চন্দ্রযান-2 অপেক্ষার প্রহর গুনছে দেশবাসী

এসবিবি : চন্দ্রযান-২ বহনকারী GSLV Mk-III (বাহুবলী) রকেটে গোলযোগের কারণে 15 জুলাই শেষ মুহূর্তে এসে থমকে যায় উৎক্ষেপণ। শনিবার মধ্যরাতে শ্রীহরিকোটা থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় যান্ত্রিক গোলযোগের জন্য স্থগিত হয়ে যাওয়া চন্দ্রযান-2 সম্পূর্ণ রূপে সুস্থ উৎক্ষেপণের জন্য। এদিন সতীশ ধাবান স্পেশ রিসার্চ সেন্টারে প্রস্তুতি মহড়ার আয়োজন করে ইসরোর আধিকারিকেরা। ইসরোর তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, গত 15ই জুলাই ভারতের মাটি ছাড়ার কথা ছিল চন্দ্রযান 2-এর। কিন্তু শেষ মূহুর্তে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল উৎক্ষেপণ।

মহাকাশ গবেষণা দপ্তরের তরফে জানানো হয়, বিজ্ঞানীরা গোলযোগ সমাধান করে ফেলেছেন এবং আগামী সোমবার অর্থাৎ 22 জুলাই দুপুর 2:43 -এ ফের একবার চন্দ্রযান-2 উৎক্ষেপণ করা হবে।

ইসরোর তরফে টুইট করে জানানো হয়, প্রস্তুতি মহড়ায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে চন্দ্রযান 2। এবার প্রহর গোনা শুধু সোমাবার দুপুর 2:43-এর।

চন্দ্রযান-2 অভিযানের লক্ষ্য হল চাঁদের বুকে (উত্তর মেরুতে) একটি মুনরোভার (চন্দ্রযান) ল্যান্ড করানো। এর আগে ‘চন্দ্রযান-1’ মিশনের মাধ্যমে ভারতই প্রমাণ করেছিল যে, চাঁদের বুকেও জল আছে। আর এবারই প্রথম চাঁদের বুকে একটি মুনরোভার নামানোর চেষ্টা করবে ভারত। এই কাজে ইসরোর বিজ্ঞানীরা যদি সফল হন, তাহলে বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে এই নজির গড়বে ভারত।

এই ‘চন্দ্রযান-2’ অভিযানের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই অভিযানে একই সঙ্গে একটি ল্যান্ডার, একটি রোভার ও একটি অরবিটার ব্যবহার করা হবে। উৎক্ষেপণের পরে ‘চন্দ্রযান-২’ উপগ্রহকে প্রথমে চাঁদের কক্ষপথে প্রতিস্থাপন করা হবে। এখানে 17 দিন থাকার পর ধীরে ধীরে চাঁদের পরিধির দিকে এগোবে। চাঁদের মাটি থেকে 100 কিমি ওপরে ওই উপগ্রহের অরবিটার চাঁদের পরিধির চারপাশে পাক খাওয়া শুরু করবে। তারপর আশা করা হচ্ছে 6 সেপ্টেম্বর মুনরোভার ও ল্যান্ডারটি চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করবে। ওই মুনরোভারটির নাম প্রজ্ঞান ও ল্যান্ডারটির নাম বিক্রম।