রবিবারের বাবুইবাসা : 28-04-19

ধারাবাহিক উপন্যাস

।। জননী ।।

নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ

প্রতাপ রায় বিয়ে করেছিল এলাহাবাদের এক প্রবাসী বাঙালির মেয়েকে। মেয়েটি অপূর্ব সুন্দরী। তার নাম মঞ্জিষ্ঠা। সে যখন কর্মসূত্রে এলাহাবাদে এসেছিল সেইসময় মেয়েটির সাথে তার পরিচয় হয়।

মঞ্জিষ্ঠার বাবা মলয় বসু এবং প্রতাপ একই অফিসে চাকরি করত। মলয় বসুর জন্ম এলাহাবাদে, এখানেই লেখাপড়া, চাকরি সবকিছু।কেন্দ্রিয় সরকারের অধীনে তিনি চাকরি করেন। তাঁরই অফিসে কর্মসূত্রে যোগদিয়েছিল প্রতাপ। এই অফিসে কাজ করেন প্রায় শ’দেড়েক কর্মচারী। একে একে প্রায় সকলের সাথেই প্রতাপের আলাপ পরিচয় হলে ওর মলয় বসুর সাথে তখনো তেমন পরিচয় হয়ে ওঠেনি। একদিন বিশেষ একটি তথ্য জানতে প্রতাপ মলয় বসুর শরণাপন্ন হয়। মলয় বসু শুনেছেন যে, ছেলেটি বাংলা থেকে এসেছে, তার সাথে দেখা করে দুটো কথা বলা বা আলাপ পরিচয়ের ইচ্ছা থাকলেও সময়ের অভাবে তা হয়ে ওঠেনি। অনেকদিন ভেবেছেন যে ছুটির পরে দেখা করে সব জানবেন, কিন্তু কাজের এমনকড়াকড়িযেছুটিরপরেআরমনেইথাকতনা।পশ্চিমবাংলারসরকারিঅফিসহলেআরকথাছিলনা।হাজিরাখাতাতেসইকরলেইব্যাস।কিন্তুএখানেবড্ডকড়াকড়ি।একমুহূর্তকাজেফাঁকিদেওয়ারসুযোগনেই।তবেকড়াকড়িরচেয়েওএখানকারকর্মচারীদেরকাজেরপ্রতিআগ্রহপ্রবল।কেউকেউফাঁকিদেওয়ারচেষ্টাকরলেওঅন্যদেরদেখেআরপারেনা।একেইবলেসঙ্গেরগুণ।অসৎমানুষওসঙ্গেরগুণেসৎহয়েযায়।গ্রীষ্মেরদুপুরেপ্রবলগরমেএলোমেলোবাতাসবইলেওকালবৈশাখীরদাপটেসেইবাতাসএকমুখেপ্রবাহিতহয়।এওসেইরকম।কাজেরসময়কেউঅপচয়করতেচাননা।মলয়বসুতোনয়ই।পরিচয়করতেগিয়েযদিদশমিনিটসময়ওনষ্টহয়তবেসেটাহবেবেশবেদনাদায়ক।

