মজিদের স্মৃতিচারণায় মনোরঞ্জন-সুব্রত, পরিবর্তন হয়নি লাল-হলুদ রঙের

গত 1 আগস্ট নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ইস্টবেঙ্গলের প্রতিষ্ঠা দিবসের প্রায় শেষ লগ্নে এভির মাধ্যমে জানানো হয়েছিল যে, প্রবাদপ্রতিম লাল-হলুদ ফুটবলার মজিদ বাসকার কলকাতায় পা রাখতে চলেছেন। তিনি নিজেই এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য গ্যালারিতে বসে থাকা সমস্ত লাল-হলুদ সমর্থকদের জানান। সেই মতো শনিবার দুপুরে ইরানের তেহরান থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। রবিবার ভোররাতে কলকাতা বিমানবন্দরে পা রাখেন তিনি। তারপর সোমবার ইস্টবেঙ্গল ক্লাব তাঁবুতে সাংবাদিক বৈঠকে কার্যত নস্টালজিক হয়ে যান মজিদ।

লেসলি ক্লজিয়াস সরণির পাশে যখন তাঁর গাড়ি এসে দাঁড়ায়, তখন লাল-হলুদ সমর্থকদের উত্তেজনা ছিল দেখবার মতো। যদিও উপস্থিত সমর্থকদের প্রায় 99% লোক কোনওদিন মজিদের খেলা দেখেননি। তবুও ইস্টবেঙ্গল চত্বরে ‘মজিদ মজিদ’ স্লোগানও এত উন্মাদনা দেখে আপ্লুত বাদশা। আর তাঁর সেই আবেগঘন মুহূর্তের কথা তিনি বারবার তুলে ধরেন সাংবাদিক সম্মেলনে।

রোভার্স কাপ, দার্জিলিং কাপের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। তবে তাঁর চেনা ক্লাব যে তিন দশকের ব্যবধানে পরিবর্তন হয়েছে, তা তিনি স্বীকার করে নিলেন। মজিদ বলেন, ‘ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রচুর পরিবর্তন হয়েছে। গ্যালারি, মাঠ, এক ঝাঁক তরুণ দল, সব মিলিয়ে যেন এক নতুন ছন্দে ইস্টবেঙ্গল। শুধু লাল-হলুদ রংটাই এক রয়েছে। যার আবেগ আজও এক।’ স্মৃতির সরণি বেয়ে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, সুব্রত ভট্টাচার্যের কথাও বলেন। এভাবে স্মৃতিচারণা করেন লাল-হলুদ বাদশা।

তবে মজিদের সাংবাদিক সম্মেলনেও যেন বিতর্ক পিছু ছাড়ল না ইস্টবেঙ্গলেরর। মাইক্রোফোন ছাড়া মজিদ বাসকারের সাংবাদিক সম্মেলন, ছোট জায়গায় সম্মেলনের আয়োজন এবং তার ফলে একাধিক ক্রীড়া সাংবাদিকের পড়ে যাওয়া ও অল্প আহত হওয়া, সব মিলিয়ে সোমবারের ঐতিহাসিক দিনেও অরাজগতা স্পষ্ট ধরা পড়ে মশাল বাহিনীতে। যদিও এ বিষয়ে একেবারে ‘স্পিকটি নট’ ছিলেন ক্লাবকর্তা দেবব্রত সরকার ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সব অরাজগতা, বিতর্ককে এড়িয়ে মজিদ আবেগে গা ভাসিয়েছেন সকল সমর্থকেরা, তা বলাই যায়।