দোসর জামশেদকে মজিদের বন্ধুত্বের সংবর্ধনা

প্রেরণা গুঁই

একেই বোধ হয় বলে বন্ধুত্ব. একজন মজিদ বাসকার আর একজন জামশেদ নাসির। দীর্ঘ 32 বছর পর দেখা, কিন্তু এতটুকু ভাঁটা পড়েনি বন্ধুত্বে। ইস্টবেঙ্গলের লাল-হলুদ জার্সি মিলিয়েছিল এই দুই কিংবদন্তি ফুটবলারকে। তারপর দীর্ঘ বিচ্ছেদ। ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে ইরানে পাড়ি দিয়েছিলেন মজিদ। আর কলকাতাতেই রয়ে গিয়েছিলেন জামশেদ। ফলে ভৌগলিক দুরত্বের কারণে রোজ দেখা বা কথা হত না। কিন্তু তাতে মনের টান একটুও কমেনি আর তারই প্রমাণ মিলল ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষের মঞ্চে।

আজ, মঙ্গলবার শতবর্ষের ইস্টবেঙ্গলে ‘স্পোর্টস ডে’-র অনুষ্ঠান জমকালো ছিল। অনুষ্ঠানের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ‘আশির বাদশা’। নিজের প্রাণের ক্লাবের শতনর্ষ অনুষ্ঠানে থাকার জন্য রবিবার ভোররাতেই প্রায় তিন দশক পর মহানগরে পা রাখেন মজিদ বাসকার। তারপর দেখা সেই পুরনো দোসর জামশেদ নাসিরের সঙ্গে। আর বন্ধুকে পেয়ে আপ্লুত মজিদ। তাই ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের বন্ধু জামশেদকে সংবর্ধনা দিলেন তিনি। এটা অনুষ্ঠানের কোনও পূর্বপরিকল্পিত ভাবনা ছিল না। মঞ্চে উঠে সঞ্চালক মীরকে নিজের এই ইচ্ছার কথা জানান মজিদ। আর তারপর এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল গোটা নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম।

এক বন্ধুকে আর এক বন্ধুর সম্মান। যা ফ্রেমবন্দি করতে ভুলল না আম জনতা থেকে সংবাদমাধ্যম। একেই বোধ হয় বলে ‘দোস্তি করতে নেহি, দোস্তি হো যাতে হ্যা’। আর হয়ে যাওয়া এমন বন্ধুত্বেরই জীবন্ত প্রমাণ দিলেন মজিদ-জামশেদ।