সীতার পাতালপ্রবেশের স্থান থেকে : কুণাল ঘোষের কলম

কুণাল ঘোষ

লবকুশের জন্মস্থান আর সীতার পাতালপ্রবেশের স্থান থেকে লিখছি।

বিঠুর। কানপুর থেকে কমবেশি 14 কিলোমিটার দূরে অনেকটা জায়গায় ছড়িয়ে রামায়ণের অন্য অংশ।
বৃহস্পতিবার বেশ কিছুক্ষণ কাটালাম এখানে।
শ্রীরামচন্দ্রের “রামরাজ্য” বর্ণনা করতে গেলে লবকুশের জন্ম আর সীতার পাতালপ্রবেশ বাদ যাবে কেন? অযোধ্যা যদি জোশের প্রতীক হয়, কেন উপেক্ষিত থাকবে বিঠুর?

রামায়ণ যা বলছে, বিঠুর তো তাই ধরে রেখেছে।
অন্তঃসত্ত্বা সীতাকে সন্দেহের বশে একা অসহায় অবস্থায় বনবাসে পাঠালেন শ্রীরাম।

লক্ষ্মণ প্রবল অনিচ্ছায় দাদার নির্দেশ পালন করলেন বটে; কিন্তু সীতাকে ছেড়ে এলেন মুনিঋষিদের আশ্রমের কাছে, যাতে আশ্রয় পান সীতা। ঘটল সেটাই। মহর্ষি বাল্মীকির আশ্রম হয়ে উঠল সীতার ঠিকানা।
বিঠুরে সেই ঘর, সেই আশ্রম, সেই তপোবন।

আরও পড়ুন-বিধাননগরের মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন সব্যসাচী দত্ত

দস্যু রত্নাকরের ঘর। “মরা” থেকে “রাম” তপস্যার স্থান। রামায়ণ লেখার জায়গা। তপোবন। পূজারী ঘুরিয়ে দেখালেন। ওপাশে লব-কুশের জন্মস্থান। সীতার ঘর। রান্নাঘর। এমনকি পাতালপ্রবেশের কুন্ড।

একদিকে হনুমানমন্দির। রামের অশ্বমেধের ঘোড়া আটকেছিলেন লবকুশ। চরম বীরত্ব দেখান দুই ভাই। এমনকি ঘোড়া ছাড়াতে আসা হনুমানকে তাঁরা বেঁধে মা সীতার কাছে আনেন। সেই স্থানটিতেই মন্দির। পূজারী ওংকার দ্বিবেদী লবকুশের বীরত্ব ব্যাখ্যা করছিলেন।

আরও পড়ুন-মন্ত্রীরা ঠান্ডা ঘরে থাকবে, শিক্ষকরা রাস্তায় কেন? অনশনরতদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন সব্যসাচীর

বিঠুর যেন অযোধ্যার চ্যালেঞ্জার। “জয় শ্রীরাম” ধ্বনি যদি রামরাজ্যের দৃপ্ত প্রতীক হয় ; তাহলে বিঠুর যেন অপ্রিয় সত্যকে সামনে এনে কৈফিয়ত চাইছে, তাহলে সীতার পাতাল প্রবেশ কি রামরাজ্যের বর্ণনার বাইরে?

অন্তঃসত্ত্বা সীতার দ্বিতীয়বার বনবাস, লবকুশের জন্ম, সীতার আত্মহত্যা এবং রামায়ণ লেখকের সংসার; এই নিয়ে বিঠুর।

ঘুরলাম। দেখলাম। যা জানতাম, মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম। ওংকার বললেন,” এঁরা সব আসল চরিত্র ছিলেন। কাল্পনিক নন। যাঁরা বিশ্বাস করেন না, এসে দেখে যান।”

এঁরা সত্যিই ছিলেন; নাকি কল্পনা; নাকি সত্যের ভিত্তিতে কল্পনামেশানো মহাকাব্য; তা নিয়ে বিতর্ক চলেছে, চলছে, চলবে।


কিন্তু, অনুভূতি বলছে, অযোধ্যা যদি সত্যি ধরে শৌর্য মানতে হয়; তাহলে বিঠুরের আর্তিকেও সমান সত্য ধরে নিয়েই রামরাজ্যের বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে হবে।

অযোধ্যা বহুলপ্রচারিত। লঙ্কাও বহুলপ্রচারিত। অযোধ্যা পূজা, বিশ্বাসের গন্ডি অতিক্রম করে রাজনীতির কেন্দ্রে। পর্যটক টানতে রামায়ণ সার্কিট চালু করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার।
তাহলে, আমাদের চিন্তা, বিবেচনা, তর্ক, পর্যটন, কৌতূহলের ক্ষেত্রে বিঠুর উপেক্ষিত থাকবে কেন?

আরও পড়ুন-বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন একঝাঁক টলি তারকা