দেবতাদের মধ্যে সূর্যদেবকে শ্রেষ্ঠ মনে করা হয়, কেন?

রূপসা চট্টোপাধ্যায়

সনাতনী বৈদিক ও পৌরাণিক মতে– দেবতা বিশেষ এবং বৈদিক দেবতাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠস্থান অধিকারী দেবতা। এ বিশ্বে সকল জীবেনর সৃষ্টির উৎস সূর্য ৷ সূর্যদেব সৃষ্টির প্রথম দেবতা ৷ কাশ্যপ ও অদিতির পুত্র সূর্য ৷ আবার কেউ কেউ বলেন তিনি নাকি ইন্দ্রের পুত্র ৷

হিন্দু ধর্মে সূর্য দেবতা- পাঁচটি ভিন্ন নামে প্রশংসিত হয়েছেন। এঁর মুখ হলো আলোকময় আকাশ। সূর্যমণ্ডল এঁর চোখ, সূবর্ণময় হাত। সাত ঘোড়ার রথে তিনি আকাশপথে ঘুরে বেড়ান। সাতটি অশ্ব রয়েছে যাঁর, এই অর্থে সূর্যের অপর নাম সপ্তসপ্তি। সূর্যের রথের সারথি ছিলেন অরুণ। এই অর্থে-সূর্যের অপর নাম অরুণসারথি। সূর্যের হাতে পদ্ম থাকে, এই কারণে তাঁর নাম অব্জিনীনাথ, অব্জিনীপতি। সূর্যের মায়ের নাম অদিতি, তাই তিনি আদিত্য৷

আরও পড়ুন – দলের প্রচার-কৌশল নিয়ে তৈরি মমতা, সোমবার হবে চমক-ঘোষণা

পুরাণ মতে, কশ্যপের স্ত্রী অদিতির গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন দেবতারা। আর তাঁর অপর স্ত্রী দিতির গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন দৈত্য-দানব। দৈত্য-দানবেরা অদিতির পুত্রদের নানাভাবে লাঞ্ছিত করতে থাকলে, অদিতি পুত্রদের কল্যাণের জন্য সূর্যের তপস্যা আরম্ভ করেন। তাঁর ভক্তিতে তুষ্ট হয়ে, সূর্য আদিতিকে সাক্ষাৎ দেন এবং বর প্রার্থনা করতে বলেন। অদিতি সূর্যের কাছে বলেন, তিনি যেন তাঁর গর্ভে জন্মগ্রহণ করে দানবদের হাত থেকে তাঁর ভাইদের রক্ষা করেন ৷ সূর্য তখন নিজের সংস্রাংশরূপে অদিতির গর্ভে প্রবেশ করেন ৷

অদিতি এই সময় কৃচ্ছসাধন করতে শুরু করেন ৷ এতে কাশ্যপ ক্রুব্ধ হয়ে বলেন, ‘তুমি উপবাস করে গর্ভাণ্ডকে মারিত করবে নাকি!’ ৷ এতে কাশ্যেপর উপর রাগ করে গর্ভত্যাগ করেন অদিতি ৷ তখন সূর্যের জ্যোতিতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে চরাচর ৷ এর সময় স্তব করে সূর্যকে তুষ্ট করেন কাশ্যপ ৷ এই সময় দৈববাণীতে বলা হয়, এই অণ্ডকে মারিত (মেরে ফেললে) বলায়, এর নাম হবে মার্তণ্ড। এরপর দেবরাজ ইন্দ্র দৈত্য-দানবদের যুদ্ধে আহ্বান করেন ৷ উভয়পক্ষের যুদ্ধ শুরু হতেই সূর্য ভাইদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন ৷ মার্তণ্ড দানবদের দিকে দৃষ্টিপাত করা মাত্র, তাঁরা ভস্মীভূত হয়।

আরও পড়ুন – শিক্ষাক্ষেত্রে গৈরিকীকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের নাম এখন হিন্দিতে