কংগ্রেসের নেতৃত্বে ফের সোনিয়া, স্বস্তিতে মমতাও

কলি পারভিন

পরিবারতন্ত্রের প্রতি শতাব্দীপ্রাচীন কংগ্রেস দলের অগাধ আনুগত্য নিয়ে বিজেপি বা অন্য দল যতই সমালোচনা করুক, সব কটাক্ষ হজম করেই কংগ্রেসের নামীদামি নেতারা বুঝিয়ে দিয়েছেন গান্ধী পরিবারের আশ্রয় ছাড়া তাঁদের দৌড় শূন্য! মোদি-অমিত শাহর বিরুদ্ধে লম্বাচওড়া কথা বলা নেতারা শুধু সাংগঠনিকভাবেই অযোগ্য তাই নন, নিজেরা এতটাই গোষ্ঠীবাজিতে লিপ্ত যে গান্ধী পরিবারের তকমার বাইরে কেউ সভাপতি হয়ে গেলে নিজের নাক কেটে পরের যাত্রাভঙ্গ করার মত গুপ্তশত্রুতারও আশঙ্কা ছিল। কার্যত দলের ভাঙন আটকাতেই সোনিয়া গান্ধীর সভাপতিত্বে সর্বসম্মতি কংগ্রেস নেতৃত্বের। ফলে গান্ধী পরিবারের ঘাড়ে চেপেই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির প্রবাদপ্রতিম সদস্যরা এবার বাঘ শিকারের মত হাবভাব দেখাবেন, কার্যক্ষেত্রে দায়িত্ব নেওয়ার কথা শুনলে যাঁরা পালিয়ে বাঁচেন অথবা অন্যের পথ কণ্টকিত করার গোষ্ঠীবাজি শুরু করেন!

আরও পড়ুন-শান্ত উপত্যকা, একটাও গুলি চলেনি: জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ প্রধান দিলবাগ সিং

রাহুল গান্ধীর পদত্যাগের পর দুমাস ধরে চলা নাটক আপাতত শেষ হল। নামে অস্থায়ী ব্যবস্থা হলেও তা পাকাপাকি শিলমোহর পড়ার দিকেই এগোচ্ছে। রাহুলের আপত্তির পরও সোনিয়া গান্ধীকে নির্বাচন করে কংগ্রেস বোঝালো এই দলে আদতে জাতীয় স্তরের কোনও নেতাই নেই, গোটা দেশে নেতৃত্ব দেওয়ার মত যাঁর ক্ষমতা বা যোগ্যতা আছে। তবে সোনিয়া ফের সভাপতি হওয়ায় অনিশ্চয়তার হাত থেকে বাঁচলেন সেইসব বিরোধী নেতারাও, যাঁরা বিজেপিকে ঠেকাতে কোনও না কোনওভাবে কংগ্রেসকে পাশে চান। হতে পারে তা রাজ্যস্তরে অথবা হতে পারে তা জাতীয় স্তরে। আর সোনিয়ায় স্বস্তি পাওয়া বিরোধী নেতানেত্রীদের মধ্যে অবশ্যই আছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা ব্যানার্জিও। ইতিপূর্বে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্কে যে আড়ষ্টতা বা স্বতস্ফূর্ততার অভাব ছিল তা যেমন কারুর অবিদিত নয়, তেমনি সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া যে অনেক বেশি মসৃণ তাও সবাই জানে। ফলে বিজেপি বিরোধী মঞ্চে এই দুই নেত্রীর বহুদিনের সুসম্পর্ক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়া সাধারণ ঐক্যমত্য ও ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি নেওয়ার সহায়ক হবে এমন আশা করাই যায়। এখন একদিকে বামেরা, অন্যদিকে মমতা, এই দুই বিজেপি বিরোধী শক্তিকে কীভাবে ব্যালান্স করেন সোনিয়া গান্ধী, সেদিকে নজর থাকবে বঙ্গবাসীরও।

আরও পড়ুন-সঙ্কটজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি বিদ্যা সিনহা