রবিবারের বাবুইবাসা : 05-05-19

।।ধারাবাহিক উপন্যাস।।

।। জননী ।।

নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ

আপনার সাথে আলাপ হয়ে ভালোই লাগল। তবে আপনার পরিচয় এখনও সব জানা হল না। একদিন আসবেন আমাদের বাড়িতে। বলেই তিনি প্রতাপের হাতে বাড়ির ঠিকানা সম্বলিত একটি কার্ড ধরিয়ে দিলেন। বললেন, আসবেন কিন্তু।

যেতে পারি, তবে একটা শর্ত আছে।

কী শর্ত?

আপনি আমার বাবার বয়সী। আমাকে ‘আপনি’ বলে সম্বোধন করবেন না।

ঠিক আছে বাবা, ঠিক আছে। এবার থেকে তোমাকে ‘তুমি’ বলেই সম্বোধন করব। বলেই নিজের বাক্যগত অসংগতি সংশোধন করে নিয়ে বলেন, সম্বোধন করব কী, করেই তো ফেলেছি। সত্যি কথা বলতে কী, ছেলের বয়সী ছেলেদের ‘আপনি’ বলতে না আমারও কেমন যেন অস্বস্তি হয়। কিন্তু কিছু করার নেই, এখানকার নিয়ম ‘আপনি’ বলে সম্বোধন করা। তাই অফিসে তোমাকে ‘আপনি’ বলেই সম্বোধন করব।

প্রতাপ মলয়বাবুর প্রস্তাবে সম্মত হলে তিনি প্রতাপের কাছে জানতে চান যে সে কবে তাঁদের বাড়িতে যাবে?

প্রতাপ অনেক সাতপাঁচ ভেবে বলে, যাবো একদিন।

বিদেশ বিভূঁইয়ে এই রকম একজন সহকর্মীকে পেয়ে প্রতাপ বেশ আনন্দিত হয়। সেদিন রাতেই অফিস থেকে বাড়ি ফিরে সে মাকে চিঠি লেখে। মা কেবলই চিন্তা করেন। সে কতবার মাকে বুঝিয়ে বলেছে, তুমি অত চিন্তা কোরো না তো মা। আমার কিচ্ছু হবে না। আমি তো কারও সাতেপাঁচে নেই। আমি নিঃসপত্ন, অজাতশত্রু। কিন্তু কে শোনে কার কথা! কলেজ থেকে ফিরতে একটু দেরি হলেই ব্যাস! রাস্তার মোড়ে এসে ঠাই দাঁড়িয়ে থাকতেন। কতবার সে মাকে বকেছে। চিন্তা করতে করতে যখন ব্যাধিতে আক্রান্ত হবে তখন বুঝবে মজা!

ছেলের অনুযোগে মা পুলকিত হতেন। ছেলে বকলে তাঁর কী ভালোটাই না লাগত। ছেলে তাঁর জন্য কত ভাবে! আবেগে মায়ের কণ্ঠ ভারী হয়ে আসত। ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বলতেন, আচ্ছা প্রতাপ, এখন যদি আমি মরে যাই তাহলে তুই কী করবি!

অভিমানী প্রতাপ বলত, ওসব কথা একদম মুখে আনবে না মা। এসব অলক্ষুণে কথা।

মা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতেন, মানুষ তো চিরকাল বেঁচে থাকে না বাবা! তোর জন্য চিন্তা হয়।

তুমি থামবে মা! বলে সে এই বয়সেও মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদত।

এখন তো সে আরও অনেক দূরে চলে এসেছে। কতদিন মায়ের সঙ্গে দেখা নেই। তাই আনন্দের খবরটা প্রতাপ মাকে চিঠি লিখে জানায়। সেই সময় টেলিফোনের ব্যবহার তেমন ছিল না। চিঠি, টেলিগ্রামই ছিল সম্বল। মা তাই ছেলের চিঠির অপেক্ষায় চাতক পাখির মতো বসে থাকেন। প্রতি সপ্তাহে ছুটির দিনে সে মাকে চিঠি লেখে। মা অসুস্থ, তাই প্রতাপ ট্রান্সফার নিতে চায়নি। অনেক ধরাধরি করেও কোন লাভ না হওয়ায় প্রতাপ চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বাবা অনেক বুঝিয়ে তাকে সেই হঠকারী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে সম্মত করেন।

