কাশ্মীরে 370 ধারা বাতিলে সন্ত্রাস কমবে : প্রধানমন্ত্রী

রেডিও এবং জাতীয় টেলিভিশনে একটি বিশেষ সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার রাত 8টায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি শুরুতেই বলেন, “জম্মু-কাশ্মীর,লাদাখের মানুষকে অভিনন্দন। অনেকে ভেবেছিলেন, কোনওদিনই কিছুর পরিবর্তন হবে না। লাদাখের ভাই-বোনেরা বহু প্রকল্প থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এ বার তাঁরা সেই সব প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখের উন্নতি বারবার বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। এ বার তাঁদের স্বপ্ন পূরণ হবে”।

একটা পরিবার হিসেবে দেশের স্বার্থে একটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একটা ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হয়েছেন জম্মু, কাশ্মীর, লাদাখের ভাই-বোনেরা। তাঁদের উন্নতির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ওই ব্যবস্থাকেই তুলে দেওয়া হয়েছে।
মোদি বলেন, “সর্দার বল্লভভাই পটেলের স্বপ্ন পূরণ হবে। কাশ্মীরে 370 ধারা বাতিলে সন্ত্রাস কমবে। এই ধারা লাগু থাকায় সন্ত্রাস বেড়েছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী বেড়েছে। জম্মু-কাশ্মীরকে অস্ত্র দিয়ে সাহায়্য করেছে পাকিস্তান। তিন দশক ধরে কাশ্মীরের মানুষকে ব্যবহার করে গিয়েছে পাকিস্তান। আগের সরকার এই বিষয়ে ভাবেনি। দলিতদের উপর অত্যাচার বন্ধে আইন রয়েছে, কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের উপর অত্যাচার চলেছে”।

দেড় কোটির বেশি লোক বঞ্চিত থেকে যেতেন। দেশের অন্য রাজ্যে বাচ্চাদের শিক্ষার অধিকার আছে, কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরের বাচ্চারা বঞ্চিত। দেশের অন্যত্র মহিলারা যে অধিকার পান, সেই অধিকার নেই কাশ্মীরি মহিলাদের। অন্য রাজ্যে সাফাই কর্মীদের জন্য সাফাই কর্মচারি আইন রয়েছে। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরের সাফাই কর্মীরা বঞ্চিত ছিলেন। দলিতদের উপরে অত্যাচার রোখার জন্য কঠোর আইন রয়েছে দেশে। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরে ছিল না। অন্য রাজ্যে সংখ্যালঘুদের জন্য সংখ্যালঘু আইন রয়েছে। কিন্তু এমনটা ছিল না কাশ্মীরে। পুলিশ -প্রশাসনও বঞ্চিত হয়েছে।   লোকসভায় আইন পাশ করাতে গিয়ে বিরোধীদের বাধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আইন তৈরি হয় মানুষের ভালোর জন্য। সংসদে আইন পাশ করাতে গিয়ে সামান্য হইচই হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে অন্যায় হতে দেব না। মুষ্টিমেয় কিছু লোক 370 ধারা প্রত্যাহারের বিরোধিতা করেছেন। তাঁরা সন্ত্রাসবাদী, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদত দিয়েছেন। কাশ্মীরবাসীরাই তাঁদের জবাব দেবেন”।

কয়েক দিনের জন্য জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্রীয় সরকারের শাসনে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্যপাল শাসন চালু হয়েছে। প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। রাজ্যপালের শাসনে প্রশাসনিক কাজ ভালো হয়েছে। উন্নয়ন হয়েছে প্রচুর।
কাগজে থাকা যোজনাগুলি এবার বাস্তবের মাটিতে দেখা যাচ্ছে। জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনে নতুন কর্মসংস্কৃতি এসেছে। ফলাফল, এইমস আইআইটি। বিদ্যুত প্রকল্প, সড়ক, রেলপথ ও বিমান বন্দরের আধুনিকীকরণ হচ্ছে।
আরও একটা কথা স্পষ্ট করতে চাই। আপনাদের জনপ্রতিনিধি আপনারাই নির্বাচন করবেন। যেমন যিনিই বিধায়ক হোন, নিজের এলাকার উন্নয়ন করুন।

একটা সময়ে কাশ্মীরে ফিল্মের শ্যুটিং হতো। এবার দুনিয়ার লোকেরা ফিল্মের শ্যুটিং করতে আসবেন। কাশ্মীরের লোকেদের জন্য অনেক সুযোগ আসবে। হিন্দি, তেলুগু ও তামিল ফিল্ম ইন্ড্রাস্টির কাছে আবেদন করব, কাশ্মীরে শ্যুটিংয়ে অগ্রাধিকার দিন।
এ দিন প্রধানমন্ত্রী জোরের সঙ্গে বলেন, “দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনই আমাদের লক্ষ্য। সন্ত্রাসমুক্ত জম্মু-কাশ্মীরই আমাদের কাম্য”