রসার
গ্রন্থ প্রকাশ কিংবা সমালোচনায় মুখরিত হয়
সাহিত‍্যের আসর;
এই নিয়েই সুখে থাকে ছেলেরা—-
আর কিছু চাওয়ার নেই, পাওয়ার নেই…

#############################################