গলদা চিংড়ি সম্পর্কে অজানা বিস্ময়কর কিছু তথ্য

প্রশান্ত দাস

গলদা-চিংড়ির পরিচয়ে কঠিন খোলার আবরণে ঢাকা প্রাণী হিসেবে অনেক ধরণের চিংড়ি রয়েছে। তন্মধ্যে – স্পাইন লবস্টার, স্লিপার লবস্টার, স্কোয়াট লবস্টার, রীফ লবস্টার অন্যতম। থাবাযুক্ত গলদা-চিংড়িই এ নামের সাথে বেশ মানানসই। কিন্তু স্পাইন লবস্টার, স্কোয়াট লবস্টার কিংবা স্লিপার লবস্টারে কোন থাবা নেই। সবচেয়ে কাছের গোত্রীয় হিসেবে থাবাযুক্ত গলদা চিংড়ি হিসেবে রয়েছে প্রবাল-প্রাচীরের কাছাকাছি অবস্থানরত রীফ লবস্টার এবং মিষ্টি জলে বিচরণে নিয়োজিত এক প্রকার প্রাণী ক্রেফিসের তিনটি গোত্র।

আরও পড়ুন-উত্তর প্রদেশে বাজ পড়ে মৃত 32, ক্ষতিপূরণের ঘোষণা যোগীর

শামুক এবং মাকড়শার ন্যায় গলদা চিংড়িতে নীল রক্ত বহমান। হিমোসায়ানিনে কপার পদার্থের উপস্থিতিজনিত কারণেই গলদা চিংড়িতে নীল রক্ত রয়েছে। (এর বিপরীতক্রমে মেরুদণ্ডী অন্যান্য অনেক প্রাণীর শরীরে হিমোগ্লোবিনে লোহার প্রাচুর্যতাজনিত কারণে লাল রক্ত বহমান।) এ চিংড়ি সবুজ রঙের হেপাটোপ্যানক্রিয়েসের অধিকারী যা প্রাণীদেহের ন্যায় যকৃৎ এবং অগ্ন্যাশয়ের কাজ করে থাকে।

আরও পড়ুন-অবশেষে ঘরে ফিরলেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, মাটিতে প্রণাম করে এলাকাবাসীকে জানালেন ধন্যবাদ

উত্তর আমেরিকায় ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ সময় পর্যন্ত আমেরিকান লবস্টার তেমন কোন জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি। নিউইয়র্ক এবং বোস্টনবাসীদের আগমনের প্রেক্ষাপটেই গলদা-চিংড়ির স্বাদ সম্বন্ধে জনগণ অবগত হয় ও বাণিজ্যিকভিত্তিতে এর চাষ হতে থাকে।

ঐ সময়ে, বিশেষ করে কলোনিয়াল যুগে গলদা-চিংড়িকে দারিদ্র্যের খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হতো। অথবা, গৃহভৃত্য হিসেবে মেইন, ম্যাসাচুসেটস এবং কানাডার ম্যারিটাইমসে নিয়োজিত ব্যক্তিদেরকে এ খাদ্য গ্রহণে বাধ্য করতো কিংবা চুক্তিনামায় উল্লেখ করা থাকতো যে তাদেরকে সপ্তাহে দুদিনের বেশি গলদা-চিংড়ি খাওয়ানো হবে না। মূলতঃ সেইসময় গলদা খেত জেলের কয়েদি এবং ভৃত্যস্থানীয়রা।

আরও পড়ুন-ওয়ান-ডে’কে “গুড বাই” জানাবেন মালিঙ্গা, সঙ্গে দেশকেও বিদায় জানাবেন!

