এই দুই নারীর কাঁধেই গুরুদায়িত্ব উপত্যকায়

সাধারণ মানুষ থেকে হাজার হাজার পুরুষ সেনাকর্মী, অশান্ত কাশ্মীরে এই দুই দলের মুখেই দু’টি নাম ঘুরছে, সৈয়দ সেহরিস আসগর ও পি কে নিত্য। থমথমে উপত্যকায় নিযুক্ত মহিলা আইপিএস ও আইইএস অফিসার বলতে এই দুইজনই। আত্মীয়কে ফোন করাই হোক বা রেশন নিয়ে ক্ষোভ উপত্যকাকে সামলাচ্ছেন এই দুই মহিলাই.

আইএস অফিসার ড: সৈয়দ সেহরিস আসগর।হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা প্রিয়জনের সঙ্গে উপত্যকার মানুষের কথা বলানো বা অসুস্থ রোগীর সঙ্গে চিকিৎসকের যোগাযোগ করানো, সবেতেই মানুষ এখন খুঁজছে তাঁকে। উপত্যকায় 370 অনুচ্ছেদ বিলোপের সরকারি সিদ্ধান্ত সামনে আসার মাত্র চার দিন আগে জম্মু কাশ্মীরে তথ্য অধিকর্তা হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। স্বপ্নেও ভাবেননি এই কাজে বহাল করা হবে তাঁকে।

আরও পড়ুন-প্লেন চাই না, গিয়ে কথা বলার স্বাধীনতা চাই, কাশ্মীরের রাজ্যপালকে পাল্টা জবাব রাহুলের

আইপিএস পিকে নিত্যের দায়িত্বও কিছু কম নয়। আপাতত তিনি কর্তব্যরত রামমুনশি বাগ এবং হরভন দাগচি গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায়। সূত্রের খবর, এই এলাকার মধ্যেই বন্দি করে রাখা রয়েছে উপত্যকার প্রায় 400 নেতাকে। এই আইপিএস-এর কাঁধেই দায়িত্ব এই অঞ্চলের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার।

আসগর নিজে একজন ডাক্তারও। রোগী দেখতে দেখতেই ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসার সিদ্ধান্ত নেন। সাফল্য তাঁর পিছু নেয় অল্প কয়েক দিনেই। তাঁর কথায়, ‘‘চিকিৎসক হিসেবে উপত্যকার মানুষকে পরিষেবা দিয়েছি বহুদিন। কিন্তু এখন লড়াই অন্য। একই সঙ্গে ইস্পাতকঠিন মন ধরে রাখা আবার সাধারণ মানুষকে ভরসা জোগানো মুখের কথা নয়।’’

আরও পড়ুন-ভাঙড়ের প্রাক্তন ৪ বারের বাম বিধায়ক বাদল জমাদার মৃত্যুশয্যায়

আসগরের স্বামী পুলওয়ামর মতো স্পর্শকাতর জায়গায় প্রশাসনিক পদে বহাল রয়েছেন। কঠিন সময়ে সাহস জোগান একে অন্যেকে। ‘‘আমরা মেয়েরা যদি সমাজটাকে বদলে দিতে পারি, তার চেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই’’, বলছেন আসগর।
ছত্তীসগড়ের মেয়ে 28 বছরের তরুণী নিত্যর যাত্রাটাও গল্পের মতো। ছিলেন সিমেন্ট কোম্পানির ম্যানেজার। মন বদলে ইউপিএসসি পরীক্ষা দিয়ে পৌঁছে যান সরাসরি প্রশাসনিক পদে। যে সে পদ নয়, নিত্য বলছেন, ‘‘আমি দুর্গ অঞ্চলের মেয়ে, কখনও এমন পরিস্থিতি দেখিনি বেড়ে ওঠার সময়ে। সাধারণ মানুষ হোক বা ভিভিআইপি, প্রায় 40 কিলোমিটার এলাকায় আপাতত সকলের নিরাপত্তার দায় আমার। চ্যালেঞ্জটা নিতে ভালও লাগছে।’’ নিজের মাতৃভাষা তেলুগু ছাড়াও গড়গড়িয়ে হিন্দি, কাশ্মীরি বলতে পারেন তিনি। সাধারণ মানুষের রেশন থেকে স্কুলের বাচ্চাদের অভিভাবকদের বিক্ষোভ, সবই সামলাচ্ছেন ঠাণ্ডা মাথায়।

আরও পড়ুন-অঙ্গদান দিবসে ট্যুইট মমতার