প্রবাসী হলেও মলয় বসুর মূলের প্রতি আকর্ষণ বহুকালের। বাংলা থেকে কেউ এলে তাঁর বেশ আনন্দ হয়। শুধু তিনি কেন, যে কোন প্রবাসী দেশবাসীকে পেলে দেশের আনন্দটুকু চেটেপুটে আস্বাদন করেন। স্বদেশ ও স্বদেশবাসীর সাথে মানুষের একটি আত্মিক যোগ রয়েছে। নাম পরিচয়হীন স্বদেশীও বিদেশ বিভূঁইএ আপনজন হয়ে ওঠে, হয়ে ওঠে আত্মার আত্মীয়। একেই বলে শিকড়ের টান। এমনিতে দেশে সুসম্পর্ক না থাকলেও প্রবাসে দেশবাসীকে আপনজনের চেয়েও প্রিয় বলে মনে হয়। অচেনা পরিবেশে মানুষ সমগোত্রীয় কাউকে খুঁজে বেড়ায়। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই গোত্রের পরিধির বিস্তার ঘটে। গ্রামের মানুষ শহরে গেলে সেই শহরে তার এলাকার মানুষ এলেই তার সাথে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করে। এক রাজ্যের মানুষ অপর রাজ্যে গেলে স্বরাজ্যের মানুষের সন্ধান করে। দেশ ছেড়ে বিদেশে গেলে সেখানে দেশবাসীর সন্ধান পেলে তাকে আপন করে নেয়। ভূপৃষ্ঠ পরিত্যাগ করে মানুষ অতল জলধির তলদেশে প্রবেশ করলে মনুষ্যহীন জলজ প্রাণীদের দেশে যে কোন মানুষকে দেখলেই তাকে আপন করে নেবে। পৃথিবী ছেড়ে চাঁদ, মঙ্গল বা অন্য কোন গ্রহে গেলে সেখানে মনুষ্য বা মনুষ্যেতর অহিংস্র প্রাণীদের মানুষ আপন বলে মনে করবে। এটি মানুষের সহজাত স্বভাব। সেদিক থেকে বিচার করলে মানুষে মানুষে বিরোধের কোন কারণই নেই। তবুও তা হয়, এটাই হয়তো ভবিতব্য!

সে যাই হোক,মলয় বসুর অনেক দিনের অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা আজ পূর্ণ হওয়ার সুযোগ একপ্রকার অপ্রত্যাশিতভাবেই এসে গিয়েছে। তিনি সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ভোলেননি। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে প্রতাপ যখন তার অফিস-কক্ষে ফিরে যেতে উদ্যত হয় সেই সময় মলয়বাবু তাকে ইতস্তত করে অবশেষে পিছু ডাকেন। ইয়ে,মানে শুনেছি আপনি পশ্চিমবাংলা থেকে এসেছেন।

হ্যাঁ, হঠাৎ এই কথা বললেন কেন?

না, মানে আমার দাদুর বাড়িও পশ্চিমবঙ্গে কিনা!

তাই নাকি! বেশ তো! মলয়বাবুর কথা শুনে প্রতাপের মুখটি আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ওষ্ঠদ্বয় প্রসারিত করে জিজ্ঞাসা করে তা কোথায় থাকতেন আপনার দাদু?

রায়গঞ্জে। শুনেছি আপনি বাঙালি। আপনার বাড়ি কোথায়?

আমার বাড়ি আসানসোলে। আপনি রায়গঞ্জে যান?

তেমন যাওয়া হয় না। সেই ছোটোবেলায় বাবার সাথে দু’একবার গিয়েছি; তারপর আর হয়ে ওঠেনি। আর শ্বশুরবাড়িও মথুরায়। শ্বশুরবাড়ি যদি বাংলায় হত তাহলেও বছরে এক আধবার হয়তো যেতে পারতাম। এই ধরুন জামাইষষ্ঠী, দুর্গাপুজো কিংবা ভাইফোঁটা। সেও হল না। কপাল মন্দ আর কী!

কেন, মন্দ কেন? আপনি বিয়ে করে সুখী নন?প্রতাপহঠাৎনির্বোধেরমতোবসকেপ্রশ্নকরেবসে।

না না, আপনার সাথে একটু ঠাট্টা করছিলাম। প্রথম সাক্ষাতেই এতটা ঠিক হয়নি তা জানি। কিন্তু কী আর করব বলুন! আসলে বাঙালি ছেলে মেয়েরা এলেই না আমার কেমন যেন হয়। তারা যেন আমার খুব আপনজন! আপনাকেও তাই মনে করে অনেক কিছু বলে ফেললাম। কিছু মনে করবেন না যেন।

(পরবর্তী অংশ আগামী সপ্তাহে)