আমেরিকান লবস্টার তখন মূলতঃ জমির উর্বরতা বৃদ্ধির উপকরণ সার হিসেবে অথবা মাছ ধরার টোপ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বিংশ শতাব্দীতে এসে এর চাহিদা আরো বৃদ্ধি পায়। তখন এটি অন্যান্য টিনের পাত্র বা ক্যানে রক্ষিত প্রধান খাদ্যের চেয়ে অধিক মূল্যমানের হয়ে যায়।

আর বর্তমানে, গলদা চিংড়ি মানেই রসনাতৃপ্তির এক চূড়ান্ত পর্যায়। আর যারা বাঙালি নন তাঁরা হয়তো অন্য কোনও গলদা রেসিপিতে বিমোহিত।

কিন্তু মানুষের খাদ্য হওয়া ছাড়াও এরা জীবজগতের এবং খাদ্য শৃঙ্খলের এক মূল্যবান সদস্য এবং এদের সম্পর্কে এই তথ্যগুলি জানলে বিস্ময়ের শেষ থাকবে না।

আরও পড়ুন-শহিদ দিবসের সভায় না যাওয়ায় এই এলাকায় কি হলো জানেন?

1. গলদা চিংড়িদের আয়তনে বৃদ্ধি কখনও থামে না। যতক্ষণ না জালে ধরা পড়ছে বা কোনওভাবে মারা পড়ছে তারা বাড়তেই থাকে। একবার একটি প্রায় 20 পাউন্ড ওজনের গলদা চিংড়ি পাওয়া গিয়েছিল।

2. গলদারা আশপাশে যদি কোনও খাবার খুঁজে না পায় তবে নিজেরাই নিজেদেরকে খায়।

আরও পড়ুন-ফের মনুয়া কাণ্ডের ছায়া, প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে খুনের অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে

3. মিলনের সময়ে মুখ্য ভূমিকায় থাকে স্ত্রী গলদারাই। তারা নিজেদের খোলস খসিয়ে দিলে ফেরোমোন হরমোন নিঃসৃত হয় এবং তার গন্ধেই পুং গলদারা বুঝতে পারে যে স্ত্রী গলদারা মিলনে আগ্রহী।

4. গলদারা তাদের পা এবং পায়ের পাতার রোমের মাধ্যমে খাবারের স্বাদ পায় আর তাদের শুঁড় দিয়ে দূরে থাকা খাবারকে সনাক্ত করে।

আরও পড়ুন-পাকিস্তানে জঙ্গি হামলায় মৃত 9, আহত 30

5. গলদার তো মানুষের মতো দাঁত থাকে না। তাই খাবারকে চূর্ণ করার বা চেবানোর কাজটি করে তাদের পাকস্থলী। সেখানেই একসারি দাঁতের মতো একটি অংশ থাকে।

6. চিংড়ি রান্না করার সময় যে অংশটি সবুজ দেখায় সেটি আসলে গলদার অন্ত্র, লিভার এবং প্যানক্রিয়াস আর যদি লাল লাল কিছু দেখা যায় তবে সেটা চিংড়ির ডিম।

আরও পড়ুন-সিপিআইয়ের নতুন সাধারণ সম্পাদক হলেন ডি রাজা

7. গলদা চিংড়ির দাঁড়ায় প্রচুর জোর থাকে। এই একটি দাঁড়া দিয়ে 1 বর্গইঞ্চিতে প্রায় 100 পাউন্ড চাপ সৃষ্টি করতে পারে তারা।

8. অনেকেই জানেন না এই গলদা চিংড়ির খোলস দিয়েই একবার মেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বানিয়ে ফেলেছিলেন গলফ বল।

আরও পড়ুন-তবে কুমারস্বামী সরকারের ভাগ্যপরীক্ষা কি আজই?

9. দাঁড়া হারানোর পরে আবার সেই জায়গায় গলদার নতুন দাঁড়া আগের মতো সাইজে আসতে সময় লাগে প্রায় 1 বছর।

10. এখন পৃথিবীর পাঁচতারা হোটেল রেস্তোরাঁয় গলদার মহার্ঘ সব পদ রান্না হলেও এটি ছিল অতি সস্তা খাবার।

আরও পড়ুন-একুশের পথে জন্ম, ফুটফুটে কন্যা সন্তানের নাম তাই “মমতা”