মায়ের জন্য প্রতাপের ভীষণ মন খারাপ করে। মাকে সে বলে, তোমরা আমার সঙ্গে চলো। আমার কোয়ার্টারে তোমরা থাকবে। মা এক প্রকার রাজি হলেও বাবা বেঁকে বসেন। বাবা এখানেই মানুষ হয়েছেন। তাই বৃদ্ধ বয়সে অন্যত্র গিয়ে আর নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন না বলে তিনি যেতে সম্মত হননি।

প্রতাপ বড়ো হয়েছে, তার বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছেন বাবা। মেয়ে দেখাও শুরু করেছেন, তার মধ্যেই বদলির খাঁড়া! এ দুর্ভাগ্য ছাড়া আর কিছু নয়। অদৃষ্টের উপর দোষারোপ করলেও ভবিতব্য বলে বাবা তা মেনে নিয়েছেন। না নিয়েই বা উপায় কী! চাকরি, মানে চাকরগিরি। চাকর, মানেভৃত্য; ভৃত্যকে তো মনিবের আদেশ মেনেচলতেইহবে! নাহলেতোচাকরিনটহয়েযাবে।

গতকাল ছেলের চিঠি এসে পৌঁছায়। সন্ধ্যাবেলা মা যখন চাকর ছিলেন সেই সময় পিওন এসে  বাড়ির কলিং বেল টেপে। পিওনের গলার স্বর শুনেই মায়ের মন আনন্দে নেচে ওঠে। উঠবেই না বা কেন? ছেলের চিঠির জন্য সর্বক্ষণ যে মায়ের মন উচাটন হয়ে থাকে। মায়ের শুষ্ক বুকে সন্তানের একটি চিঠি যেন অমৃতের সঞ্চার করে। চিঠির মধ্যে মা যেন সন্তানের মুখ দেখতে পান। চিঠি হল মায়ের সাথে সন্তানের যোগসূত্র। তাই প্রতাপের বাবাকে তিনি রান্নাঘর থেকে বলেন, চিঠিটিনা ওতো! মনে হচ্ছে ছেলে চিঠিপাঠিয়েছে। দেখতো কী লিখেছে! সব ঠিক আছে তো!

(পরবর্তী অংশ আগামী সপ্তাহে)

################################################

।।রবিবারের জল খাবারে থাকুক স্যান্ডউইচ।।

রোজ রোজ টোস্ট খেতে কার ভালো লাগে। এদিকে ব্রেকফার্সটে ব্রেড ছাড়া আর কিই বা খাব? এই ভাবনায় ভাবিত অনেকেই। তাই এবারের রবিবারে জল খাবারে থাকুক স্যান্ডউইচ। কীভাবে বানাবেন? দেখে নিন রেসিপি।

উপকরণ

মাংসের কিমা – ২০০ গ্রাম,  ছোট সাইজের পেঁয়াজ – 2টি (কুচি করে কাটা), আদা বাটা – 1 চা চামচ, লঙ্কা গুঁড়া– স্বাদ মতো, হলুদ – সামান্য, সয়াবিন তেল – আড়াই চামচ,  ধনেপাতা কুচি-1 চা চামচ, মাখন – 8 চা চামচ, পাউরুটি– 8 পিস, নুন – পরিমাণ মতো

প্রণালী
প্রথমে মাখন, পাউরুটি, ধনেপাতা বাদে বাকি সব উপকরণ একটু জল দিয়ে তেলে ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে। কিমা সেদ্ধ হলে জল ঝড়িয়ে নিতে হবে। তারপর ধনে পাতা মিশিয়ে দিন। এবার এটা ঠাণ্ডা করুন। পাউরুটির ওপরে মাখন লাগান। একটার ওপরে পুর দিয়ে আরেকটি পাউরুটির স্লাইস চাপা দিন।
পুর দেওয়া হলে ছুরি দিয়ে তিনকোনা করে কেটে নিন। পাউরুটির চারপাশের শক্ত অংশ ফেলে দিতে হবে। চাইলে সঙ্গে শশা কুচি দিতে পারেন। এবার স্যান্ডউইচ মেকারে কিছুক্ষণের জন্য বেক করে পরিবেশন করুন।

 

################################################