পুজোয় আয়কর নোটিশ ব্যুমেরাং হওয়ায় সুর নরম বিজেপির

পুজো কমিটি হাতে নিয়ে বা ‘দখল’ করে প্রভাববৃদ্ধির ছক কষেছিলো বিজেপি। আর ঠিক সেই সময়ই কলকাতার একাধিক পুজো কমিটিকে নোটিশ পাঠায় আয়কর দফতর। ফলে ঘেঁটে গিয়েছে বঙ্গ-বিজেপির স্কিম। শুধু ঘেঁটে যাওয়াই নয়, পুজো-ইস্যুতে এলাকায় এলাকায় বিজেপি নেতা-কর্মীদের সাধারন মানুষের প্রশ্নের সামনে পড়তে হচ্ছে। আয়কর দফতরের এই উদ্যোগ ব্যুমেরাং হয়ে ফিরেছে বিজেপির দিকেই। মোটের ওপর, মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি এবং পুজো ঘিরে বাংলার আবেগের চাপে বেকায়দায় পড়েছে বিজেপি।ওদিকে, আজ মঙ্গলবার এই ইস্যুতে কড়া প্রতিবাদ জানাতে মাঠে নেমেছে তৃণমূল। সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে ধরনায় বসেছে তৃণমূলের ‘বঙ্গ জননী’ শাখা। এখানে হাজির থাকবেন শহরের সব ক’টি বড় পুজোর উদ্যোক্তারা। সব মিলিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে বিজেপি-শিবিরে। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে পুজো কমিটির কাছে আয়কর দপ্তরের নোটিশ-ইস্যুতে সুর নামিয়ে নিলো রাজ্য বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে ‘সুর নামানো’-র বিষয়টাই ধরা পড়েছে। দিলীপবাবু বলেছেন, “পুজো যেমন হচ্ছে তেমনই হবে। কোনও পুজোই বন্ধ করার পরিকল্পনা নেই আমাদের। কোনও পুজো ‘দখল’ করারও প্রশ্ন নেই”।
পুজো কমিটির কাছে আয়কর নোটিশ পাঠানো প্রসঙ্গে তৃণমূলের আশঙ্কা, “পুজো কমিটির দখল নিতেই আয়কর বিভাগকে মাঠে নামিয়েছে কেন্দ্র।বড় পুজো বন্ধ করে দিতে চাইছে বিজেপি”। এবং
এই প্রচারই চালাচ্ছে ঘাসফুল-শিবির। আর এই প্রচারই অস্বস্তিতে ফেলছে বিজেপিকে। আয়কর দফতরের পুজো- নোটিশের জেরে বেকায়দায় বিজেপি আর সেই নোটিশকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে ফসল তুলছে তৃণমূল। তৃণমূলের এই আন্দোলন যাতে গোটা রাজ্যের সব পুজো কমিটি এবং সামগ্রিকভাবে বাঙালির মধ্যে প্রভাব ফেলতে না পারে, সে জন্যই তড়িঘড়ি ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এ নেমেছে বিজেপি। এই ইস্যুতে বিজেপি’র সুর ক্রমেই নরম হচ্ছে।