অসাধারণত্বকে আত্মস্থ করার জাদুকর হেমন্ত, শততম জন্মদিনে বললেন সুখেন্দু শেখর

এসবিবি : ” যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথাগত ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গিয়েছিলেন। সেই পড়া আর হয়নি। তবে, ইঞ্জিনিয়ারিং শেখেননি তেমন নয়, সঙ্গীতের ইঞ্জিনিয়ারিং-এ তাঁর অবদানকে সঙ্গীতের দুনিয়া চিরকাল কুর্ণিশ জানাবে।”
‘দৈবকণ্ঠ’ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের শততম জন্মদিনে ‘হেরিটেজ বেঙ্গল’ আয়োজিত এক শ্রদ্ধানিবেদন অনুষ্ঠানে এভাবেই বললেন সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়।
তিনি বলেন, “বাংলার মাঠনদীর সুরের স্নাতক হেমন্ত। সুদীর্ঘ মেলডিপথের পথিক হওয়ার পাশাপাশি হেমন্ত মুখোপাধ্যায় আরও অনেক কিছু করেছিলেন। অর্থহীন সমালোচনাকে গুরুত্ব না দিয়ে বাঙালির ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন রবীন্দ্রগান, সলিল চৌধুরির ম্যাজিক-টাচে গেয়েছেন ইতিহাসে ঢুকে পড়া গণগান। আরও বড় কথা, বাংলা উচ্চারণ শিখিয়েছেন বাঙালিকে। কিন্তু তথাকথিত সঙ্গীতবোদ্ধারা যেন আজও বোঝেনা, তাঁকে নেবে, না ফেলে দেবে। হালের সঙ্গীত তো দেখার বিষয় বেশি, শোনা কম। সেই দেখনদারি বাদ দিয়ে, অসাধারণত্বকে আত্মস্থ করার জাদুকর হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।”

আরও পড়ুন-অবশেষে নবান্ন বৈঠকের লাইভ কভারেজের অনুমতি মুখ্যমন্ত্রীর

একের পর এক হেমন্ত-সঙ্গীতের রেফারেন্স টেনে সুবক্তা সুখেন্দু শেখর বলেন, “আজও বাঙালি ভাবছে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গীতে কোন ট্যাগ ঝোলানো যায়, গণগানের প্রবক্তা? না প্রাণের শান্তির রবীন্দ্রগানের? না কি রোমান্টিক ? হেমন্ত-শ্রোতারা আজও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হতেই পারেনি। আর ঠিক সেই কারনেই শতবর্ষে পা রাখা হেমন্ত মুখোপাধ্যায় কালান্তরের যাত্রী হতে পেরেছেন ।”

‘হেরিটেজ বেঙ্গল’ আয়োজিত এই বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানটি হয় বালিগঞ্জ ফাঁড়ির কাছে চৌধুরি হাউসে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সম্পর্কিত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্র দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিশিষ্ট সেতার শিল্পী পন্ডিত শুভজিত মজুমদার ও তাঁর পুত্র কল্যাণ মজুমদার হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সৃষ্ট সুরের আধুনিক, রাগপ্রধান বাংলা, হিন্দি ও রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজিয়ে শোনান সেতারের মাধ্যমে। পন্ডিত শুভজিত মজুমদার মোহিত করে দেন উপস্থিত শ্রোতৃমণ্ডলীকে
সব শেষে কণ্ঠসঙ্গীতে পরিবেশন করেন ইন্দ্রনীল ও রূপলেখা।

আরও পড়ুন-বিহারে এনসেফেলাইটিসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে 96