“দিদিকে বলো” কর্মসূচিতে দলকে কী কী লাভ পাইয়ে দিলেন অভিষেক?

অপরাজিতা সেন

“দিদিকে বলো” কর্মসূচি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে একে ঘিরে তৎপরতা। মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে এই কর্মযজ্ঞটি চলছে। রাজনৈতিক মহলের মতে এই পরিস্থিতিতে “দিদিকে বলো” থেকে বহুমুখী উপকার পাচ্ছে দল।

1) নতুনত্ব আছে। মানুষ কৌতূহলী হচ্ছেন। ইতিবাচক শুদ্ধিকরণমূলক প্রচার চলছে।

2) কার্যকারিতা আছে। মানুষ ফোনে 9137091370 নম্বরে সমস্যা বলতে পারছেন। বিরাট আধুনিক ব্যাক অফিস ও কল সেন্টার যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। যাঁদের সমস্যার সুরাহার চেষ্টা হচ্ছে, তাঁরা সদর্থক মনোভাব নিচ্ছেন। সব সমস্যার সুরাহা রাতারাতি হয় না; তবু এমন উদ্যোগ তো কেউ কখনও নেয় নি।

3) অনৈতিক কাজের প্রবণতা কমছে। দল বা প্রশাসনে ভয় কাজ করবে, অভিযোগ উপরমহলে পৌঁছে যাবে।

4) প্রচারের উপরকরণের গেঞ্জি, লোগোসহ স্টিকারগুলি কর্মীদের উৎসাহিত করছে। এগুলির ব্যবহারে দৃশ্যমানতা বাড়ছে।

5) নেত্রীর ছবি ও ফোন নম্বর দেওয়া কার্ডগুলি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সেতুবন্ধনের মানসিকতা বাড়াচ্ছে।

6) এগুলি পৌঁছে দেওয়ার কর্মসূচিতে সব এলাকার সব অংশের কর্মীরা জনসংযোগে নামতে পারছেন। লোকসভা ভোটের পর যে একটু অস্বস্তিকর পরিস্থিতি হয়েছিল, তা কাটাতে সাগর থেকে পাহাড় এতবড় নিবিড় জনসংযোগ কর্মসূচি গোটা দলকে ঝাঁকুনি দিয়ে মেদ ঝরিয়ে পথে নামাচ্ছে।

7) যে সব মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক এমনকি পুরপিতাও এলাকাভিত্তিক জনসংযোগ থেকে সরে গিয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবনে ঢুকছিলেন, তাদের আবার সুনিয়ন্ত্রিতভাবে পাড়ায় পাড়ায় পাঠানো যাচ্ছে।

8) এই কর্মসূচির হোম ওয়ার্কটি আসলে আরও জরুরি ও কার্যকর। নেতারা কোন এলাকায় কার বাড়ি যাবেন, তাও বলে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ আগে একটি সমীক্ষা হয়ে গেছে। তাতে এলাকাভিত্তিক ফাঁক ধরা পড়ছে।

9) দরকারে অন্য মতামতের নাগরিকের বাড়িও যেতে হচ্ছে। এই পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি ও ফলদায়ক।

10) বিধায়করা এই কাজগুলি করছেন কি না নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে জানাতে হচ্ছে। এই ফলো আপ যেকোনো কাজে জরুরি।

11) ফলে একদিকে দলের মরচে ধরা অংশে পালিশ হচ্ছে, আবার সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছন যাচ্ছে। যে অংশের মানুষের একটু অভিমান হয়েছিল, তাঁরা অনুভব করছেন তৃণমূল আবার ভুলত্রুটি শুধরে তাঁর কাছে আসছে। অভাব অভিযোগ শুনে সমাধানের চেষ্টা করছে।

12) প্রচারমাধ্যমেও নেতাদের এই কর্মসূচি পালনের খবর ও ছবি বাড়ছে। এটাও ইতিবাচক ভাবমূর্তির পক্ষে জরুরি।

পর্দার আড়াল থেকে নিজে এই গোটা কর্মযজ্ঞ তত্ত্বাবধান করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের কোনো প্রচার, সাক্ষাৎকারে তিনি নেই। অথচ রাজ্যব্যাপী দলকে রাস্তায় নামিয়ে এক বাস্তবমুখী সময়োপযোগী কর্মসূচিতে বহুমুখী লাভ পাইয়ে দিচ্ছেন তিনি।
তৃণমূলের আসল সম্পদ হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি মানুষের আবেগ। এবার তার সঙ্গে দলীয় কর্তব্যের অঙ্ককে আধুনিক পদ্ধতিতে মিশিয়ে প্রয়োগ করছেন যুবনেতা।
ফলে মানুষ সারাদিনে কোথাও না কোথাও দেখতে পাচ্ছেন “দিদিকে বলো।”