রবিবারের বাবুইবাসা : 26-05-19

।।ধারাবাহিক উপন্যাস।।

।। জননী ।।

নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ

অবশেষে পরের রবিবার প্রতাপ মলয় আঙ্কেলের বাড়ি যায়। বিকেল চারটে নাগাদ প্রতাপের কোয়ার্টারের সামনে একটি কোয়ালিস গাড়ি এসে থামে। চালক প্রতাপের খোঁজ করলে দারোয়ান গিয়ে ডেকে দেয়। প্রতাপ বেশ সুন্দর পোশাক পরে, সুসজ্জিত হয়ে দামি পারফিউমে নিজেকে মুড়ে গাড়িতে ওঠে। আধঘণ্টার মধ্যে গাড়ি এসে থামে একটি বাড়ির সামনে। বাড়ি নয়তো! বাংলো। তিনতলা বাড়ি, কী নেই তাতে! ডাইনিং, ড্রয়িং, স্টাডিরুম, কনফারেন্স হলের মতো বিশাল একটি কক্ষ। দামি দামি সব আসবাব। দেখে চোখ জুড়িয়ে যায় প্রতাপের। প্রতাপের অবস্থাও খারাপ নয়। দোতলাবাড়ি, জায়গাজমি, এমনকি গাড়িও আছে। তবে মলয়বাবুর তুলনায় তা অতি নগণ্য। রাজপথ আর মাটির রাস্তার মধ্যে যে ব্যবধান, প্রতাপ আর মলয়বাবুর সাথে আর্থিক দিক থেকে সেই পার্থক্য বর্তমান। বাড়ির সামনে গাড়ি দাঁড়ানো মাত্র দারোয়ান দরজা খুলে দেয়। কলিং বেল টিপে অতিথি আগমনের সংবাদ দেওয়া মাত্র মলয়বাবু ও তাঁর স্ত্রী দুজনে এসে তাকে অভ্যর্থনা জানান।

মলয়বাবুর স্ত্রীকে দেখে প্রতাপ একেবারে চমকে যায়। মলয়বাবুর চেয়ে অনেক কম বয়স, দেখে তাঁর মেয়ে বলে মনে হয়। অপূর্ব সুন্দরী। অপ্সরাও তাঁর রূপের কাছে যেন ম্লান হয়ে যাবে। চোখ দুটি বেশ মায়াবী, পানপাতার মতো মুখের গড়ন। মনে হচ্ছে যেন স্বর্গপুরী থেকে কোনও দেবী বা অপ্সরা নেমে এসেছেন। কাঁচা হলুদ রঙের একটি দামী সিল্কের শাড়ি পরে, পায়ে নূপুরের নিক্কনে যখন তিনি প্রতাপের সামনে এলেন তখন  প্রতাপ নির্বাক। মনে মনে বলে, আঙ্কেল, তোমার তৈরি স্বর্গরাজ্যে  তুমি সত্যিই অপ্সরাকে বসিয়েছো। প্রতাপের যেন আর পা সরে না।

তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মলয়বাবুর স্ত্রী মৌলীনা বলেন, এসো প্রতাপ, দাঁড়িয়ে কেন?

প্রতাপের যেন চমক ভাঙে। কোকিলের মতো কী সুমধুর কণ্ঠস্বর! অবশেষে তিনজন গিয়ে তিন তলার ড্রয়িংরুমে বসে। দামী দামী আসবাব ও বৈচিত্রময় ডেকোরেশন দেখে প্রতাপ বিস্মিত হয়ে যায়। আকাশের বুকে ভাসমান প্লেন দেখে কিংবা সোনালি গোলাকার চাঁদ দেখে শিশু যেমন বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়, প্রতাপও তেমনি বাকরুদ্ধ। মনের আবেগ চাপতে না পেরে এক সময় বলে, এত সুন্দর ডেকোরেশন? এসব আইডিয়া কার?

কার আবার? আমার স্ত্রীকে দেখে বুঝতে পারছো না আমার পছন্দ কেমন!

(পরবর্তী অংশ আগামী সপ্তাহে)

********************************************************************