###############################################

অ্যাভেঞ্জারস এন্ড গেম

সুনন্দ সান্যাল

দেখতে দেখতে চোখে জল এলো আর মনে পড়ে গেলো গত 13 নভেম্বর 2018, তারিখটির কথা। এই দিনেই প্রয়াণ হয়েছিলো বিশ্ববিখ্যাত, বিশ্ববরেণ্য, কিংবদন্তী চরিত্রস্রষ্টা স্ট্যান লির। বড়ো পর্দায় শেষবারের মতো স্ট্যান লির উপস্থিতি এবং অ্যাভেঞ্জারস এন্ড গেম শিরোনাম সব মিলেমিশে এ যেন এক রাজকীয় সমাপ্তিকরণের চিত্রনাট্য লিখেছেন 5 জন দক্ষ লেখক ক্রিস্টোফার মার্কাস, স্টিফেন ম্যাকফিলি, স্ট্যান লি, জ্যাক কারবি ও জিম স্টারলিন। আর সেই চিত্রনাট্যকে পরিচালনা করে জীবন্ত করে তুলেছেন এবং দর্শকদের প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে তুলে দিয়ে সেই প্রত্যাশা পূর্ণ করেছেন অ্যান্টনি রুশো ও জো রুশো। পরিচালকদ্বয়কে পূর্ণ সহযোগীতা করেছেন অভিনেতারা ও নিজের কাজের মুন্সীয়ানা দেখিয়েছেন ট্রেন্ট ওপালোচ, চিত্রগ্রাহক রূপে।

প্রচন্ড উত্তেজনাপূর্ণ সমাপ্তির গল্প যার প্রতিটা দৃশ্যে ব্যক্ত হয়েছে আবেগঘন মূহুর্ত, হৃদয়স্পর্শী মেলবন্ধন ঘটেছে ভালোবাসা ও মৃত্যুর, দায়িত্ব ও সম্মানের, পরিবার ও বন্ধুত্বের। 21টি চলচ্চিত্র, 11 বছরের পথচলার এই অভিনব সমাপ্তি সত্যি চিত্তাকর্ষক। অবশ্যই অ্যাকশান তো আছেই।

ছবির মূল ভিত্তি ৬ জন সুপারহিরো, আয়রণম্যান, ক্যাপ্টেন আমেরিকা, থর, হাল্ক, ব্ল্যাক উইডো ও হওকি। সুপারহিরোদের বড় পর্দায় উপস্হিতি দর্শকদের মনে উস্কে দেবেই গত ছবিগুলোর স্মৃতিকথা। শুভ অশুভ শক্তির যুদ্ধ যতই বলা হোক না কেন, গভীরভাবে দেখলে থ্যানোস শেষমেষ একজন বড়মাপের দার্শনিক ও সোশিয়োপ্যাথ। তার মূল লক্ষ্য পৃথিবীর যে প্রাকৃতিক সম্পদ সেই সম্পর্কে মানুষকে অবগত করা ও নিজের একটা পৃথিবী তৈরি করা কিন্তু সোশিয়োপ্যাথ বলেই তার পথ নির্বাচন ভুল।

তবে এই ছবির গল্প বলতে গিয়ে পরিচালকদ্বয় কিছুটা গতি মন্হর করে ফেলেছেন, যদিও প্রভাব পড়বে না, ছবির মানের সঙ্গে কোনও আপোষ করেননি কেউই, দর্শকমন সদা আবেগতাড়িত হয়ে থাকবেন এই ছবি দেখতে দেখতে।

শুরু করেছিলেন কিংবদন্তী স্ট্যান লি, শেষও হলো তাঁর দেখানো পথেই, তবে যেখানে শেষ সেখান থেকেই শুরু হয় নতুনের, নতুন গল্পের। চোখ ধাঁধানো দুনিয়ার এই তো সবে শুরু, যে লড়াই করে স্ট্যান লি মার্কিন কমিকস ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাকায় সুপারহিরো ব্ল্যাক প্যান্হারের জন্ম ও প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন, সেই লড়াই, সেই পথচলা থেমে যাওয়ার জন্য নয়, বরং লড়াই আরো নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার, নতুন আবিস্কারের পথে অবিরত এক চালকের এগিয়ে যাওয়া।

“এই বিশ্ব পৃথিবীর একজন সুপার হিরোর খুব প্রয়োজন, যে পৃথিবীর সব প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে গড়ে তুলবে এক অনন্য পৃথিবী, মার্ভেলের চরিত্রগুলোর সেই যোগ্যতা নেই, সেই মহামানবের আগমনের অপেক্ষায় আমি ও আমরা” -স্ট্যান লি

###############################################